Sunday, October 9, 2016

ম্যাথিউয়ের তাণ্ডবে হাইতিতে নিহত বেড়ে ৮৭৭

হারিকেন ম্যাথিউয়ের তাণ্ডবে হাইতির দক্ষিণাঞ্চলীয় জেরেমি
শহর লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ক্যারিবীয় এ দেশটির গ্রাম্য
এলাকার বাড়ি-ঘর ভেঙে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে সব কিছু। শুক্রবারের ছবি -এএফপি
ক্যারিবীয় দেশ হাইতিকে লণ্ডভণ্ড করার পর শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হেনেছে হারিকেন ম্যাথিউ। যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনায় দুই ক্যাটাগরিতে পরিণত হয়ে আঘাত হেনেছে ম্যাথিউ। এর প্রভাবে ওই অঞ্চলে প্রবল ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। শনিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টির আঘাতে হাইতিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭৭ এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিহত হয়েছেন ৬ জন। এর তাণ্ডবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৪ লাখেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। খবর এএফপির। যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারী লাখ লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ এবং বিভিন্ন নগরীতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এর আগে হাইতি, জ্যামাইকা, কিউবা, ডোমেনিকান প্রজাতন্ত্র ও বাহামাসেও ম্যাথিউ তাণ্ডব চালায়। হারিকেনের আঘাতে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে ৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। হাইতির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ত্রাণকর্মীরা। ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলার মেয়র লেনি কারি বলেন,
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা ম্যাথিউকে ১শ’ বছরের মধ্যে অন্যতম বলে উল্লেখ করেছেন। ফ্লোরিডার জাতীয় হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানায়, ম্যাথিউয়ের প্রভাবে ঘণ্টায় ১১০ মাইল বেগে ঝড় বয়ে যায় এবং প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। এছাড়া ১০ ফুট উঁচু ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, এটা এখনও বিপজ্জনক হারিকেন হিসেবে অবস্থান করছে। ফ্লোরিডার উপকূলীয় এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর দিকে জর্জিয়া ও ক্যারোলাইনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এনএইচসি জানায়, ম্যাথিউ স্থানীয় সময় শনিবার রাতের মধ্যে ফ্লোরিডার উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও জর্জিয়ার উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ম্যাথিউ ক্রমেই দুর্বল হয়ে এখন দুই ক্যাটাগরির ঝড়ে পরিণত হয়েছে। ম্যাথিউ ঝড়ে বিভিন্ন নগরীতে প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। গাছপালা ভেঙে পড়ে। বড় বড় ভবনগুলো কেঁপে ওঠে এবং স্বাভাবিকভাবে ব্যস্ত জনপ্রিয় এলাকাগুলো ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়। ম্যাথিউয়ের আঘাতে কেনেডি স্পেস সেন্টারের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেন্ট অগাস্টিনের বিভিন্ন রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়। গাছ পড়ে বা বন্যার পানি জমে অনেক রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গোটা রাজ্যের ১৪ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

No comments:

Post a Comment