![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প |
অভিবাসন নিয়ে আবারও নিজের কঠোর অবস্থান
জানান দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান
পার্টি মনোনীত এই প্রার্থী অভিবাসীদের ‘গুপ্ত শত্রু’ আখ্যা দিয়েছেন। আর
তাঁর ছেলে সিরীয় শরণার্থীদের তুলনা করেছেন প্রাণঘাতী ক্যান্ডির সঙ্গে।
ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমের শুরু থেকে অবৈধ অভিবাসীদের
বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি গত মঙ্গলবার এমন অভিবাসীদের বিপজ্জনক
গুপ্ত শত্রুর (‘ট্রোজান হর্স’) সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘ওরা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি করার উদ্দেশ্য নিয়ে মার্কিন ভূখণ্ডে প্রবেশ করে।’
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে ব্যাপকভাবে
সমালোচিত হয়েছিলেন ট্রাম্প। এরপর থেকে তিনি মুসলিমবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার
ব্যাপারে সংযত হন। তবে সিরিয়ার মতো কয়েকটি দেশের শরণার্থী ও অভিবাসীদের
বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রবেশ ঠেকানোর আহ্বান
জানান। নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের হাই পয়েন্ট ইউনিভার্সিটিতে মঙ্গলবার
ট্রাম্প বলেন, ইউরোপে সাধারণ শরণার্থীর ছদ্মবেশে ইসলামিক স্টেটের (আইএস)
জঙ্গিরা ঢুকে পড়েছে। মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তারা নতুন লোকজনের প্রবেশের
সময় ঠিকমতো তল্লাশি ও যাচাই-বাছাই করছেন না।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত
করতে চাই, এ দেশকে যারা ভালোবাসে—কেবল তারাই প্রবেশের সুযোগ পাবে। এটা
স্পষ্ট যে, বর্তমান অভিবাসনব্যবস্থায় এ দেশে প্রবেশকারী লোকজনের
দৃষ্টিভঙ্গি নির্ণয়ের কোনো বাস্তবসম্মত চেষ্টাই নেই।’ ডেমোক্রেটিক
পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ‘উন্মুক্ত সীমান্ত’ চালু করার পক্ষপাতী
বলে অভিযোগ করে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, হিলারিই আইএসের উত্থানের জন্য
দায়ী। তাঁর ‘বাজে বিবেচনাবোধ’ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুলের কারণেই আইএস
নামের বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর অনেক জনসভায় ১৯৬০-এর দশকের একটি
গানের কথা প্রায়ই বলে থাকেন। ‘দ্য স্নেক’ নামের ওই গানের কথাটা এ রকম: একজন
নারী একটি আহত সাপের সেবা-যত্ন করে তাকে সারিয়ে তোলেন। পরে তাঁকেই দংশন
করে সেই সাপ। ‘ট্রোজান হর্সের’ দৃশ্যকল্প দিয়ে তিনি সে রকমই গুপ্ত বিপদের
দিকে ইঙ্গিত করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এই অনিষ্ট চলতে দিতে পারি না।
কট্টরপন্থী ইসলামের আদর্শকেও আমরা প্রশ্রয় দিতে পারি না। কারণ, এরা নারী,
সমকামী, শিশু এবং অবিশ্বাসীদের নিপীড়ন করে।’
তবে অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্প
প্রায়ই সোচ্চার হলেও নতুন এক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, এবারের মার্কিন
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটারদের নজর থাকা মূল বিষয়গুলোর মধ্যে অভিবাসন
সমস্যাটি নেই। সিবিএস বা নিউইয়র্ক টাইমস-এর ওই জনমত জরিপে দেখা যায়,
গুরুত্ব বিবেচনায় অভিবাসন বিষয়টির স্থান ভোটারদের কাছে চতুর্থ। তবে জাতীয়
নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের বিষয়টি তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে
রয়েছে। এ কারণেই ট্রাম্প এ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন বেশি। প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনের ৫০ দিনেরও কম সময় বাকি আছে। ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প
জুনিয়রও নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। তিনি সিরীয় শরণার্থীদের
নিয়ে একটি টুইটারবার্তা প্রকাশ করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ট্রাম্প জুনিয়র
ওই শরণার্থীদের জনপ্রিয় রংচঙে স্কিটলস ক্যান্ডির সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন,
ধরুন এর মধ্যে তিনটি খেলেই আপনি মারা যা বেন। তাহলে কি আপনি এক মুঠো
নেবেন? আমাদের সিরীয় শরণার্থী সমস্যাও সে রকম বিষয়।’ বার্তার সঙ্গে তিনি ওই
ক্যান্ডিভরা একটি বাটির ছবিও দিয়েছেন। ট্রাম্পের ছেলে বলেন, ‘তাই
অভিবাসীদের স্বাগত জানানোটা বিপজ্জনক। কারণ, তাদের একটি ছোট অংশও পরে
হামলা চালাতে পারে।’

No comments:
Post a Comment