প্রতিবছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদের আগের তিনদিন ও ঈদের দিন রাজধানীর কিছু জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দেয়া হয়। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে এ বছর ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ইজারা দেয়া অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর ইজারা মূল্য ও হাসিল হিসেবে আদায়কৃত অর্থের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। জানা গেছে, পশুর হাটগুলো কম মূল্যে ইজারা দেয়াই এর মূল কারণ, যা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। উল্লেখ্য, এবার হাটগুলোর ইজারা মূল্য ছিল ১৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, অথচ হাসিল আদায় হয়েছে অন্তত ৭৪ কোটি টাকা। দেখা যাচ্ছে, হাটগুলো থেকে পাওয়া অর্থের পরিমাণ ইজারা মূল্যের প্রায় চারগুণ। অর্থাৎ ইজারাদাররা বিপুল অংকের মুনাফা করলেও সরকার রাজস্ব পেয়েছে সামান্য। অন্যদিকে হাসিল হিসেবে যে পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়েছে,
তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ এ অর্থ জনগণের টাকা। মূলত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নানারকম অনিয়ম ও যোগসাজশের মাধ্যমে প্রতিবছর অস্থায়ী পশুর হাটগুলো থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষ প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় বেনামে এসব হাটের ইজারা পায় সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য ও ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। কাউন্সিলর ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা নেপথ্যে থেকে যে ক’টি দরপত্র জমা দেয়ার নির্দেশ দেন, তার বেশি কোনো দরপত্র জমা পড়ে না। দেশে বিদ্যমান টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নানা অসঙ্গতির কথা সর্বজনবিদিত। দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাব ও স্থানীয়ভাবে টেন্ডার সমঝোতার কারণে নির্দিষ্ট কিছু লোকের নিয়ন্ত্রণে থাকে পশুর হাটগুলো। এর ফলে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের অস্থায়ী কোরবানি পশুর হাটগুলো থেকে পর্যাপ্ত রাজস্ব আহরণ নিশ্চিত করতে হলে দরপত্র প্রক্রিয়া অবশ্যই প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। এর পাশাপাশি আমাদের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি। দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও লুটপাট থেকে দূরে থাকার মানসিকতা যদি নাগরিকদের মধ্যে তৈরি করা না যায়, তাহলে কোনো পদ্ধতিই ফলদায়ক হবে না। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি চক্র টেন্ডারবাজি, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয় ও হাটবাজার ইজারাসহ অন্যান্য দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেয়ার ক্ষেত্রে এ চত্র“ জড়িত কিনা, তা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া গেলে এ খাতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের অস্থায়ী কোরবানি পশুর হাটগুলো থেকে পর্যাপ্ত রাজস্ব আহরণ নিশ্চিত করতে হলে দরপত্র প্রক্রিয়া অবশ্যই প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। এর পাশাপাশি আমাদের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি। দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও লুটপাট থেকে দূরে থাকার মানসিকতা যদি নাগরিকদের মধ্যে তৈরি করা না যায়, তাহলে কোনো পদ্ধতিই ফলদায়ক হবে না। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি চক্র টেন্ডারবাজি, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয় ও হাটবাজার ইজারাসহ অন্যান্য দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেয়ার ক্ষেত্রে এ চত্র“ জড়িত কিনা, তা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া গেলে এ খাতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
No comments:
Post a Comment