বাংলা ভাষার পত্রিকা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের
আনন্দবাজার পত্রিকা অনেক পুরনো। অথচ ঠিক এর উল্টা একেবারে নাদান হলো এই
পত্রিকার রিপোর্টিং স্টাইল, আর ততোধিক চটুল এর শিরোনাম। ইংরেজিতে যেটাকে
‘সিলি’ বলি। তাই সিলির বাংলা যদি বেকুবি বলি, তবে এই দিকটা প্রশ্রয়ার্থে
আমরা অনেক সময় নরম করে দেখতে এমন আচরণকে বলি ‘পোলাপানি’ বা ছেলেমি।
আনন্দবাজারের শিরোনামের এমন ছেলেমির দু-একটা নমুনা দেখি, ‘জাপান-ভারতের
মহড়া চিনের কপালে ভাঁজ’, ‘কপালে ভাঁজ বাড়ছে শি চিনফিংদের’ অথবা ‘ভিয়েতনামে
ভারতীয় নৌঘাঁটি, টেনশনে চীন।’ প্রতিটি খবর সেনসেশনাল বা উত্তেজক করে তাতানো
শিরোনাম দেয়া। সম্ভবত কলকাতার পাঠক পত্রিকা পড়তে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে অথবা
পেটের দায়ে তাদের সময় নেই এমন কিছু। হয়তো তাই তাদের মন কাড়তে গিয়ে এই দশা।
এগুলো ছাড়া সম্প্রতি আনন্দবাজারের আরেক উপদ্রব আমাদের সইতে হচ্ছে। এ নিয়ে
আগে এই কলামে কিছু কথা বলেছিলাম। আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘বাংলাদেশ’ বলে আরেক
উপবিভাগ চালু হয়েছে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ওই পাতার নিয়মিত লেখক হলেন অমিত
বসু। অমিত বসু যা লেখেন তা কি কোনো ওপেন-এডিটোরিয়াল কলাম, নাকি পত্রিকা
রিপোর্ট তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল; কিন্তু ওই লেখার তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা
এখানে বলব। একটা বৈশিষ্ট্য এখন নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, ‘শেখ হাসিনার
নেতৃত্বে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে’। এ কথা সেখানে বারবার ফেরি করে বলতে হবে।
বাংলাদেশীদের পাঠকদের েেত্র এতে সমস্যা হলো, ‘ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে’ এ কথা
যদি বাংলাদেশী মিডিয়াগুলোর চেয়ে বেশি জোরে বা ওপর দিয়ে আনন্দবাজার বলছে মনে
হয়, তবে সে প্রপাগান্ডায় পাঠকের চোখে শেখ হাসিনার প্রশংসার বদলে তা শেখ
হাসিনার প্রতি সন্দেহ হিসেবে হাজির হতে পারে। সম্ভবত তাই হওয়া শুরু হয়েছে।
অমিত বসুর লেখার আরেক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে চীনা ব্যাশিং। বাংলা করে বললে
চীনবিরোধী প্রপাগান্ডা অথবা চীন খারাপ বা শত্রু এমন নেতিবাচকভাবে চীনকে
দেখানো। এই বৈশিষ্ট্যও বিরাট সমস্যার। কারণ চীন ভারত রাষ্ট্রের নিজ
স্বার্থের চোখে যা, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চোখেও তা কখনো হবে না, হয় না। মোদি
সরকারের চোখে চীন যা, হাসিনা সরকারের চোখে তাই হবে না। আনন্দবাজারের ভারতের
চোখ দিয়ে তবে একচোখে দেখে চীনকে দানব বানিয়ে প্রপাগান্ডা করছে। সেটা এমনকি
শেখ হাসিনারও অবস্থান নয়। হতে পারে না, হওয়ার কোনো কারণ নেই। ফলে এই
বৈশিষ্ট্যও বাংলাদেশের পাঠকের চোখে আনন্দবাজারের এক জোরজবরদস্তি হিসেবে
হাজির হয়েছে। তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো, পাকিস্তানবিরোধী প্রপাগান্ডা। এর প্রধান
সুর হলো, উন্নয়নে পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ ভালো করছে। সে তো অনেক েেত্র
করছেই। তা বোঝার একটা চিহ্ন হতে পারে ডলারের সাথে বিনিময় হারে পাকিস্তানি
রুপির চেয়ে আমাদের টাকার মান শক্তিশালী। এ ছাড়া জাতিসঙ্ঘের হিউমেন
ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে আমরা পাকিস্তানের চেয়ে অনেক ওপরে অবস্থান করি; কিন্তু
সমস্যা হলো সেখানে আমরা শুধু পাকিস্তান নয়, ভারতের চেয়েও ওপরে অবস্থান
করি। ফলে যদি ইঙ্গিত করা হয় যে, পাকিস্তানের চেয়ে উন্নয়নে বাংলাদেশ ভালো।
অতএব পাকিস্তান একটা খারাপ রাষ্ট্র বা পাকিস্তানি সরকার বা মানুষ খারাপ এমন
নেতি ধারণা; তবে ঠিক একই যুক্তিতে ভারতও খারাপ, সেই ইঙ্গিতও দেয়া হয়ে
যাবে। শুধু এখানেই নয়, আনন্দবাজারের একই পোলাপানি ও ভাষ্য আরো আছে। একবারের
গল্পে অমিত বসু লিখছেন, ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশ বিরাট উন্নতি করেছে।
যদিও
এমনভাবে তা ইঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন, এটা বাংলাদেশের চলতি সরকারের
কৃতিত্ব। অথচ কথাটির কোনো সত্যতা নেই। কারণ সবাই জানে, এর মূল কৃতিত্ব ১৯৮২
সালের গৃহীত ও অনুমোদিত ওষুধ নীতি। ওই নীতির কারণে সেকালেই প্রায় ৩০টির
মতো বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানি দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছিল। তাদের খেদিয়ে দেশের
পুরো বাজার সেই থেকে সুযোগ্য দেশীয় কোম্পানির দখলে গিয়েছে। এই
কোম্পানিগুলোই বিকশিত হয়ে এখন আমেরিকা ইউরোপে ওষুধ রফতানিকারক বাংলাদেশীয়
কোম্পানি। লেখার এক ফাঁকে অমিত বসু এর কৃতিত্ব দিয়েছেন বেক্সিমকোকে। এই
দাবিও অসত্য। কারণ ওষুধ নীতি চালুর শুরুর বছরগুলোয় বেক্সিমকো এই নীতির
বিরোধিতা করেছিল। কারণ বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানিগুলো গুটিয়ে দেশ ছেড়ে
যাওয়ার আগে শেষ চেষ্টা হিসেবে বেক্সিমকোকে শিখণ্ডী বানিয়ে সামনে রেখে তারা
ওষুধ নীতি প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছিল। এ কাজ তারা করেছিল সে সময় ওষুধ
শিল্প মালিক সমিতির সম্মেলনে বেক্সিমকোকে সভাপতি ও তাদের স্বার্থের
মুখপাত্র বানিয়ে নিয়েছিল। প্রথম কয়েক বছর পরে ধীরে ধীরে বহুজাতিক
কোম্পানিগুলো গুটিয়ে চলে গেলে বেক্সিমকোর হুঁশ হয় যে, আসলে এই ওষুধ নীতি
বেক্সিমকো নিজের স্বার্থের পরে। ধীরে ধীরে শীর্ষ দুই ওষুধ কোম্পানির একটা
হয়ে ওঠে বেক্সিমকো। অবশ্য চলতি আমলে মার্কেট শেয়ারের দিক থেকে বেক্সিমকোর
অবস্থান সম্ভবত তৃতীয়। এ ছাড়া অমিত বসুকে আরেকটা কথা জেনে রাখতে হবে।
১৯৮২
সালের ওই ওষুধ নীতিতেই বাংলাদেশে প্রথম ফেনসিডিল ওষুধ নয় বলে নিষিদ্ধ করা
হয়। এটা আফিন, নেশার বস্তু হিসেবে দেশের ওষুধ কারখানায় উৎপাদনও নিষিদ্ধ হয়ে
যায়। আর এই সুযোগে সীমান্তের ওপারে ভারতের প্রশাসনের সহযোগিতায় তথাকথিত
ওষুধ কোম্পানি খুলে ফেনসিডিল বানিয়ে বাংলাদেশে চোরাচালানিতে ভরিয়ে ফেলা
হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস করার কারণ নেই যে, ভারত গোয়েন্দা প্রশাসন এসব খবর
রাখে না। আচ্ছা, অমিত বসু যদি এখন ২০১৬ সালে এসে বাংলাদেশের ওষুধ নীতিকে
প্রশংসা করতে চান, তা করতেই পারেন; কিন্তু এটা যদি কেবল শেখ হাসিনার
কৃতিত্ব বা পিঠ চাপড়িয়ে নিজ দেশের পে কোনো সুবিধা নেয়ার অ্যাসাইনমেন্ট হয়,
তবে তা এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। কারণ এর অর্থ হবে বাংলাদেশের ওষুধ
নীতির সুফল বা ভালো দিক তাহলে অন্তত অমিত বসু জানতেন, মানেন। যদি জানতেন
তবে প্রশ্ন উঠবে তিনি কি ভারত সরকারকে কখনো নিন্দা করেছেন সীমান্তে
ফেনসিডিল বানিয়ে তা চোরাপথে বাংলাদেশ পাঠানোর বিরুদ্ধে। আমাদের জানা নেই। এ
ছাড়া এ প্রশ্ন তো আছেই যে, যারা গরু চোরাচালান বন্ধে সম ও সফল তাদের
ফেনসিডিল চোরাচালান বন্ধে ভূমিকা নেই কেন? এর বিরুদ্ধে অমিত বসু অথবা
আনন্দবাজারের অবস্থান কী? কখনো কি তারা কিছু করেছেন? সীমান্তের ওপারে
ফেনসিডিলের কারখানাগুলোকে ভারতের গোয়েন্দা বিভাগ চেনে না, জানে না অথবা এক
ঘণ্টার মধ্যে সবগুলোকে বন্ধ করতে পারে নাÑ এটা যদি আমরা মনে করি তবে তা ওই
বাহিনীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে। সেসব থাক, আমরা বরং বাংলাদেশের ওষুধ
নিয়ে অমিত বসুর আরো কিছু পোলাপানি দেখি। ওষুধ নিয়ে এই গল্পের শুরুতে তিনি
বলছেন, ১৯৭২ সালের পরের বছরগুলোয় ওষুধ সঙ্কটে আমরা নাকি পাকিস্তান থেকে
ওষুধ কিনতে চাইলেও পাকিস্তান বিক্রি করতে রাজি হয়নি। অমিত বসুর এই লেখা গত
২৪ আগস্টের, শিরোনামÑ “প্রত্যাখ্যানের ‘বদলা’! এখন দুনিয়া দাপাচ্ছে
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প”। তিনি লিখছেন, ‘পাকিস্তান দিতে পারত। তারা দেয়া
বন্ধ করেছে। প্রকারান্তরে বলতে চাইছে, বোঝো এবার স্বাধীন হওয়ার জ্বালা।’
রেশনিং আর টিসিবির সেই অর্থনীতির কালে সে সময় হয়তো অমিত বসুর কথা সত্য ছিল,
ফলে এ নিয়ে বলার কিছু নেই; কিন্তু এর পরে তিনি লিখছেন, ‘এই মুহূর্তে
বিশ্বের অনুন্নত ৪৮ দেশের মধ্যে ওষুধ উৎপাদনে শীর্ষে বাংলাদেশ। ২৫৭
কোম্পানির ২৪ হাজার ব্র্যান্ডের ওষুধ। বছরে ২৫ হাজার কোটি টাকার ওষুধ দেশের
চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে যাচ্ছে। রফতানি বাড়ছে দ্রুত। কর্মসংস্থান দুই লাখের।
উল্টো দিকে এখন আতান্তরে পাকিস্তান। তাদের ওষুধ শিল্পে ভাটার টান। অভাব
মেটাতে বাংলাদেশের কাছে ওষুধ চাওয়ারও মুখ নেই।’ অমিত বসুর শেষ বাক্যটা
দেখুন; পোলাপানির এর চেয়ে ভালো উদাহরণ আর কী হতে পারে! তিনি লিখছেন, ‘ওষুধ
চাওয়ারও মুখ নেই’। এটা কি গ্লোবাল ক্যাপিটালিজম ব্যবস্থার কালে দুই
রাষ্ট্রের ওষুধ কেনাবেচা লেনদেন বাণিজ্যের বিষয় নয়? এটা কেনাবেচা। ফলে
এখানে ‘মুখ নেই’ বলার কী আছে? এ ছাড়া ‘চাওয়া’ মানে কী? ভিা? তা কোনোমতেও
নয়। মাগনা তো আর চাচ্ছে না। এটা বেচা আর কেনা। এটা তো আপনার পাশের বাসা
থেকে মাগনা এক বাটি চায়ের চিনি চাইতে যাওয়ার ‘মুখ নেই’-এর ঘটনা নয়।
আন্তর্জাতিক লেনদেন বাণিজ্যকে ‘মুখ নেই’ ধরনের কাণ্ড হিসেবে উপস্থাপনÑ এটা
পেটি মধ্যবিত্তের স্বভাব। এটাই পোলাপানি। বাংলাদেশে পাকিস্তানবিদ্বেষ বা এই
অর্থে যেকোনো বিদ্বেষ জাগানোর চেষ্টা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। তবে
পাকিস্তান-বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থবিরোধ থাকা খুবই স্বাভাবিক।
দুনিয়ার যেকোনো দুই রাষ্ট্রের মধ্যে তা থাকেই। কারণ তারা আলাদা রাষ্ট্র।
একইভাবে পাকিস্তানের মতো চীনকে নিয়ে অমিত বসুর আরেক পোলাপানি লেখা আছে, ১
সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে। অমিত বসু লেখাটা শুরু করছেন এভাবেÑ ‘চেনায় অসঙ্গতি
চীনের। বাংলাদেশকে ভুলেই ছিল।
ভেবেছিল, পাকিস্তানকে মাথায় নিয়ে নাচলেই
চলবে। দণি এশিয়ায় বাজিমাত হবে। উৎপাত ভারতে। ভুল ভেঙেছে। সার্কের সব দেশ
বাংলাদেশের পাশে। পাকিস্তান কার্যত একঘরে। উন্নয়নে বাংলাদেশ থেকে অনেক
পিছিয়ে পড়েছে।’ ‘বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে সঙ্গী জাপান। ঢাকার
মেট্রোরেল নির্মাণে জাপানি প্রকৌশলীদের অভিজ্ঞ হাত। সাথে অর্থনৈতিক
সহযোগিতা। ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে জঙ্গি হাঙ্গামায় জাপানি নাগরিকদের
মৃত্যুতে মর্মাহত হলেও জাপান বাংলাদেশের পাশ থেকে সরে যায়নি। বাংলাদেশের
প্রতি জাপানের অতিরিক্ত সহমর্মিতা উদ্বেগ বাড়িয়েছে চীনের। জাপানের সাথে
চীনের সম্পর্ক মোটেও ভালো নয়। দণি চীন সাগরে বিতর্কিত দ্বীপের দখল নিয়ে
বিরোধ তুঙ্গে। জাপান সংবিধান সংশোধন করে, প্রতিরা বাজেট বাড়িয়ে চীনকে শিা
দিতে চাইছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশকে দূরে রাখা কূটনৈতিক ভুল। ঢাকার মেট্রোতে
জাপান কেরামতি দেখাচ্ছে দেখাক। চীনও কম যায় না। পদ্মা সেতুতে রেললাইন তারাই
বসাবে। কাজটা সামান্য নয়। জাপান চমকাতে বাধ্য।’ বাংলাদেশ পদ্মা সেতুর ওপর
দিয়ে যশোর পর্যন্ত রেল চালু করার প্রকল্পে অবকাঠামো ঋণ নিতে যাচ্ছে চীনের
কাছ থেকে। একইভাবে জাপানের কাছ থেকে মেট্রোরেল প্রকল্পে ঋণ নিয়েছে। এভাবে
চীন বা জাপানের সাথে বাংলাদেশের অবকাঠামো ঋণচুক্তির প্রকল্পে এগুলোকে চীন
বা জাপানের বাংলাদেশকে দেখানো ‘সহমর্মিতা’ বলে দেখানো অমিত বসুর অর্থহীন
কথা। এগুলো সঙ্কীর্ণ মধ্যবিত্তের ঈর্ষার চোখে দেখা। কারণ এগুলো আসলে
দুনিয়ায় গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের নিয়মশৃঙ্খলা অর্ডারের মধ্যে বিভিন্ন
রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের অবকাঠামো ঋণচুক্তি বা বাণিজ্যিক চুক্তি। এগুলো
দেখে এখানে চীনের বিরুদ্ধে জাপানের অথবা জাপানের বিরুদ্ধে চীনের উদ্বেগ,
ঈর্ষা বোধ করার কিছু নেই। আসলে অমিত বসু বোঝাতে চাইছেন, চীন পাকিস্তানের
গোয়াদরে গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে সেখান থেকে (দণি থেকে উত্তরে) প্রায় পুরো
পাকিস্তান পেরিয়ে চীনের পশ্চিমের অঞ্চলে আমদানি-রফতানির মালামাল নিতে এক
সড়ক যোগাযোগের প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যাতে চীন বিনিয়োগ করবে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন
ডলার। এই প্রকল্পের কথা মনে রেখে অমিত বসু চীনকে খোঁচা দিয়ে বলছে, সে
নাকি বাংলাদেশ ভুলে একা পাকিস্তানকে নিয়ে আছে। অথচ এগুলো শ্রেফ বিদ্বেষ
জাগিয়ে ঈর্ষামূলক অপ্রয়োজনীয় উপস্থাপন ও ঘৃণা ছড়ানোর কথা। প্রথমত, এটা
চীনের দিক থেকে কাউকেই খায়খাতির নয়Ñ একেবারে খাস বাণিজ্য বিনিয়োগ। ফলে
প্রেমে ভুলে যাওয়া বা কাউকে মনে রাখার মতো কিছু নয়। আর চীনের বিনিয়োগ সমতায়
এমন কোনো স্বল্পতা বা টানাটানি নেই যে চীন পাকিস্তানকে বিনিয়োগ দিলে এরপর
বাংলাদেশকে দিতে টান পড়বে। চীন এখনকার দুনিয়ার সবচেয়ে বড় তিন ট্রিলিয়ন মানে
৩০০ বিলিয়ন ডলার সঞ্চিত উদ্বৃত্ত নিয়ে বসে থাকা অর্থনীতির রাষ্ট্র। বরং
ফ্যাক্টস হলো, বাংলাদেশেও চীন গভীর সমুদ্রবন্দর ও একইভাবে সড়ক যোগাযোগে
(তবে এবার) চীনের পূর্ব দিকে পৌঁছতে সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো গড়তে আগ্রহী।
চীনের সেই আগ্রহে বাংলাদেশ নানা কারণে রাজি হতে পারেনি। ফলে এই বিষয়গুলোকে
চীনের বাংলাদেশকে উপো অথবা বাংলাদেশে চীনকে নেতিবাচক করে অমিত বসুর হাজির
করার কিছু নেই। এ কথা সত্যি, চীনের সাথে ভারতের সীমান্ত নিয়ে টেনশন আছে।
চীন-ভারতের স্বার্থের ঝগড়ার দিকগুলো মুখ্যত হলো সামরিক ও অর্থনৈতিক
স্ট্র্যাটেজিক ধরনের; কিন্তু সেজন্য বাংলাদেশকে
No comments:
Post a Comment