রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)
রহমতুন্নেসা হলে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে আবাসিক শিক্ষিকাকে অবরুদ্ধ করে
বিক্ষোভ করেছে ছাত্রীরা। মঙ্গলবার দুপুরে ওই শিক্ষিকার নিজ কক্ষে প্রায় দুই
ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এ সময় তার পদত্যাগের দাবি করেন তারা। পরে প্রশাসনের
আশ্বাসে ছাত্রীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। হলের আবাসিক ছাত্রীদের অভিযোগ,
হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিলি জেসমিন ও পূর্ণকালীন আবাসিক শিক্ষিকা পাক
নেহাদ বানু ছাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন। সমস্যা ও দাবি-দাওয়া
নিয়ে আবাসিক ছাত্রীরা তাদের কাছে গেলে অশ্রাব্য ভাষায় কথাবার্তা বলেন।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন। এরই প্রেক্ষিতে ২৯ আগস্ট
ও ১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে
ছাত্রীরা তাদের দুজনের পদত্যাগের দাবি জানায়। ভিসি অধ্যাপক মিজানউদ্দিন
তাদের পূরণের আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যায়।
আন্দোলন
করায় ছাত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয়ায় এবং দীর্ঘদিনেও
আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় মঙ্গলবার ছাত্রীরা আবাসিক শিক্ষিকা পাক নেহাদ
বানুর অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। এসময় তিনি অফিসে ভিতরে অবস্থান করছিলেন।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টর ঘটনাস্থলে গিয়ে দাবি পূরণের
আশ্বাস দিলে ছাত্রীরা কক্ষের তালা খুলে দেয়। জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর
মো. রোকনুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে আমরা হলে গিয়ে ছাত্রীদের শান্ত করি। তাদের
সমস্যা শুনে তা নিরসনের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
পাক নেহাদ বানুর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে প্রাধ্যক্ষ মিলি
জেসমিন বলেন, যা হয়েছে তা নিয়ে ভিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া
হবে। ভিসি অধ্যাপক মিজানউদ্দিন বলেন, হলের শিক্ষার্থীরা এর আগে তাদের
সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। আমি সে অনুযায়ী হলের প্রাধ্যক্ষকে বলে দিয়েছিলাম
যাতে সমস্যা আর না হয়। তবে তা যেহেতু সমাধান হয়নি, তাই নতুন করে বসে
সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

No comments:
Post a Comment