শেয়ারবাজার চাঙা করতে ছয় হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাবের খবরে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে বড় প্রভাব পড়েছে। গতকাল বুধবার ডিএসইতে লেনদেন ছাড়িয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। গত আট মাসের মধ্যে এটিই ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন। শেয়ারবাজারের মার্চেন্ট ব্যাংকারদের সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) নেতারা গত মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে সভা করে লিখিতভাবে তাঁদের প্রস্তাব দেন। তাতে শেয়ারবাজারের জন্য ছয় হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের বা ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।
যদিও বিএমবিএর এসব প্রস্তাবের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। এমনকি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্যও করেননি অর্থমন্ত্রী। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি না মিললে প্রস্তাবের খবরেই ডিএসইতে গতকাল বুধবার দিনের শুরু থেকেই লেনদেনে বেশ গতি দেখা যায়। গতি ছিল সূচকেও। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৬০ পয়েন্টে। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৩০৬ পয়েন্টে। সিএসইতে লেনদেন হয় ৩২ কোটি টাকা। বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তহবিল গঠনের প্রস্তাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে চাঙাভাব দেখা দেয়। ঢাকার বাজারে গত দুদিন লেনদেন ছিল ৫০০ কোটি টাকার ওপরে।
বিএমবিএর নেতাদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক ও প্রণোদনার সুপারিশের খবরে গতকাল তা ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, ঈদের ছুটির পরে গত দুদিনে লেনদেন ৫০০ কোটির ওপরে ঘুরপাক খাচ্ছিল। বিএমবিএর মঙ্গলবারের প্রস্তাব লেনদেনের পালে নতুন করে হাওয়া লাগায়। বিনিয়োগকারীদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার প্রভাবে গতকাল দিন শেষে ৬০০ কোটি টাকা লেনদেন ছাড়িয়ে যায়। তবে বিএমবিএর প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন ও যৌক্তিকতার বিষয়টি এখনই আলোচনায় আসেনি। আদৌ এসব প্রস্তাব সরকারের পক্ষ থেকে পূরণ করা হবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। ঢাকার বাজারে গতকাল ৬১৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারির পর এটিই ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন। ২০ জানুয়ারি ডিএসইতে ৬৭০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।
No comments:
Post a Comment