Thursday, September 22, 2016

ভারত–পাকিস্তান কি যুদ্ধে জড়াবে?

উরি হামলার সময় এক ভারতীয় সেনার সতর্ক অবস্থান
ভারত ও পাকিস্তান কি কাশ্মীর নিয়ে যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছে? এ প্রশ্নটিকে বেশ অবান্তর মনে হয়। আসলে দুটি দেশই দীর্ঘ সময় ধরে পরমাণু ক্ষমতাধর। আর এই প্রতিবন্ধকতাই দুটি দেশের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষকে নিরাপদে রেখেছে। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরিতে গত রোববারের সন্ত্রাসী হামলায় ১৮ সেনা নিহত হওয়ার পর ভারতের সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশনসের মহাপরিচালক বলেন, হামলার সময় নিহত সন্ত্রাসীদের কাছে পাওয়া অস্ত্রে সেগুলো পাকিস্তানে নির্মিত হওয়ার ছাপ পাওয়া গেছে। হামলার পরপরই এক যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং হামলার পরপর টুইট করে, ‘পাকিস্তান একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। এ দেশকে সমগ্র বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে হবে।’ ভারতের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলেও যুদ্ধের দামামা বাজছে। দেশটির একটি জনপ্রিয় সংবাদভিত্তিক ইংরেজি টেলিভিশন চ্যানেলের উপস্থাপক অর্ণব গোস্বামী পাকিস্তানকে উদ্দেশ করে বলেই ফেললেন, ‘আমাদের উচিত তাদের পঙ্গু করে ফেলা।’
দুই দেশের তৈরি পরমাণু অস্ত্রের অবস্থান আসলে কী? আসলেই কি এগুলো যুদ্ধের প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে? ভারতের অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জি ডি বকশি এর উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান ভারতের এক-পঞ্চমাংশ। আমরা যদি পরমাণু অস্ত্রের একটি অংশ ব্যবহার করি পাকিস্তানের পাঞ্জাবে, তবে সেখানে আগামী ৮০০ বছর কোনো ফসল ফলবে না।’ পাকিস্তানও ভারতের প্রতিক্রিয়ার জবাব দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ এ হামলায় তাঁর দেশের জড়িত থাকার ‘ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন অভিযোগ’ অস্বীকার করেন। তবে উত্তপ্ত বাগ্‌যুদ্ধ এক জিনিস আর বাস্তবতা আরেক। যেমন বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার কৌশলগত বিষয়ের সম্পাদক অজয় শুক্লা বলেন, ‘উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চালিয়ে যাওয়াটা খুব সহজ। সাম্প্রতিক প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার পরই ভারত প্রতিবেশী পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলেছে আর পাকিস্তান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। হামলার পরপরই ভারতের পক্ষ থেকে কঠোর জবাব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে শুক্লা বলেন, ‘সব সময় ভারত বাস্তবতার নিরিখেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উগ্র জনমত তাদের প্রভাবিত করেনি। তারা বুঝতে পেরেছে, পাকিস্তানকে আক্রমণ করলে তা তাদের পক্ষে যাবে না।’ শুক্লার মন্তব্য, ভারত কোনো হামলা চালানোর জন্য কৌশলগত দিক থেকে প্রস্তুত নয়। এটা দেশটির পরিকল্পনার ব্যর্থতা। তিনি বলেন, ‘আমাদের আরেকটি বাস্তবতা ভুললে চলবে না যে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বিশ্বের একাদশ বৃহত্তম।’ ইসলামাবাদভিত্তিক ভাষ্যকার মোশাররফ জায়িদ বলেন, পাকিস্তান একসময় কাশ্মীরের জঙ্গিদের সহায়তা করেছে। আজকের বাস্তবতায় এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। তবে আজ ভারতে যে রণহুঙ্কার চলছে, এতে যৌক্তিকতা নেই। গত সোমবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার এক জরিপে বলেছে, ৮১ শতাংশ ভারতীয় এখনো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষে। তিনি সন্ত্রাসবাদকে যেভাবে সামলাচ্ছেন, তাতে সমর্থন আছে ৬১ শতাংশের। ৭৩ শতাংশ ভারতীয়ই পাকিস্তানের প্রতি বিরূপ। তবে ৫৬ শতাংশ দুই দেশের উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনায় পক্ষপাতী।

No comments:

Post a Comment