Saturday, September 3, 2016

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী শিক্ষিকা নিহত

শরীয়তপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষিকা নাজমা বেগম আমেরিকার নিউইয়র্ক জামাইকা শহরে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। আমেরিকার স্থানীয় সময় বুধবার রাত পৌনে ৯টায় এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন নিহতের ভাই এনায়েত হোসেন খান ডালু। নিহতের ভাই এনায়েত হোসেন খান ডালু ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষিকা নাজমা বেগম ২০০৮ সালে ডিবি ভিসা পেয়ে স্বামী শামসুল আলম খান ও ছোট ছেলে নাইমুল আলম শুভসহ আমেরিকায় যান। এ পর থেকে ছোট ছেলে শুভকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী আমেরিকায় বসবাস করে আসছেন। বুধবার রাতে আমেরিকার নিউইয়র্ক এর বাঙালি অধ্যুষিত জামাইকা ক্রুজ শহরের তাদের নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। আমেরিকার স্থানীয় সময় রাত্র পৌনে ৯ টার দিকে বাসার কাছে চলে আসার পর অজ্ঞাত সন্ত্রাসীর নাজমা বেগমকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। এসময় তার সাথে ছিলেন নিহতের স্বামী শামসুল আলম খান। পরে পুলিশ ও শামছুল আলম তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নাজমার বেগমের বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটিপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম শাহাদাৎ হোসেন খান। ১৯৭২ সালে শরীয়তপুর সরকারী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক প্রভাষক শামসুল আলম খানের সাথে তার বিয়ে হয়।
বিয়ের পর তারা শরীয়তপুর জেলা শহরে সদর হাসপাতাল সংলগ্ন বাড়িতে প্রায় দুই যুগ বসবাস করেছেন। নাজমার ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে নাজমুল আলম খান লিটু ও এক মাত্র মেয়ে ইসমিতা আলম তৃনা খানম ঢাকায় বসবাস করছেন। ছোট ছেলে শুভকে বিয়ের করাতে আগামী ডিসেম্বর মাসে স্বামীসহ দেশে ফেরার কথা ছিল নাজমা বেগমের। নাজমার দেবর এসকান্দার আজম খান জানিয়েছেন, তারা কেউ বাড়িতে থাকেন না। ২২/২৩ বছর শিক্ষকতা জীবন শেষে তাদের ছোট ছেলেকে সাথে নিয়ে গত ৮ বছর ধরে আমেরিকায় বসবাস করছে। তাদের সম্পর্ক খুবই ভালো ছিল। নিহত নাজমা বেগমের বড় ভাইয়ের স্ত্রী জিয়াসমিন আক্তার কান্না জরিত কন্ঠে বলেন, নাজমা আমার ননদ। সারা জীবন আমরা আপন বোনের মতো চলেছি। গত কাল রাতে ফোনে আমার সাথে কথা হয়েছিল। মাঝে মধ্যেই ফোন করে অসুস্থ্য মায়ের খবর নিতেন। দুই মাস পরে ছোট ছেলে শুভকে বিয়ে করাতে সবাই মিলে দেশে ফিরার কথা ছিল তাদের। নিহতের ভাই এনায়েত হোসেন খান ডালু বলেন, আমরা ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। এর পর স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে নাজমা বেগম মারা যান। শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হোসাইন খাঁন বলেন, নাজমা বেগমের নিহত হওয়ার বিষয়টি আমরা আপনাদের মতোই শুনেছি। তবে দাপ্তরিক ভাবে আমাদের কাছে এখনো কোনো চিঠি আসেনি। তার মৃতদেহ দেশে নিয়ে আসতে পরিবারকে সহযোগিতা সবধরনের সহযোগিতা করবো।

No comments:

Post a Comment