মধ্য
এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তান। ১৯৯১ সালের ৩১ আগস্ট দেশটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন
থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ১ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ সাল থেকে গত ২ সেপ্টেম্বর
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইসলাম
করিমভ। এই ২৫ বছরে তিনবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে উজবেকিস্তানে। তবে
প্রত্যেকটি নির্বাচনই ছিল একতরফা ও প্রশ্নবিদ্ধ। প্রেসিডেন্ট করিমভ ক্ষমতায়
থাকাকালে তার কোনো উত্তরসূরি নির্ধারণ করে যাননি। ওই মুহূর্তে কে দেশটির
হাল ধরবে বা কে আসছেন তা নিয়ে দেখা দিয়েছে একধরনের অনিশ্চয়তা। এ বিষয়ে
আলজাজিরা অবলম্বনে লিখেছেন মীম ওয়ালীউল্লাহ
এক প্রজন্মকালব্যাপী উজবেকিস্তানের শাসক ছিলেন প্রেসিডেন্ট ইসলাম করিমভ। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের আমলে ১৯৪৯ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টি অব উজবেকিস্তানের ফার্স্ট সেক্রেটারি ছিলেন তিনি। তবে ১৯৬৪ সাল থেকেই এ দলের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন। পরে প্রেসিডেন্ট করিমভ ১৯৯১-২০০৭ পর্যন্ত পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এবং ২০০৭Ñ মৃত্যুর দিন পর্যন্ত লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্ব দেন। উজবেকিস্তানের ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা জন্মগ্রহণের পর থেকেই ইসলাম করিমভকে প্রেসিডেন্ট দেখে আসছেন। এমন এক ২৭ বছরের তরুণ আবদুস সামাদ বলছেন, স্বাধীন হওয়ার আগে করিমভকে কমিউনিস্ট নেতা এবং স্বাধীনতার দুই যুগেরও বেশি সময় পর তাকেই নেতা হিসেবে দেখতে হলো। ৭৪ বছর বয়সী এই একনায়ক ১৯৯৫ সালে গণভোটের মাধ্যমে তার শাসনের মেয়াদ বাড়িয়ে নেন। ২০০২ এবং ২০১৫ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে কোনো নির্বাচনই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর কাছে নিরপেক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়নি। তাই উত্তর কোরিয়া এবং জিম্বাবুয়ের মতো উজবেকিস্তানকেই বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত সমাজ বলে মনে করা হয়। আবদুস সামাদ বলেন, প্রেসিডেন্ট করিমভ এমন স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যাকে ঘিরেই উজবেকবাসীকে আবর্তিত হতে হয়। তাকে পছন্দ করেন অথবা ঘৃণা করেন, তিনিই সবখানে রয়েছেন। কেউ তার বিরোধিতার চিন্তা করলে তাকে সর্বস্বান্ত করে দেয়া হতো। তবে গত ২ সেপ্টেম্বর করিমভ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। তার মেয়ে ললা জানিয়েছেন, তার বাবা ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। ২৫ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাঝে দেশবাসী প্রেসিডেন্ট করিমভকে দেখেননি। এর আগের অনুষ্ঠানগুলোতে তাকে পারফরমারদের সাথে উৎফুল্ল চিত্তে নাচতে দেখা যেত।
এক প্রজন্মকালব্যাপী উজবেকিস্তানের শাসক ছিলেন প্রেসিডেন্ট ইসলাম করিমভ। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের আমলে ১৯৪৯ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টি অব উজবেকিস্তানের ফার্স্ট সেক্রেটারি ছিলেন তিনি। তবে ১৯৬৪ সাল থেকেই এ দলের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন। পরে প্রেসিডেন্ট করিমভ ১৯৯১-২০০৭ পর্যন্ত পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এবং ২০০৭Ñ মৃত্যুর দিন পর্যন্ত লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্ব দেন। উজবেকিস্তানের ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা জন্মগ্রহণের পর থেকেই ইসলাম করিমভকে প্রেসিডেন্ট দেখে আসছেন। এমন এক ২৭ বছরের তরুণ আবদুস সামাদ বলছেন, স্বাধীন হওয়ার আগে করিমভকে কমিউনিস্ট নেতা এবং স্বাধীনতার দুই যুগেরও বেশি সময় পর তাকেই নেতা হিসেবে দেখতে হলো। ৭৪ বছর বয়সী এই একনায়ক ১৯৯৫ সালে গণভোটের মাধ্যমে তার শাসনের মেয়াদ বাড়িয়ে নেন। ২০০২ এবং ২০১৫ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে কোনো নির্বাচনই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর কাছে নিরপেক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়নি। তাই উত্তর কোরিয়া এবং জিম্বাবুয়ের মতো উজবেকিস্তানকেই বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত সমাজ বলে মনে করা হয়। আবদুস সামাদ বলেন, প্রেসিডেন্ট করিমভ এমন স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যাকে ঘিরেই উজবেকবাসীকে আবর্তিত হতে হয়। তাকে পছন্দ করেন অথবা ঘৃণা করেন, তিনিই সবখানে রয়েছেন। কেউ তার বিরোধিতার চিন্তা করলে তাকে সর্বস্বান্ত করে দেয়া হতো। তবে গত ২ সেপ্টেম্বর করিমভ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। তার মেয়ে ললা জানিয়েছেন, তার বাবা ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। ২৫ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাঝে দেশবাসী প্রেসিডেন্ট করিমভকে দেখেননি। এর আগের অনুষ্ঠানগুলোতে তাকে পারফরমারদের সাথে উৎফুল্ল চিত্তে নাচতে দেখা যেত।
তার মৃত্যুর খবর ঘোষণার পর থেকে পাশের দেশগুলো সংলগ্ন সীমান্ত বন্ধ করে
দেয়া হয়েছে। দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভ্রান্তিমূলক গুজব
রটানো হচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাবে আমদানি-রফতানিকারী ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত
হচ্ছেন। রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ীরা গণমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, রাতারাতি দরপতন
হচ্ছে। দেশটির একটি অনলাইন পোর্টাল ফেরগানান নিউজ অভিযোগ করেছে,
প্রেসিডেন্ট করিমভ আসলে ২৮ আগস্ট মারা গেছেন। কিন্তু মৃত্যুর খবর ২
সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট করিমভের জন্মস্থান সমরখন্দের
শাহি জিন্দা চত্বরে তাকে দাফন করা হয়েছে। জায়গাটি ইউনেস্কো ঘোষিত ঐতিহাসিক
দর্শনীয় স্থান। কেরাগনান নিউজের চিফ এডিটর বলেন, প্রেসিডেন্ট করিমভ ছিলেন
একচ্ছত্র নীতি নির্ধারক। তিনি একটি রাবারস্ট্যাম্প পার্লামেন্ট গঠন
করেছিলেন। তার কথামতোই দেশের আইন পরিচালিত হতো। এ অবস্থায় নেতা নির্বাচনের
ক্ষেত্রে দেশটি অনিশ্চয়তায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট করিমভের ৪৪ বছর বয়সী মেয়ে
গুলনারাকে তার উত্তরাধিকার মনে করা হতো। তিনি দেশটির অন্যতম একজন ব্যবসায়ী।
কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে তাকে আটক রাখা হয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ পদস্থ
কর্মকর্তাদের দুর্নীতির প্রমাণ টুইটারে প্রকাশ করার দায়ে তাকে গ্রেফতার করা
হয়। গত ১ সেপ্টেম্বর স্বাধীনতা দিবসের সাদামাটা অনুষ্ঠানে স্মৃতিস্তম্ভে
পু®পস্তবক অর্পণ করেন ২০০৩ সালের প্রধানমন্ত্রী শাভকাত মিরজিয়োভ। অনেকেই
মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট করিমভের শূন্য স্থান তিনি পূরণ করতে যাচ্ছেন। ৫৯
বছর মিরজিয়োভ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের আস্থাভাজন হিসেবে
পরিচিত।
এ দিকে তার প্রতিপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী রুস্তম আজিমভ।
পশ্চিমা নেতাদের সাথে তার সখ্য রয়েছে বলে মনে করা হয়। উজবেকস্তানের লাখ লাখ
মানুষ রাশিয়া ও কাজাখস্তানে কাজ করেন। তারা তাদের পরিবারের জন্য দেশে
রেমিট্যান্স পাঠান। কিন্তু তারা দেশে দৃশ্যমান কোনো উন্নতি লক্ষ করছেন না।
৩৪ বছরের নির্মাণশ্রমিক তালকিন বলেন, তাকে পুলিশ অমানবিকভাবে নির্যাতন
করেছে। তিনি রাশিয়ায় কাজ করেন। দেশে তিনি আশার কিছু দেখতে পাচ্ছেন না।
দেশটির সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট মারা গেলে পরবর্তী নির্বাচনের আগ
পর্যন্ত সিনেটের প্রধান সাময়িকভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। সে
অনুযায়ী দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চপক্ষের প্রধান নিগমাতিল্লাহ ইয়োলদোশেভকে
ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা হয়েছে। তাকেই পরবর্তী স্থায়ী প্রেসিডেন্ট
বিবেচনা করছেন অনেকেই। তবে এখনো তাকে প্রধান কোনো ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি।
আবার অনেকে প্রেসিডেন্ট করিমভের পর এ মুহূর্তে দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা
সংস্থা প্রধান রুস্তোম ইনইয়াতভকে ক্ষমতাবান মনে করছেন। ২০০৮ সালে একটি
কূটনৈতিক তথ্য ফাঁস হয়েছিল। সেখানে রুস্তোমকে প্রেসিডেন্ট কারিমভের প্রধান
রক্ষক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কয়েক দিনেই প্রেসিডেন্ট করিমভের উত্তরাধিকার
নির্ধারণ নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

No comments:
Post a Comment