দিলমা
রৌসেফকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হলো।
দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ৭৫ বছর বয়স্ক মিচেল তেমার। তিনি ২০১৯ সালের ১
জানুয়ারি পর্যন্ত তার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট থাকার কথা। রৌসেফের ভাইস
প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। এখন তিনি পূর্ণ প্রেসিডেন্ট। দীর্ঘ দিন যে পদটির
জন্য মুখিয়ে ছিলেন, রৌসেফকে ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে তিনি সেটা মুঠোয় পুরেছেন।
ব্রাজিলের এ পালাবদল শুধু দক্ষিণ আমেরিকার জন্যই নয়, বিশ্বের জন্যও বড় ধরনের একটি ঘটনা। বামপন্থী ওয়ার্কার্স পার্টি ১৩ বছর ধরে ল্যাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশটির ক্ষমতায় ছিল। এখন মধ্য ডানপন্থী দল ব্রাজিলিয়ান ডেমোক্র্যাটি পার্টি ক্ষমতায় এলো। বাম থেকে ডানে সরে আসাটা নিশ্চিতভাবেই বড় ধরনের পরিবর্তন। আশপাশের দেশে নিশ্চিতভাবেই সে প্রভাব পড়বে। আর ছোট হয়ে আসা বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও এই পরিবর্তন ছুঁয়ে যাবেই। অনেকেই এটাকে পাশ্চাত্যে মদদপুষ্ট ‘অভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ব্রাজিলের মানুষও এটাকে সহজভাবে মেনে নেবে না। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ বেশ ক্ষুব্ধ। তারা মনে করছে, লোভাতুর একদল মানুষ তাদের ওপর চেপে বসেছে। তারা তাদের এই অনুভূতি গোপনও করছে না। এমনকি রিও অলিম্পিক গেমস উদ্বোধনের সময়ও তাকে দর্শকদের কাছ থেকে দুয়ো ধ্বনি শুনতে হয়েছে। অর্থাৎ তার কঠিন সময় শুরু হলো মাত্র। তেমারের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো, জনগণ তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ভোট দিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট পদে নয়। তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। অনেকেই তাকে পাশ্চাত্যের দোসর হিসেবে বিবেচনা করে। কেউ কেউ তো এমনও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য বিশ্ব দু’টি দেশের ব্যাপারে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। একটি হলো তুরস্ক, অপরটি ব্রাজিল। এ দুই দেশই গণমুখী পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করছিল। তাদের নীতির কারণে গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী সবচেয়ে উপকৃত হয়ে আসছিল।
ব্রাজিলের এ পালাবদল শুধু দক্ষিণ আমেরিকার জন্যই নয়, বিশ্বের জন্যও বড় ধরনের একটি ঘটনা। বামপন্থী ওয়ার্কার্স পার্টি ১৩ বছর ধরে ল্যাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশটির ক্ষমতায় ছিল। এখন মধ্য ডানপন্থী দল ব্রাজিলিয়ান ডেমোক্র্যাটি পার্টি ক্ষমতায় এলো। বাম থেকে ডানে সরে আসাটা নিশ্চিতভাবেই বড় ধরনের পরিবর্তন। আশপাশের দেশে নিশ্চিতভাবেই সে প্রভাব পড়বে। আর ছোট হয়ে আসা বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও এই পরিবর্তন ছুঁয়ে যাবেই। অনেকেই এটাকে পাশ্চাত্যে মদদপুষ্ট ‘অভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ব্রাজিলের মানুষও এটাকে সহজভাবে মেনে নেবে না। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ বেশ ক্ষুব্ধ। তারা মনে করছে, লোভাতুর একদল মানুষ তাদের ওপর চেপে বসেছে। তারা তাদের এই অনুভূতি গোপনও করছে না। এমনকি রিও অলিম্পিক গেমস উদ্বোধনের সময়ও তাকে দর্শকদের কাছ থেকে দুয়ো ধ্বনি শুনতে হয়েছে। অর্থাৎ তার কঠিন সময় শুরু হলো মাত্র। তেমারের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো, জনগণ তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ভোট দিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট পদে নয়। তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। অনেকেই তাকে পাশ্চাত্যের দোসর হিসেবে বিবেচনা করে। কেউ কেউ তো এমনও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য বিশ্ব দু’টি দেশের ব্যাপারে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। একটি হলো তুরস্ক, অপরটি ব্রাজিল। এ দুই দেশই গণমুখী পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করছিল। তাদের নীতির কারণে গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী সবচেয়ে উপকৃত হয়ে আসছিল।
তা ছাড়া তারা পাশ্চাত্যের
মাতবরিও মুখ বুঝে সহ্য করছিলেন না। বিশ্ব কাঠামোতেও পরিবর্তন আনতে চাইছিলেন
তারা। রুসেফের পূর্বসূরি লুলা ডি সিলভার সাথে রজব তাইয়েব এরদোগানের ভালো
সমঝোতা ছিল। এ জন্যই তাদের সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়। অন্য সব পন্থা
ব্যর্থ হওয়ার পর তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। সেটা সফল
হয়নি। তবে ব্রাজিলে তারা সফল হয়েছে রৌসেফকে সরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে। বলা
হচ্ছে, তেমার হলেন পাশ্চাত্যের হাতের পুতুল। এ পরিবর্তনের মাধ্যমে ল্যাতিন
আমেরিকায় পাশ্চাত্যের অবস্থান জোরদার হলো। আরো নানা ধরনের জটিলতাতে পড়তে
হবে তেমারকে। বিষয়টা বেশ জোরালোভাবেই বলেছেন সিনেটর রবার্তো রেকুইলাও।
কিছু দিন আগেও তিনি ছিলেন তেমারের দলে। ইমপিচমেন্ট ভোটের সময় তিনি রুসেফের
সাথে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তেমার, আপনি তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়–ন। সঙ্ঘাত
অনিবার্য।’ তিনি বলেছেন, যেভাবে রৌসেফকে বিদায় করা হয়েছে, তাতে ব্রাজিল
সমাজে তীব্র বিভক্তির যুগের সূচনা করল। তেমারের সামনে সবচেয়ে বড়
চ্যালেঞ্জটি রয়েছে, তা হলোÑ অর্থনীতি। ব্রাজিলের জিডিপি কমে যাচ্ছে,
শ্রমিকেরা ক্ষোভ প্রদর্শন করছে। বেকারত্ব লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ২০১৪ সালের
শেষ ভাগে বেকারত্ব যেখানে ছিল ৬.৫, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১.৬। গত বছরই ১৭
লাখ ব্রাজিলিয়ান তাদের চাকরি হারিয়েছে। তাদের চাকরি হারানো কিংবা
অর্থনৈতিক মন্দার জন্য দায়ী করা হচ্ছে তেমারকে।
তিনি পেছনের দরজা দিয়ে
ক্ষমতায় যাওয়ার কলকাঠি নাড়ানোর পর থেকেই দেশটির অর্থনীতির চাকা থমকে যায়।
এর সবচেয়ে বেশি শিকার হয় সাধারণ মানুষ। তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে আরো বেশি শঙ্কিত
হয়ে পড়েছে। জাডসন আলবিনো কসওসক (২৫) বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্রের প্রতি তার
(তেমার) আক্রমণ আমাদের দেশকে আরেক দফা ডুবিয়েছে।’ এই বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র
জানান, তেমার তার নিজের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য রৌসেফকে বিদায় করেছেন। অন্য
দিকে ক্ষমতা গ্রহণের পর তেমার ব্রাজিলবাসীর মধ্যে আস্থা নতুন করে সৃষ্টির
ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ক্রোধ ও অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে তেমার বলেছেন,
তিনি রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিবর্তন এগিয়ে নেবেন। সরকারি
প্রতিষ্ঠানের বেসরকারীকরণ অব্যাহত রাখবেন, সরকারি ব্যয় কমাবেন ও
পেনশনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনবেন। সেটা সত্যিকারভাবে কতটুকু পারবেন সেটা
দেখার বিষয়। তেমার গত মে মাসে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব
গ্রহণ করেছিলেন। তখন ইমপিচমেন্টের মুখে থাকা রৌসেফকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
তখন থেকেই তিনি নানা জটিলতার মুখে রয়েছেন। বরং আগের চেয়ে এখন আরো বড়
সমস্যায় পড়েছেন। তেমার এবং তার ব্রাজিলিয়ান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সাধারণ
মানুষের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় নয়। তিনি ক্ষমতায় এসেছেন বাঁকা পথে। এটাকে বলা
যায় পার্লামেন্টারি ক্যু।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও কেলেঙ্কারি
রয়েছে। এমনকি নির্বাচনকালে আর্থিক অনিয়মের মামলা চলছে তার বিরুদ্ধে। ওই
মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে। তেমারের সবচেয়ে
বড় শক্তি হলো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ীরা। এসব রাজনীতিবিদ ও
ব্যবসায়ীর লক্ষ্য সরকারি জ্বালানি কোম্পানি। আর্থিক অনিয়মের অনেক অভিযোগ
রয়েছে তেমারের বিরুদ্ধে। এর মধ্যেই এক নির্মাণ নির্বাহী আদালতে সাক্ষী
দিয়েছেন, ব্রাজিলের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রাধীন পরমাণু জ্বালানি উৎপাদনকারী
ইলেকট্রোনিউক্লিয়ার নির্মাণের কাজ থেকে তিন লাখ ডলার ঘুষ পেয়েছেন তেমার।
এটা প্রমাণ হয়ে গেলে তার পক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকাটা সম্ভব হবে না। তবে শুধু
তেমার নয়, ব্রাজিলের পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপরই ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে
আসতে পারে। তেমারের বৈধতা এবং দুর্নীতির তদন্তের ফলে দেশটির রাজনৈতিক
শ্রেণীর দিকে ধেয়ে আসছে প্রবল ঝড়। তেমারের বিরুদ্ধে চলা দুর্নীতির তদন্ত
বানচাল করার চেষ্টা হচ্ছে, এমন জোরালো অভিযোগের পর তেমারের মন্ত্রিসভার বেশ
কয়েকজন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এতে করেও নতুন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক
অর্থমন্ত্রী ও কূটনীতিবিদ রুবেন্স রিকুপেরো বলেছেন, এ প্রশাসনের সবচেয়ে বড়
সমস্যা হলো ভয়াবহ ধরনের অনিশ্চয়তা। তদন্ত কোন দিকে যাচ্ছে, তা কেউ জানে না।
আর দুর্নীতির অভিযোগ শুধু তেমারের বিরুদ্ধে নয়, তার আশপাশে যারা ভিড় করে
আছেন তাদের বিরুদ্ধেও। তাদের কেউ স্বচ্ছ নন বলে অনেকের ধারণা। ফলে তাদের
অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যেই পদ হারাতে পারেন। ইমপিচমেন্টে ক্ষমতা হারানোর পর
প্রথম টেলিভিশন ভাষণে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রৌসেফ বলেছেন, তেমার বেকারত্ব
সমস্যাটি প্রকাশ করার মাধ্যমে দৃশ্যত স্বীকার করে নিয়েছেন, কঠিন সময় আসছে।
তিনি বলেন, আমাদের সামনে এখন দুই বছর চার মাস সময়। তিনি দৃশ্যত বর্তমান
প্রেসিডেন্টের মেয়াদের কথাই উল্লেখ করেছেন। দিলমা তার ইমপিচমেন্টকে বলেছেন,
‘রাজনৈতিক মৃত্যুদণ্ড।’ তবে তত কঠোর না-ও হতে পারে বিষয়টি। তাকে
ইমপিচমেন্ট সত্ত্বেও সিনেট কিন্তু সরকারি পদ গ্রহণ থেকে রৌসেফকে নিষিদ্ধ
করেনি। ফলে তিনি কোনো-না-কোনোভাবে যেকোনো সময় রাষ্ট্রীয় কোনো দায়িত্বে
ফিরতে পারেন। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দেশটির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
লুলা ডি সিলভা তাতে লড়তে পারেন। আর তাতে তার জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই
বিশ্লেষকেরা বলছেন। তবে তেমরা এবং গংরা এর আগেই কোনো দুর্নীতির মামলায় তাকে
নিষিদ্ধ করতে পারে। যা-ই হোক না কেন, ব্রাজিল আগামী দিনে বেশ কঠিন অবস্থায়
পড়তে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত।

No comments:
Post a Comment