প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে
ইউনেসকোর কাছ থেকে তৃতীয়বারের মতো আসা চিঠিকে একটা গুরুতর সতর্কবার্তা
হিসেবে দেখাই সমীচীন হবে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সামাজিক
বিরোধিতাকে কিছুদিন আগে সরকার বিদেশি ষড়যন্ত্রের অপবাদ দিয়েছিল, সেই যুক্তি
আর ধোপে টেকে না। সরকারের নীতিনির্ধারকদের এখন ঠান্ডা মাথায় ভাবতে হবে
যে, যদি কোনো কারণে ইউনেসকো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’
স্থান হিসেবে ঘোষণা দেয়, তাহলে তার সম্ভাব্য ক্ষতি ও ঝুঁকি কী কী ক্ষেত্রে
বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তার জের কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে। এটা সবারই জানা
যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব যেসব দেশের ওপর
পড়বে বলে আশঙ্কা করা হয়, বাংলাদেশ তার অন্যতম। এর মধ্যে হাজার হাজার
মানুষের উদ্বাস্তু হওয়ার ভীতিও আছে। আর সে কারণেই বিশ্বব্যাপী
পরিবেশবাদীদের কাছে পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের সংবেদনশীল
ও অধিকতর দায়িত্বশীল ভাবমূর্তি ধরে রাখা প্রত্যাশিত।
সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ঐতিহ্য রক্ষায় সরকার এর আগে যত পদক্ষেপই নিয়ে থাকুক না কেন, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সেই ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। আমরা আশা করব, আগামী মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে শুরু হতে যাওয়া ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির বৈঠকে রামপালের কারণে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ স্থান হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার যে আভাস মিলেছে, সরকার তাকে হালকাভাবে নেবে না। সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্য বলেই বিশেষ তহবিলসহ আনুষঙ্গিক অনেক সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এটা হারানো হবে বড় লোকসান, যাকে কেবল আর্থিক মূল্যে বিচার করলে চলবে না। সরকারের অনুরোধেই ইউনেসকোর প্রতিনিধিদল গত মার্চে সরেজমিনে রামপাল পরিদর্শন করেছে। এখন একজন প্রতিমন্ত্রী বলছেন, ‘আন্দোলনকারী সংগঠন ও ইউনেসকোর যুক্তি প্রায় অভিন্ন!’ কিন্তু এর ফলে কী করে সরকারের রামপালবান্ধব অবস্থান শক্তিশালী হলো, তা বোধগম্য নয়। বরং এটা তো সরকারের নীতিনির্ধারকেরা যে যুক্তিজাল বিস্তার করে এত দিন রামপাল প্রকল্প বাস্তবায়নের সপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেখানে পরিবর্তন আনাকেই নির্দেশ করছে। ইউনেসকো কী কারণে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (এআইএ) সঠিকভাবে হয়নি বলছে, আর সরকার কেন ও কী করে তা খণ্ডন করছে, সেটা দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করতে হবে।
সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ঐতিহ্য রক্ষায় সরকার এর আগে যত পদক্ষেপই নিয়ে থাকুক না কেন, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সেই ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। আমরা আশা করব, আগামী মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে শুরু হতে যাওয়া ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির বৈঠকে রামপালের কারণে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ স্থান হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার যে আভাস মিলেছে, সরকার তাকে হালকাভাবে নেবে না। সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্য বলেই বিশেষ তহবিলসহ আনুষঙ্গিক অনেক সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এটা হারানো হবে বড় লোকসান, যাকে কেবল আর্থিক মূল্যে বিচার করলে চলবে না। সরকারের অনুরোধেই ইউনেসকোর প্রতিনিধিদল গত মার্চে সরেজমিনে রামপাল পরিদর্শন করেছে। এখন একজন প্রতিমন্ত্রী বলছেন, ‘আন্দোলনকারী সংগঠন ও ইউনেসকোর যুক্তি প্রায় অভিন্ন!’ কিন্তু এর ফলে কী করে সরকারের রামপালবান্ধব অবস্থান শক্তিশালী হলো, তা বোধগম্য নয়। বরং এটা তো সরকারের নীতিনির্ধারকেরা যে যুক্তিজাল বিস্তার করে এত দিন রামপাল প্রকল্প বাস্তবায়নের সপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেখানে পরিবর্তন আনাকেই নির্দেশ করছে। ইউনেসকো কী কারণে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (এআইএ) সঠিকভাবে হয়নি বলছে, আর সরকার কেন ও কী করে তা খণ্ডন করছে, সেটা দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করতে হবে।
No comments:
Post a Comment