Thursday, September 22, 2016

ছুটিতে রাতারগুল


যারা প্রকৃতিকে ভালোবাসেন এবং প্রকৃতির কোমল স্পর্শে হৃদয়ের প্রশান্তি খুঁজে ফেরেন; তারা সময় করে ঘুরে আসতে পারেন বিশ্বের ২২টি সোয়াম্প ফরেস্টের একটি সিলেটের রাতারগুল। বর্ষা মানে রোদ-বৃষ্টির খেলা। এ খেলায় যারা মেতে থাকতে চান, তাদের অনেকেই এ মওসুমে বেরিয়ে পড়েন সিলেটের সবুজে ঘেরা চা-বাগান, ঝরনা, সর্পিল গতির পাহাড়ি নদী, ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গুয়া, হাকালুকি হাওরসহ অনেক স্পটে। এসবের মাঝে একটু সময় করে ঘুরে দেখতে পারেন সবুজ পত্রপল্লবে ঢাকা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট। সেখানে গাছগাছালি নিথর পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে নয়ন জুড়ানো সৌন্দর্যে। প্রায় ৩৩২১ একর জায়গা জুড়ে সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত প্রাকৃতিক এক নয়নাভিরাম রাতারগুলের বৈশিষ্ট্য একটু আলাদা। বর্ষা মওসুমের রূপ শরতে পাল্টে যায়। ভরা বর্ষায় মাথার ওপর সূর্য দেখা দিলে ঈষৎ ছায়া জলে এক অপূর্ব রূপ ধারণ করে রাতারগুল। নীরবতার সাথে এগিয়ে গেলে চোখে পড়তে পারে গুইসাপ, গোখরা, জলধুড়া, মেছোবাঘ, অজগর, কাঠবিড়ালি, বানর, বনবিড়াল, বেজি, শিয়ালসহ অন্য কোনো বন্য প্রাণী।
নিজেকে প্রকৃতির সাথে মিশিয়ে নিলে হয়তো চোখে পড়বে ঘুঘু, চড়ুই, পানকৌড়ি, চিল, সাদা বক, কানাবক, মাছরাঙা, টিয়া, বুলবুলি, চিল, বালিহাঁসসহ নানা প্রজাতির পাখি।  প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা রাতারগুল বাংলাদেশ বন বিভাগ ১৯৫২ সালে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করে। তবে চার-পাঁচ বছর ধরে ভ্রমণপিপাসুরা এটিকে দর্শন করে চলেছেন। বন বিভাগের স্বীকৃতি পাওয়ার চার দশক অতিক্রম করলেও রাতারগুল যাওয়ার রাস্তাঘাটের তেমন উন্নয়ন হয়নি। ফলে প্রকৃতিপ্রেমীদের অনেক কষ্ট সহ্য করে এ পথ পাড়ি দিতে হয়। সিলেট শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাতারগুলে যাওয়ার দু’টি রাস্তারই বেহাল দশা। সিলেট তামাবিল সড়ক হয়ে হরিপুরের নিকটবর্তী হয়ে হাতের বাঁ-দিকে ছোট রাস্তা ধরে রাতারগুল যাওয়া যায়। এ ছাড়াও সিলেট বিমানবন্দর হয়ে হাদারপার সড়ক দিয়ে গোয়াইনঘাট হয়েও রাতারগুল যাওয়া যায়। তবে দু’টি সড়কের বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। তাই পর্যটকদের গুনতে হয় বাড়তি ভাড়া। রাতারগুলে যাওয়ার সময় সিএনজি ও নৌকা ভাড়া দরদাম করে নেয়াই ভালো।
খেয়াল রাখতে হবে যা
বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম রাতারগুল ভ্রমণের প্রধান শর্ত নীরবতা পালন করা। স্থানীয় মাঝিরা বনের ভেতর কখনো ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালান না। তাই ভ্রমণকারীকেও নীরবতা পালন করা উচিত। বনের ভেতর ঘোরার সময় হৈ-হুল্লোড় ও চেঁচামেচি না করাই ভালো।

No comments:

Post a Comment