Tuesday, September 27, 2016

চট্টগ্রামে বাসে কর্মজীবী নারীদের নিত্য ভোগান্তি by মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন

মোটরযান আইনে উল্লেখ রয়েছে গণপরিবহনের বাসে সুনির্দিষ্ট সংখ্যক আসন মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। রুট পারমিট নেয়ার সময় বিআরটিএ সিল মেরে গাড়ির মালিকদের বিষয়টি অবহিত করে থাকেন। তারপরও চট্টগ্রামে গণপরিবহনের বাসে মহিলা আসন সংরক্ষণের নিয়ম মানা হচ্ছে না।
কয়েক বছর আগে মহিলা যাত্রীদের জন্য সিটি কর্পোরেশনের চালু করা বাস সার্ভিসগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। বিআরটিসি’র দু’টি সার্ভিস চালু থাকলেও এগুলোতে পুরুষ যাত্রীদের পরিবহন করা হয়। ফলে স্কুল-কলেজের ছাত্রী ও কর্মজীবী মহিলাদের গণপরিবহনে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
গণপরিবহনের বড় বাসে ৯টি এবং মিনিবাসে ৬টি আসন সংরক্ষণের জন্য গাড়ির মালিক ও চালকদের বিআরটিএ অফিস আদেশের মাধ্যমে অবহিত করে থাকেন। কিন্তু এ নীতিমালা গণপরিবহনে মানা হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিআরটিএ থেকে অফিস আদেশের মাধ্যমে গণপরিবহনে মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য কিছু আসন সংরক্ষণের জন্য বলা হয়েছে। এটা গাড়ির রুট পারমিট দেয়ার সময় সিল মেরে বাস্তবায়নের জন্য বলে দেয়া হয়।’
চট্টগ্রাম মহানগরী ২০০৫ সালে তত্কালীন মেয়র মহিলা ও শিশু যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য আলাদা ১৯টি বাস সার্ভিস চালু করেন। পরবর্তীতে এসব গণপরিবহনের পাশাপাশি পুরুষ যাত্রীদের পরিবহনের ব্যবস্থা চালু করা হয়। এক পর্যায়ে এসব গাড়ি জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ায় চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনের এসব গণপরিবহনের বাসগুলো চলাচল বন্ধ রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন শাখার কর্মকর্তা প্রকৌশলী সুদীপ্ত বসাক জানান, কর্পোরেশনের ১৯টি গাড়ি চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে, নিলামের প্রক্রিয়া চলছে।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে এমনিতে গণপরিবহনের সংকট। গণপরিবহনের অধিকাংশ বাস গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের রিজার্ভ ভাড়া নিয়ে সকাল-সন্ধ্যা ব্যবস্থা থাকায় নগরীতে যাত্রীদের আরো ভোগান্তি বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে মহিলা যাত্রীদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ি পাওয়া যায় না। সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মহিলা কর্মজীবীর সংখ্যা বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের পরিবহনের জন্য নিজস্ব কোনো যানবাহনের ব্যবস্থা নেই। ফলে গণপরিবহনের বাসের উপর এদের নির্ভরশীল থাকতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল, কলেজের ছাত্রীদের গণপরিবহনের বাসে করে যাতায়াত করতে হয়। এই বিশাল সংখ্যক মহিলা যাত্রীদের জন্য গণপরিবহনে পর্যাপ্ত আসন ব্যবস্থা না থাকায় তাদের নিত্যদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাস ও মিনিবাস মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজারের মতো গণপরিবহন রয়েছে। এসব গণপরিবহনে চালকের পাশে ৩/৪ জন মহিলা যাত্রী বসার ব্যবস্থা থাকে। ফলে আসন খালি না থাকায় মহিলা যাত্রীদের দাঁড়িয়ে গন্তব্যস্থলে যেতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘গণপরিবহনের বাসে মহিলাদের জন্য আসন খালি রাখা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। তবে পুরুষ যাত্রীরা অনেক সময় মানবিক কারণে মহিলা যাত্রীদের আসন ছেড়ে দেয়। মহিলা যাত্রীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৯/১০টি আসন বরাদ্দ রাখলেও সমস্যা মিটছে না। প্রয়োজন আলাদা মহিলা বাস সার্ভিস চালু।’ তিনি আরো বলেন, ‘শীঘ্রই নগরীতে গণপরিবহনে আরো ৪০টি নতুন বাস চালু করা হবে। কালুরঘাট থেকে সী বিচ পর্যন্ত এসব বাস চলাচল করবে। ৪০ সিটের এসব বাসে মহিলা যাত্রীদের জন্য ১০/১২টি আসন সংরক্ষণ থাকবে।’
গণপরিবহনে মহিলা আসন সংরক্ষণ প্রসঙ্গে কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন ইত্তেফাককে বলেন, ‘বর্তমান নীতিমালা অনুসারে মহিলাদের আসন একেবারেই অপ্রতুল। বিভিন্ন ক্ষেত্রে মহিলা কর্মজীবীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই গণপরিবহনের বাসে এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ প্রয়োজন। নারীদের যাতায়াত নিরাপদ করতে মোটরযান নীতিমালা আধুনিকায়ন করে আসন বাড়ানো সময়ের দাবি।’
নগরীতে মহিলা যাত্রীদের জন্য বিআরটিসি’র দু’টি সার্ভিস চালু রয়েছে। এর মধ্যে একটি নিউ মার্কেট থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং অপরটি বহদ্দারহাট থেকে পতেঙ্গা সি-বীচ পর্যন্ত। এসব গাড়ি নিয়মিত চলাচল করে না, চলে চালকদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। মহিলা যাত্রী পরিবহনের নিয়ম থাকলেও চালকরা পুরুষ যাত্রী পরিবহন করে থাকে। এ ব্যাপারে বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আতাহার আলী ইত্তেফাককে বলেন, ‘দু’টি সার্ভিসে প্রচুর মহিলা যাত্রী হয়ে থাকে। আমাদের গাড়ির স্বল্পতা রয়েছে। নতুন গাড়ি আসলে অন্যান্য রুটে চালু করা হবে।’
>>>দৈনিক ইত্তেফাক

No comments:

Post a Comment