যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে
প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রথম মুখোমুখি বিতর্কে
ডেমোক্রেটিক পার্টির হিলারি ক্লিনটন জয়ী হয়েছেন। সিএনএন/ওআরসি’র এক জরিপে
এমনটাই বলা হয়েছে। সোমবার রাতের এ বিতর্কে হিলারির একাগ্রতা, জ্ঞানগর্ভ
উপস্থাপন ও কথার যৌক্তিকতায় তার কাছে হেরেছেন রিপাবলিকান দলের প্রার্থী
ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ বিতর্কে বরাবরই ভালো
হিলারি। ২০০৮ সালে বারাক ওবামার কাছে বিতর্কে হেরেছিলেন হিলারি, তবে সে
সময়ের উল্লেখযোগ্য মুহূর্তগুলো মনে রেখেছেন মার্কিনিরা। ট্রাম্পকে ধরাশয়ীর
পাঁচ কারণ চিহ্নিত করেছে ভক্স নিউজ। নাগরিকদের পছন্দের ছকে ‘বিতর্ক’:
মার্কিন নির্বাচনে দুই প্রার্থীর বিতর্কে কে জিতবে আর কে হারবে তা নির্ধারণ
করা হয় নাগরিকদের পছন্দের ভিত্তিতে। সিএনএনের জরিপে দেখা গেছে, ২৭ শতাংশ
মার্কিনিরা ট্রাম্পকে ও ৬২ শতাংশ সমর্থন দেন হিলারিকে। এ কারণে বিতর্ক
পুরোপুরি হিলারির অনুকূলেই ছিল। টিভিতে বিতর্ক সঞ্চালকের সামনে দুই
প্রার্থী আর তাদের উপভোগ করছে কোটি কোটি দর্শক। দু’জনের যে কোনো একজনকেই
পছন্দ করতে হবে ভোটারদের। বরাবরই জরিপে জয়ী হওয়ায় বিতর্কও হিলারির অনুকূলে
গেছে। অভিজ্ঞ ও কৌশলী হিলারি : মার্কিন রাজনীতিতে পরিপক্ব ও অভিজ্ঞ
ব্যক্তিত্ব হিলারি।
অন্যদিকে, বিনিয়োগ বাজার থেকে উঠে আসা ট্রাম্প
রাজনীতিতে আনাড়ি। আইনি সেবা ছাড়াও রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন
হিলারি। প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর লড়াই থেকে শুরু করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী,
হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। এসব রাজনৈতিক
অভিজ্ঞতা তাকে সবসময় সাহায্য না করলেও বিতর্কের ক্ষেত্রে এটি সহায়ক।
রাজনৈতিক ইস্যুতে কীভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে হয় তা পুরোপুরি রপ্ত করে
মাঠে নামেন হিলারি। অনুশীলন করেই খেলতে নামেন হিলারি : অলসতার কারণে
গতানুগতিক বিতর্কের পথ ছেড়ে ভুল করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু পুরোপুরি প্রস্তুতি
নিয়েই মাঠে নামেন হিলারি। ফলাফল যা হওয়ার তাই হল। প্রেসিডেন্ট বিতর্ক হল
দুই প্রার্থীর মুখোমুখি প্রশ্নোত্তর পর্ব। সঞ্চালকের প্রশ্নের জবাব দেয়া
এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রতিপক্ষের কথার আঘাতকে প্রতিহত করা- এ দুই দিকই সমান
তালে নজরে রাখাটাই আসল বিতার্কিকের বৈশিষ্ট্য। বিতর্কের অধিকাংশ সময়
ট্রাম্প নিজেকে আÍরক্ষায় ব্যয় করেন। কিন্তু হিলারি উভয় দিকে নজর রেখে
ভারসাম্যপূর্ণ বিতর্ক করেছেন। দর্শকদের মৌন সমর্থন : মার্কিন নাগরিকদের
জন্য হিলারির উত্থাপিত বিভিন্ন নীতিকে দর্শকরা সমর্থন দিয়েছেন। তার প্রকাশ
ঘটেছে জনমত জরিপে। সরাসরি সম্প্রচারিত এ বিতর্কে যখনই হিলারি কথা বলতে শুরু
করেছেন তখনই বেশির ভাগ নাগরিকই উচ্ছ্বসিত হয়েছেন। হিলারির সমৃদ্ধ বক্তব্য :
ভালো লেখার জন্য যেমন স্পষ্ট, সাবলীল ভাষার প্রয়োজন তেমনি বাকপটুতার জন্যও
স্পষ্ট ও একই কথার পুনরাবৃত্তি না হওয়াটা প্রয়োজন। হিলারি এসব ক্ষুদ্র
ক্ষুদ্র বিষয়ের প্রতি নজর রেখেছেন। এজন্য কোনো বিতর্কিত বিষয় উঠলে তা মেনে
নেয়াই শ্রেয়।

No comments:
Post a Comment