Sunday, September 4, 2016

মাদার তেরেসা সন্ত হলেন

প্রায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে রোমান ক্যাথলিকদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস রবিবার এক বিশেস অনুষ্ঠানে মাদার তেরেসাকে সন্ত (সেইন্ট) ঘোষনা করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ২৬টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান। মাদারের কর্মকান্ড যে কলকাতায় সেই কলকাতা থেকে মিশনারিজ অব চ্যারিটির মাদার সুপিরিয়র সিস্টার প্রেমার নেতৃত্বে ৫০ জন সন্ন্যাসিনী উপস্থিত ছিলেন। ভারত থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের নেতৃত্বে সরকারী প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। কলকাতা থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বেঙ্গলের এক প্রতিনিধি দল। সারা ভারত থেকে ছিলেন ৪৫ জন আর্চবিশপ।  এদিন কলকাতা সহ সারা ভারত জুড়ে মাদারকে সন্ত ঘোষনা নিয়ে গির্জায় গির্জায় হয়েছে প্রার্থণা। কলকাতার অদূরে বারুইপুরে মাদারের নামে স্থাপিত প্রথম চার্জটিতে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের মেজাজ। কলকাতার মাদার হাউসে সারাদিন ধওে চলেছে নানা অনুষ্ঠান ও প্রার্থনা। এছাড়া কলকাতার নান জায়গায় হয়েছে মাদারের ছবির প্রদর্শনী, তাঁকে নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনও। গত মার্চেই ঘোষনা করা হয়েছিল যে মাদার তেরেসাকে সন্ত ঘোষনা করবেন রোমান ক্যাথলিকদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস । এরপর থেকে শুরু হয়েছিল প্রস্তুতি। ১৯৯৭ সালে মারা হিয়েছিলেন মাদার টেরেসা। তাঁর মৃত্যুর পর দুটি অলৌকিক ক্ষমতার ঘটনার কথা সামনে এসছিল।  দুজন মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তি মাদার টেরেসার নাম কওে প্রার্থনা করে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। আর এই দুটি ঘটনা মাদার টেরেসার সন্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছিল। এর একটি ঘটনা ছিল পশ্চিমবঙ্গেও দক্ষি দিনাজপুরের এক সাওতাল বধূর দীর্ঘদিনের টিউমার সারাতে যখন চিকিৎসা কাজ করছিল না, তখন তিনি মাদার টেরেসার ছবি রেখে প্রার্থনা করতে করতে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। দ্বিতীয ঘটনাটি জানা গিয়েছিল গত বছর । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রাজিলের এক বাসিন্দা জানিয়েছিলেন, ২০০৮ সালে তাঁর টিউমার সেরেছে মাদার টেরেসার জন্য। ব্রাজিলবাসী ওই রোগী অবশ্য কোনো দিন মাদারকে দেখেননি।
অ্যাগনেস থেকে মাদার তেরেসা : একসময়ের আলবানিয়া বর্তমানের ম্যাসিডোনিয়ার অ্যাগনেস সেবার আকর্ষনে বাড়ি ছেড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন আর্য়াল্যান্ডে। সেখান থেকে সোজা কলকাতায়। প্রথমে স্কুলের শিক্ষকতার জীবন। কিন্তু বস্তির মানুষের দুঃখেতর দিনযাপন দেখে তিনি বিরত থাকতে পারেন নি। একসময় শিক্ষতা ছেড়ে পুরোপুরি মানব সেবার শুরু করেছিলেন। আর্ত মানুষের সেবার তিনি নিয়োজিত করেছিলেন। দুঃস্থ ও অনাধ মানুষের জন্য গড়ে তুলেছিলেন একের পর এক হোম বা আশ্রয়স্থান। আর এই ভাবেই ১৯৫০ সালে কলকাতায় তৈরি করেছিলেন মিশনারিজ অব চ্যারিটি নামে সেবা প্রতিষ্ঠান। প্রথমে ভারতে ও পরে সমগ্র বিশ্বে তাঁর এই মিশনারি কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছিল।  বিশ্বের ১২৩টি দেশে রয়েছে মিশনারিজ অব চ্যারিটির ৬১০টি শাখা। কলকাতাতেই রয়েছে ১৯টি শাখা প্রতিষ্ঠান। শান্তিতে নোবেল পুরস্কারও পেয়েছিলেন মাদার টেরেসা। সুদীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে তিনি দরিদ্র, অসুস্থ, অনাথ ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের সেবা করেছেন। ১৯৭০-এর দশকের মধ্যেই সমাজসেবী এবং অনাথ ও আর্ত মানুষের বন্ধু হিসেবে তাঁর খ্যাতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৯৭৯ সালের ১৭ অক্টোবর তিনি তাঁর সেবাকার্যের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরতœ লাভ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর পোপ দ্বিতীয় জন পল তাঁকে স্বর্গীয় আখ্যা দিয়েছিলেন।

No comments:

Post a Comment