Wednesday, September 21, 2016

বন্দর কর্মকর্তাদের ভ্রমণবিলাস

চট্টগ্রাম বন্দরের সাহায্যকারী নৌযান ‘এমটি কান্ডারি-১০’-এর মূল ইঞ্জিনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও মূল ইঞ্জিন ওভারহলিং করার জন্য যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, তার পূর্বশর্ত হলো চারজন কর্মকর্তাকে এক সপ্তাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে সফরের সুযোগ দেওয়া। চার কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা-নেওয়ার জন্য খরচ হবে অন্তত ২০ লাখ টাকা। কেবল তাঁদের বিমানভাড়া নয়, থাকা-খাওয়াসহ আনুষঙ্গিক সব খরচ দিতে হবে নির্বাচিত দরদাতাকে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই খরচ দরদাতা নিজের পকেট থেকে দেবেন না, ওই চার কর্মকর্তার ভ্রমণখরচ দরদাতা তুলে নেবেন বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই। যন্ত্রাংশের সম্ভাব্য মূল্য ৮৪ লাখ ও ওভারহলিং কাজের খরচ ৫ লাখ টাকা হলেও যন্ত্রাংশ আনার খরচ ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জনগণের করের এই অপচয় কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। যন্ত্রপাতি বা জাহাজ কেনাকাটার নামে চট্টগ্রাম বন্দর কর্মকর্তাদের ভ্রমণবিলাস নতুন নয়।
এর আগে তিনটি পুরোনো জাহাজ খুঁজতে দুই দফায় ১৯ দিন বিদেশ সফর করেছেন বন্দরের চার কর্মকর্তা। বন্দরের হিসাবে দেখা যায়, কেনাকাটা বাবদ গত ১২ মাসে ৩২টি দল বিদেশ সফর করেছে। এসব দলের বিদেশে কেটেছে মোট ১৭৪ দিন। সফরকারী দলের মোট সদস্য ছিলেন ৯৩ জন। আবার একই কর্মকর্তা ছয়বার পর্যন্ত বিদেশ সফর করেছেন। এ হিসাবে ৬২ জন কর্মকর্তা বিদেশ সফর করেন। এই তথ্য আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। বড় অঙ্কের কিংবা অতি গুরুত্বপূর্ণ কেনাকাটার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদেশ সফর করতে পারেন। আর বিদেশে তাঁরাই যাবেন, যাঁদের জাহাজ বা যন্ত্রপাতি সম্পর্কে কারিগরি ধারণা আছে। কিন্তু ৮৪ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি কিনতে ২০ লাখ টাকা ভ্রমণব্যয় জনগণের কষ্টার্জিত করের অর্থের অপচয় ছাড়া কিছু নয়। তাই চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বশেষ দরপত্রে যে চার কর্মকর্তার সফরের পূর্বশর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তা প্রত্যাহার এবং এই অসাধু প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা তথা জনগণের অর্থের অপচয়কারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

No comments:

Post a Comment