রাত পৌনে ১১টা, তারিখ ১৭ আগস্ট ২০১৬। মোহনা টেলিভিশন থেকে টকশোতে অংশ নিয়ে বাসায় ফিরছি। ছাত্রনেতা মাহবুব রহমান গাড়ি ড্রাইভ করছে। সাথে ছিল মরহুম নেতা আবদুল মতিন চৌধুরীর এককালীন ঘনিষ্ঠ আবদুল মালেক। মোহনা থেকে বের হয়ে চিন্তা করছি যে, টকশোতে আর যাবো না। কারণ মিডিয়াগুলোর মালিক সরকারদলীয়; ফলে সঞ্চালক সে পন্থী এবং আমার বিপরীতে যিনি আলোচক থাকেন তিনি ব্রান্ডেড সরকারি। তিনটি পক্ষকে মোকাবেলা করতে হয়। এতে কিছু বড় সমস্যা না হলেও সাধারণত সঞ্চালক কর্তৃক ‘সময় বণ্টনে’ পক্ষপাতিত্ব একটি বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা। তা ছাড়া দর্শক যারা সরকারপন্থী তাদের টেলিফোন কল গ্রহণ করে; কিন্তু সঞ্চালক বিরোধী দলের প্রশ্ন করার সুযোগ দেন না। অন্য দিকে, যখন রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে, জিয়া পরিবার ও বিএনপির পক্ষ নিয়ে জোরালোভাবে কথা বলতে বলতে চূড়ান্ত পর্যায়ে উপসংহারে আসছিলাম। এর আগেই সঞ্চালক বলেন, ‘এখনই আমাদের বিজ্ঞাপন বিরতিতে যেতে হবে।’ ফলে সম্মানিত দর্শকদের কাছে যে কথাটি পৌঁছাতে চাই তা আর স্পষ্ট করা যায় না। পক্ষান্তরে আবার ভাবছি, আওয়ামী লীগ মালিকানাধীন মিডিয়া তো ‘দয়া করে’ আমাদের ডেকে দু’টি কথা বলার সুযোগ দেয়; কিন্তু আমার দলের মালিকানাধীন মিডিয়া আমাদের ডাকে না, তাদের কাছে আমাদের কোনো দামই নেই। বিএনপির নবনিযুক্ত ও নিযুক্তির চার ঘণ্টার মাথায় পদত্যাগকারী সহসভাপতির মালিকানাধীন দেশের বহুলপ্রচারিত টিভি চ্যানেল আমাদের ডাকেই না। আরো এক চ্যানেল ডাকে না, শুনেছি এর মালিক সাদেক হোসেন খোকা। মরে গেলেও বিএনপির পক্ষেই কথা বলব; কিন্তু এসব মিডিয়া আমাদের ডাকে না কেন? আমাদের কথা শুনে সরকার অসন্তুষ্ট হবে? না অন্য কিছু? কোন রহস্যের কারণে টকশোতে ডাকে না? আরো ভাবছি, বিএনপির পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখছে না মর্মে দল থেকে কেন মিডিয়া মালিকদের বলা হচ্ছে না? এখন বিএনপি ও জিয়া পরিবারের চরম সঙ্কট যাচ্ছে। এ সময় যদি তারা দলের পাশে না দাঁড়ায় তবে কখন দাঁড়াবে? দল ক্ষমতায় গেলে তো তারাই হবে সর্বসেরা, মধুর নহর তো তাদের মুখেই আগে যাবে। আরো ভাবছি, জোরালো ভাষায় সরকারের সমালোচনা করি; কিন্তু আমাদের লেখা তো দু-একটি পত্রিকা ছাড়া ঢাকা থেকে প্রকাশিত অন্য কোনো জাতীয় পত্রিকায় ছাপায় না। দলে কি টাকাওয়ালাদের অভাব হয়ে গেল?
আন্দোলন সংগ্রামে যাদের টিকিটিও দেখা যায়নি, এমন টাকাওয়ালাদের নাম তো জাতীয় নির্বাহী কমিটির উচ্চপদে স্থান পেয়েছে, দল থেকে তাদের কেন পত্রিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দেয়া হয় না? একদিন ফজর নামাজ পড়ে জেলখানায় হাঁটছি, এমন সময় হুন্ডি ব্যবসার দায়ে অভিযুক্ত গিরি লাল মোদির ভাই গণেশ লাল মোদি আমাকে জানান, ‘টিভিতে বলল আপনাদের দল ভেঙে গেছে।’ ভগ্নহৃদয়ে সেলে ফিরে গিয়ে দেখি, এ আলোচনাই হচ্ছিল। ভাবছিলাম যারা দল ভাঙছে, তারা তো আমাদের দলের মন্ত্রী ও নেতা যারা অনেক মধু খেয়েছে। পরে আবার শুনলাম দল ভেঙে তারা কিংস পার্টি করবে। ফেরদৌস কোরেশীর নেতৃত্বে নতুন দল হবে। তখন বিএনপির অনেক বড় নেতার নামও কিংস পার্টিতে শোনা যাচ্ছিল। যখন এ কথা শুনতাম তখন মন ভেঙে যাচ্ছিল। তখন গুটিকয়েক ব্যক্তি, মরহুম খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, ব্রি. জেনারেল হান্নান শাহ, মাহমুদুর রহমানসহ (আমার দেশ) যাদের বক্তব্য শুনে মনে আশার সঞ্চার হয়েছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম রুহুল কবীর রিজভী। সব মামলায় জামিন নিয়ে কিছু দিন আগে রিজভী ভাই জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কঠিন ভাষায় সরকারবিরোধী বক্তব্য দেয়ার কারণে পুলিশ তাকে খুঁজছে বিধায় তিনি আত্মগোপনে এবং কোথায় থাকেন তা জানতাম। সাত পাঁচ ভেবে রিজভী ভাইকে ফোন করলাম। তিনি জানালেন, যা শুনেছি তার কোর্টে আত্মসমর্পণ সম্পর্কে, তা সঠিক। তিনি বললেন ‘আমি ম্যাডামের অনুমতি নিয়েছি, কালই আত্মসমর্পণ করব।’ এর আগে জেলে থাকাবস্থায় প্রিজন সেলে দেখা করেছি। এবার জেলে যাওয়ার আগে তার সাথে দেখা করতে চাই জানালে তিনি সম্মতি দিলেন। তখন রাত ১২টা ১৫ মিনিট প্রায়। আমি মাহবুব রহমানকে গাড়ি ঘুরিয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানের দিকে যেতে বললাম। বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এ এম বদরুজ্জামান খসরু ভাইয়ের ছেলে মাহমুুদুর রহমান সুমনকে টেলিফোনে বললাম, একটি গাড়ি নিজে ড্রাইভ করে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করো। সে মতে সুমনকে সাথে নিয়ে রিজভীর সাথে দেখা করলাম, তখন রাত পৌনে ১টা।
২ পৌঁছে দেখলাম, রিজভী একটি সিঙ্গেল খাটে বিশ্রামরত। পাশের সোফায় তার স্ত্রী বসা, তার পাশে বসলাম। বিভিন্ন কথার মধ্যে লক্ষ করলাম তার স্ত্রী (একজন উচ্চপদস্থ কর্মজীবী মহিলা) গভীর মনোযোগে জেলখানায় ব্যবহারের জন্য কাপড়চোপড়, বিছানাপত্রসহ পড়ার জন্য বই গোছাচ্ছেন, প্রতিটি বই দেখছেন এবং নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে ব্যাগ ভর্তি করছেন। শান্তশিষ্ট ভদ্র মহিলাকে দীর্ঘ দিন ধরেই চিনি ও জানি। আনজুমানারা বেগম, যিনি চাকরি করে রিজভীর সংসার ঠিক রেখেছেন, যার দেয়া চা বহুবার পান করেছি। যে ভদ্রমহিলা ঢাকাতে পরিবারের একা, তার স্বামী জেলে যাচ্ছেন, এ স্বৈরাচারী সরকার আমলে কবে ফিরবেন, তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না, এ অবস্থায় রাত পোহানোর যন্ত্রণায় আর সময় কাটছে না; কবির ভাষায় ‘রাত পোহাবার কত দেরী, পাঞ্জেরী?’ যে মহিলা ‘জেলের সামান’ (প্রয়োজনীয় ব্যবহৃত জিনিস) স্বামীর জন্য গোছাচ্ছেন, তার মনবেদনা কতটুকু তা পরখ করার গভীরতা নিয়ে বুঝতে চেষ্টা করছি; আর কথার ফাঁকে ফাঁকে ভাবছি, এটাই তো একটি রাজনীতিকের স্ত্রীর নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। নেতা আরো বড় নেতা হলে বা মন্ত্রী হয়ে যখন ফুলের মালা পরেন, ফুলেল শুভেচ্ছা নিতে নিতে হয়রান হয়ে যান, তখন কেউই মনে করে না যে, এ ফুলের শুভেচ্ছার পেছনে কত যন্ত্রণার কাঁটা, বেদনাদায়ক স্মৃতি, কত আর্তনাদ, কত বোবাকান্না রয়েছে। কথার ফাঁকে শুধু রিজভীর স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থেকে পরখ করছিলাম এই ভেবে যে, একজন অস্স্থু মহিলা (কিছু দিন আগে হাসপাতালে ছিলেন) কত ধৈর্য ও আন্তরিকতার সাথে স্বামীর জেলের সামগ্রী তৈয়ার করছেন, যাতে তার স্বামী কারাবাসে একটু হলেও স্বস্তির জীবন যাপন করতে পারেন। বই পড়ে যার সময় কাটাতে স্বচ্ছন্দ্য, তার কাছে বই সবচেয়ে প্রিয়। ঘটনাটি এক দিকে বেদনাপূর্ণ, অন্য দিকে বিশ্বস্ততার প্রশ্নে আনন্দদায়ক। রাত আড়াইটা পর্যন্ত রিজভী পরিবারের সাথে অবস্থান করে ফিরে আসি। সম্প্রতি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারটি দেশের সবচেয়ে বড় কারাগার। বহু দিন সে কারাগারের লাইব্রেরি আমি ব্যবহার করেছি; কিন্তু সেখানে বইয়ের খুবই অভাব,
২ পৌঁছে দেখলাম, রিজভী একটি সিঙ্গেল খাটে বিশ্রামরত। পাশের সোফায় তার স্ত্রী বসা, তার পাশে বসলাম। বিভিন্ন কথার মধ্যে লক্ষ করলাম তার স্ত্রী (একজন উচ্চপদস্থ কর্মজীবী মহিলা) গভীর মনোযোগে জেলখানায় ব্যবহারের জন্য কাপড়চোপড়, বিছানাপত্রসহ পড়ার জন্য বই গোছাচ্ছেন, প্রতিটি বই দেখছেন এবং নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে ব্যাগ ভর্তি করছেন। শান্তশিষ্ট ভদ্র মহিলাকে দীর্ঘ দিন ধরেই চিনি ও জানি। আনজুমানারা বেগম, যিনি চাকরি করে রিজভীর সংসার ঠিক রেখেছেন, যার দেয়া চা বহুবার পান করেছি। যে ভদ্রমহিলা ঢাকাতে পরিবারের একা, তার স্বামী জেলে যাচ্ছেন, এ স্বৈরাচারী সরকার আমলে কবে ফিরবেন, তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না, এ অবস্থায় রাত পোহানোর যন্ত্রণায় আর সময় কাটছে না; কবির ভাষায় ‘রাত পোহাবার কত দেরী, পাঞ্জেরী?’ যে মহিলা ‘জেলের সামান’ (প্রয়োজনীয় ব্যবহৃত জিনিস) স্বামীর জন্য গোছাচ্ছেন, তার মনবেদনা কতটুকু তা পরখ করার গভীরতা নিয়ে বুঝতে চেষ্টা করছি; আর কথার ফাঁকে ফাঁকে ভাবছি, এটাই তো একটি রাজনীতিকের স্ত্রীর নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। নেতা আরো বড় নেতা হলে বা মন্ত্রী হয়ে যখন ফুলের মালা পরেন, ফুলেল শুভেচ্ছা নিতে নিতে হয়রান হয়ে যান, তখন কেউই মনে করে না যে, এ ফুলের শুভেচ্ছার পেছনে কত যন্ত্রণার কাঁটা, বেদনাদায়ক স্মৃতি, কত আর্তনাদ, কত বোবাকান্না রয়েছে। কথার ফাঁকে শুধু রিজভীর স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থেকে পরখ করছিলাম এই ভেবে যে, একজন অস্স্থু মহিলা (কিছু দিন আগে হাসপাতালে ছিলেন) কত ধৈর্য ও আন্তরিকতার সাথে স্বামীর জেলের সামগ্রী তৈয়ার করছেন, যাতে তার স্বামী কারাবাসে একটু হলেও স্বস্তির জীবন যাপন করতে পারেন। বই পড়ে যার সময় কাটাতে স্বচ্ছন্দ্য, তার কাছে বই সবচেয়ে প্রিয়। ঘটনাটি এক দিকে বেদনাপূর্ণ, অন্য দিকে বিশ্বস্ততার প্রশ্নে আনন্দদায়ক। রাত আড়াইটা পর্যন্ত রিজভী পরিবারের সাথে অবস্থান করে ফিরে আসি। সম্প্রতি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারটি দেশের সবচেয়ে বড় কারাগার। বহু দিন সে কারাগারের লাইব্রেরি আমি ব্যবহার করেছি; কিন্তু সেখানে বইয়ের খুবই অভাব,
যা আছে তা হলো ধর্মীয় পুস্তক, র্যাব বা পুলিশ গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে তল্লাশি করে যাকে জিহাদি বই বলে চালিয়ে দেয়া হয়। মোট ৭-৮ শ’র বেশি বই কারাগারে নেই। ময়মনসিংহ একটি বড় কেন্দ্রীয় কারাগার। সেখানেও দেখেছি নামে মাত্র পাঠাগার, বই খুবই অপ্রতুল। যারা পাঠক, বই তাদের ক্ষুধা নিবারণে প্রধান সহায়ক। কারাবন্দী স্বামীকে একটু আনন্দ ও সহায়তা দিতে স্ত্রীর যে প্রচেষ্টা তা গভীরভাবে মনোনিবেশ না করলে অনুধাবন করা যায় না। এ দুঃখ ও বেদনার মাঝেও কোথায় যেন আত্মবিশ্বাস ও পরস্পর নির্ভরশীলতার সিঁড়ি বেয়ে চিন্তার মণিকোঠায় একটি সুখ, আত্মতৃপ্তি পরিস্ফুটিত, যা দেখে বেদনার পাশাপাশি আত্মমর্যাদা লাভ করা যায়। শোষণ-নির্যাতনের মধ্যেও কোনো কোনো সময় পাশের মানুষটির সচেতনতার কারণে নিজের অসহায়ত্ব মানুষ ভুলে যায়। ব্রিটিশ শাসন-শোষণের সংস্কৃতি অনুসরণে কারাগার পাক-ভারত উপমহাদেশে রাজনীতিকদের বড় ঠিকানা, যেখানে এখন রাজনীতিকদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমান সরকারের আমলে আগের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। আগে আদালতে সহানুভূতি পাওয়া যেত; বর্তমানে তা পাচ্ছেন প্রধানত শাসকেরা। বিচার বিভাগ যদি মনে করে, ক্ষমতাসীনদের রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব, তখন বিরোধীদলীয় রাজনীতিকদের জেলজীবন অনিশ্চয়তার দিকে চলে যায়। শাসকেরা গণতন্ত্রকে হত্যার জন্য যে আইন করবেন শুধু তা কার্যকর করা প্রগতিশীল বিচারকদের দায়িত্ব হতে পারে না; দেশের বুদ্ধিজীবীসমাজ বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পুলিশি রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। যা হোক, রাজনীতিকদের পারিবারিক জীবন কেমন কাটে তা সে পরিবারের সদস্যরা ছাড়া আর কেউ উপলব্ধি করতে পারবে না। ১/১১-এর আগেই আমার অনেক ঈদ আত্মগোপনে বা জেলখানায় কেটেছে। তখনো শুনেছি, ঈদে আমার বাড়িতে রান্না হয়নি।
এখন এ অবস্থা বিরোধী দলের রাজনীতিকদের ঘরে ঘরে। শ্রদ্ধা নিবেদন করি রিজভীর স্ত্রীর মতো নারীদের যাদের কষ্ট, বেদনা, আর্তনাদ কারো চোখে পড়ে না; কিন্তু রাজনীতিকদের প্রতিষ্ঠার জন্য তারা ভিটির নিচে ইটের গাঁথুনির (চোখে পড়ে না অথচ এ গাঁথুনির ওপর ভিত্তি করে ইমারতটি দাঁড়িয়ে থাকে) মতো রাজনীতিকদের সব কষ্টের ভাগিদার হয়ে থাকেন। অথচ তাদের খবর কেউ জানে না। যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তাদের গভীর শ্রদ্ধা জানাই। দেশে থেকে গণতন্ত্রের জন্য যারা লড়াই করছেন, তারা যে জুলুম-নির্যাতন ভোগ করছেন তাদের বিষয়টি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিকভাবে বিবেচনা করা উচিত। সরকারের ভাষায় দেশে সব কিছু ঠিক আছে; কিন্তু কার্যত গণতন্ত্রের সংজ্ঞা পরিবর্তন হয়েছে। গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ছিল Of the People, By the People and For the People. এখন শুধু একটি করে ডিজিটাল অক্ষর সংযোজন হয়েছে। যেমন- Of-এর পরিবর্তে হয়েছে 'OFF'. 'BY'-এর পরিবর্তে হয়েছে 'BYE (Good Bye)' এবং 'FOR'-এর পরিবর্তে হয়েছে 'FORE (Forego)'. কিন্তু PEOPLE আগের মতোই আছে। কথা বলার সুযোগ নেই। আলোচনা-সমালোচনা করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে মানুষকে তুলে নেয়া হচ্ছে, যার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। একই ধরনের মামলায় যেখানে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ নাসিম, সাবের হোসেন চৌধুরীর মামলা QUASHMENT হয়, বিএনপি নেতা হলে সে মামলায় ছাড়া পাওয়া যায় কি? এসব ভাবতে ভাবতে চিন্তাশক্তির সীমারেখায় যখন সিলভার লাইন দেখা যায় না, তখন অবচেতন মনে কবি ফররুখ আহমদের ভাষায় মনোজগতে ভেসে আসে- ‘রাত পোহাবার আর কত দেরী, পাঞ্জেরী।’
লেখক : বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা
লেখক : বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা
No comments:
Post a Comment