'রানার
ছুটেছে তাই ঝুমঝুম ঘণ্টা বাজছে রাতে/ রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে/ রানা
চলেছে রানার...।' ডাককর্মী নিয়ে সুকান্ত ভট্টাচার্যের মরমি কবিতা ও হেমন্ত
মুখোপাধ্যায়ের গান মানুষকে এখনও অন্তরঙ্গ সহমর্মিতায় আলোড়িত করে। ডাক
বিভাগের সেই সুদিন অনেকটা বিস্মৃতিতে হারিয়ে গেছে। তথ্যপ্রযুক্তির বিস্ময়কর
অগ্রযাত্রা, ডাক পরিবহনে বেসরকারি খাতের নানা উদ্যোগ_ পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ
মোকাবেলায় অপারগ ডাক বিভাগ দিন দিন প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলছে বলে কেউ কেউ
রূঢ় মন্তব্যও করেন।
এদিকে, ডাক বিভাগের মহাপরিচালক পি সি সাহা ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিবের কাছে ডাক বিভাগ কর্তৃক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ বিষয়ে মতামতের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আবেদনটি পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সমকালকে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ডাক বিভাগ ব্যাংক স্থাপন করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। পাশাপাশি জনসাধারণকে উন্নত ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। বাংলাদেশে এখনও ব্যাপক জনগোষ্ঠী ব্যাংকিং সেবার বাইরে রয়েছে। ডাক বিভাগের ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার মতো দেশব্যাপী অবকাঠামো ও নেটওয়ার্ক রয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ডাক বিভাগ মনে করছে, একটি বিশেষায়িত ব্যাংক ডাক বিভাগ পরিচালনা করতে পারে।
ডাক বিভাগের আবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সব ডাক প্রশাসনই আর্থিক সেবার দিকে বেশি মনোযোগ ও গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশে এখনও ৭০ শতাংশ মানুষ ব্যাংক সুবিধার বাইরে রয়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ডাক বিভাগ সহজে আর্থিক খাতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। কারণ, এরই মধ্যে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে ৪৭ লাখ হিসাব রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এজেন্ট হিসেবে ব্যাংকিং খাতের বেশ কিছু কাজ ডাক বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করে আসছে। এ ছাড়া দেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাক বিভাগের কার্যক্রম রয়েছে। জাতিসংঘ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বিষয়টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত করেছে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগও এ বাস্তবতা অনুধাবন করে এরই মধ্যে আর্থিক সেবার মানোন্নয়ন ও নতুন সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যাংক চালুর সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
ডাক বিভাগ বলছে, নেদারল্যান্ডস, শ্রীলংকা, জাপান, চীন, ফিলিপাইন, ব্রাজিল, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও ভারতের ডাক প্রশাসন পোস্টাল ব্যাংক চালু করে জনগণের কাছে নিজেদের উপযোগিতা সৃষ্টির পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।
সরকার ডাক বিভাগকে এই ব্যাংক চালুর অনুমোদন দিলে 'পোস্টাল ব্যাংক' ক্ষুদ্র সঞ্চয় গ্রহণ, ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ, এসএমই অর্থায়ন, পল্লী জনগণকে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যাংকিং সেবা দিতে পারবে।
ডাক বিভাগের একটি ব্যাংক পরিচালনার মতো অবকাঠামো এরই মধ্যে রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পি সি সাহা তার চিঠিতে জানিয়েছেন, সারাদেশে নয় হাজার ৮৮৬টি ডাকঘর রয়েছে, যা পুরো ব্যাংকিং খাতের শাখার সমান। এর মধ্যে এক হাজার ৪২৬টি বিভাগীয় ও আট হাজার ৪৬০টি অবিভাগীয় ডাকঘর। এই বিশাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে বর্তমানে ডাক বিভাগে মোট ৩৯ হাজার ৮৮৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত।
এদিকে, ডাক বিভাগ কয়েক বছর ধরে লোকসান দিয়ে আসছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সংস্থাটি ২১৯ কোটি, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৩৪ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। সর্বশেষ বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লোকসান আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ডাক বিভাগকে আধুনিকায়ন করে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত সেবা পেঁৗছে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জনের পরই এই বিভাগের আলাদা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার কথা ভাবা সঙ্গত।
এদিকে, ডাক বিভাগের মহাপরিচালক পি সি সাহা ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিবের কাছে ডাক বিভাগ কর্তৃক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ বিষয়ে মতামতের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আবেদনটি পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সমকালকে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ডাক বিভাগ ব্যাংক স্থাপন করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। পাশাপাশি জনসাধারণকে উন্নত ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। বাংলাদেশে এখনও ব্যাপক জনগোষ্ঠী ব্যাংকিং সেবার বাইরে রয়েছে। ডাক বিভাগের ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার মতো দেশব্যাপী অবকাঠামো ও নেটওয়ার্ক রয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ডাক বিভাগ মনে করছে, একটি বিশেষায়িত ব্যাংক ডাক বিভাগ পরিচালনা করতে পারে।
ডাক বিভাগের আবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সব ডাক প্রশাসনই আর্থিক সেবার দিকে বেশি মনোযোগ ও গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশে এখনও ৭০ শতাংশ মানুষ ব্যাংক সুবিধার বাইরে রয়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ডাক বিভাগ সহজে আর্থিক খাতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। কারণ, এরই মধ্যে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে ৪৭ লাখ হিসাব রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এজেন্ট হিসেবে ব্যাংকিং খাতের বেশ কিছু কাজ ডাক বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করে আসছে। এ ছাড়া দেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাক বিভাগের কার্যক্রম রয়েছে। জাতিসংঘ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বিষয়টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত করেছে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগও এ বাস্তবতা অনুধাবন করে এরই মধ্যে আর্থিক সেবার মানোন্নয়ন ও নতুন সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যাংক চালুর সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
ডাক বিভাগ বলছে, নেদারল্যান্ডস, শ্রীলংকা, জাপান, চীন, ফিলিপাইন, ব্রাজিল, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও ভারতের ডাক প্রশাসন পোস্টাল ব্যাংক চালু করে জনগণের কাছে নিজেদের উপযোগিতা সৃষ্টির পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।
সরকার ডাক বিভাগকে এই ব্যাংক চালুর অনুমোদন দিলে 'পোস্টাল ব্যাংক' ক্ষুদ্র সঞ্চয় গ্রহণ, ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ, এসএমই অর্থায়ন, পল্লী জনগণকে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যাংকিং সেবা দিতে পারবে।
ডাক বিভাগের একটি ব্যাংক পরিচালনার মতো অবকাঠামো এরই মধ্যে রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পি সি সাহা তার চিঠিতে জানিয়েছেন, সারাদেশে নয় হাজার ৮৮৬টি ডাকঘর রয়েছে, যা পুরো ব্যাংকিং খাতের শাখার সমান। এর মধ্যে এক হাজার ৪২৬টি বিভাগীয় ও আট হাজার ৪৬০টি অবিভাগীয় ডাকঘর। এই বিশাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে বর্তমানে ডাক বিভাগে মোট ৩৯ হাজার ৮৮৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত।
এদিকে, ডাক বিভাগ কয়েক বছর ধরে লোকসান দিয়ে আসছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সংস্থাটি ২১৯ কোটি, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৩৪ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। সর্বশেষ বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লোকসান আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ডাক বিভাগকে আধুনিকায়ন করে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত সেবা পেঁৗছে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জনের পরই এই বিভাগের আলাদা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার কথা ভাবা সঙ্গত।
>>>সমকাল

No comments:
Post a Comment