Saturday, September 3, 2016

নাজমা হত্যাকাণ্ড : ক্ষোভ ও আতঙ্কে নিউ ইয়র্কপ্রবাসী বাংলাদেশীরা

মাস খানেকের ব্যবধানে নিউ ইয়র্কে কমপক্ষে ১০ বাংলাদেশির উপর হামলা  ও হামলা-পরবর্তী  তিনজনের মৃত্যুতে আতঙ্কিত নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশীরা। ইমাম আকুঞ্জি ও তার মুসল্লি তারা মিয়া খুনের রেশ না কাটতেই বুধবার সন্ধ্যায় ৯টায় অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীর  চুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশী নাজমা। এতে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশী-অধ্যুষিত জ্যামাইকায় সন্ধ্যার পর বাংলাদেশি নারী পুরুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করার মতো থাকলেও বৃহস্পতিবার এ চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। পার্কগুলোতে বাংলাদেশী পরিবারের সদস্যদের দেখা যায়নি বললেই চলে।   ঘটনার তদন্তে কাজ শুরু করেছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। এ খুনের ব্যাপারে তথ্য দাতাকে দুই লাখ টাকার উপরে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নিউ ইয়র্ক কমিউনিটি বোর্ড -৮-এর সদস্য দেলোয়ার হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা নয়, এটি একটি হেইট ক্রাইম। কারণ সন্ত্রাসী  ছুড়িকাঘাত করেই পালিয়েছে। তার সাথে থাকা মালামাল ছিল সম্পূর্ণ অক্ষত। বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটিকে একটি গ্রুপ টার্গেট করেছে। ঐক্যবদ্ধভাবে কমিউনিটিকে এটি মোকাবেলা করতে হবে।  তবে নিউ ইয়র্ক পুলিশ ঘটনাটি দেখছে একটি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে। তাদের বক্তব্য, হেইট ক্রাইমের কোনো আলামত এখনো তারা খুঁজে পাননি। 
বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান জানান, আমি এই জ্যামাইকা থেকে গত ১৭ বছর ধরে পত্রিকা বের করে কুইন্স এলাকায় বাংলাদেশীদের উপর এধরণের পরিকল্পিত হামলা আমার নজরে আসেনি। এ ধরণের হামলার প্রতিবাদে জুমার নামাজের পর জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সামনে আমরা প্রতিবাদ বিক্ষোভ করবো। আগামী রোববার জ্যামাইকাবাসীরা পুনরায় নাজমা বেগমকে যেখানে খুন করা হয়েছে সেখানে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করবে।  শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্তনা জানাতে তাৎক্ষণিক ছুটে যান নিউ ইয়র্কে নিযুক্ত বাংলাশের কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানসহ কমিউনিটির নেতারা।  উল্লেখ্য বুধবার নিউ ইয়র্ক সময় ৯টা ১৫ মিনিটে পারসন জ্যামাইকার পারসন বুলোবার্ড থেকে পায়ে হেঁটে দৈনন্দিন বাজার নিয়ে বাসায় যাবার পথে ১৬০-০৮ নরমাল রোডে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীর আক্রমণের শিকার হন নাজমা বেগম।  পেছনেই ক্ষানিকটা দূরে ছিলেন তার স্বামী। এতে নাজমা বেগমের বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনের ঘটনাস্থলে পৌছান তার স্বামী। পরে পুলিশকে জানালে করলে নাজমা বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

No comments:

Post a Comment