নারীদের নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবমাননাকর
মন্তব্যের অডিও ফাঁসের পর যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান শিবিরে তীব্র বিদ্রোহ
দেখা দিয়েছে। দাবি উঠেছে দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে
সরিয়ে দেয়ার। রিপাবিলকান শিবিরে জোর দাবি উঠেছে- ট্রাম্পের পরিবর্তে দলের
ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মাইক পেন্সকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দেয়া হোক।
খবর ওয়াশিংটন পোস্টের। ২০১২ সালে রিপাবলিকান দল থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী
মনোনয়ন পাওয়া মিট রমনি বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্যে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত আমেরিকার’
চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। তিনি নারীদের আক্রমণ করেছেন। ইতিমধ্যে ট্রাম্পের
অশ্লীল মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের
স্পিকার পল রায়ান। শুক্রবার রাতে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, উইসকনসিনে
রিপাবলিকানদের আয়োজিত ইভেন্টে আর অংশ নিচ্ছেন না। উটাহ রাজ্যের সিনেটর মাইক
লি ট্রাম্পকে সমর্থন দেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া ট্রাম্পের
পরিবর্তে রিপাবলিকান দলের জন্য নতুন প্রার্থী খুঁজতে বলেছেন মাইক। উটাহ
রাজ্যের রিপাবলিকান গভর্নর গ্যারি হারভার্ট বলেছেন, এরপর থেকে তিনি আর
ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না, তার পক্ষে ভোট চাইবেনও না। রিপাবলিকান ন্যাশনাল
কমিটির চেয়ারম্যান রেইন্স প্রেইবাস বলেন, এখানে (ফঁাঁস হওয়া অডিওতে) যেভাবে
বলা হচ্ছিল, কোনো নারীকে নিয়ে এভাবে বলা যায় না, কখনও না।
সিনেটে
রিপাবলিকানদের নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেছেন, ট্রাম্পের ক্ষমা চাইতে হবে,
সরাসরি, সব নারী এবং মেয়ের কাছে। উটাহ রাজ্যের রিপাবলিকান দলের প্রতিনিধি
পরিষদের সদস্য জ্যাসন শ্যাফেটস বলেন, কখনও কী এ ধরনের জঘন্য মন্তব্য করা
সম্ভব? তিনি আরও জানিয়েছেন, তিনিই তো নয়, এমনকি তার মেয়েকেও ট্রাম্পকে ভোট
দিতে দেবেন না। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য কেভিন ম্যাককারথি
বলেন, ট্রাম্প ক্ষমা পাওয়ার অযোগ্য। এছাড়া ভার্জিনিয়ার প্রতিনিধি পরিষদের
সদস্য বারবারা কমস্টোক, কলোরাডো মাইক কফম্যানও ট্রাম্পকে সরিয়ে পেন্সকে
মনোনয়ন দেয়ার জন্য দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রিপাবলিকান দলের জনমত
জরিপকারী ফ্রাঙ্ক লুন্টজ বলেন, ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে ইতিমধ্যে ১০ হাজার
ভোটারের সমর্থন হারিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, প্রতি ঘণ্টায় ট্রাম্পকে খুব
সাবধানতার সঙ্গে পা ফেলতে হবে। তবে এ ঘটনায় ট্রাম্পকে সরানো হবে না এটা
মোটামুটি নিশ্চিত। মার্কিন নির্বাচন প্রজেক্টের হিসাবে, ২০১৬ সালের
নির্বাচনে ইতিমধ্যে নর্থ ক্যারোলিনায় ৮ হাজার এবং ফ্লোরিডায় ৫ হাজারসহ ৩৪
হাজার ভোটার ভোট দিয়েছেন। তবে এ ভোটগুলোর মধ্যে সব ট্রাম্পের সমর্থনে না
হলেও তিনি যে প্রার্থী থাকছেন এটা চূড়ান্ত।
ট্রাম্প
হবেন ‘মুসোলিনি’ : যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী
ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হলে তিনি ‘আমেরিকার মুসোলিনি’ হবেন বলে হুশিয়ারি
দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বেস্টসেলার লেখক ডগলাস কেনেডি। বার্তা সংস্থা
এএফপির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে নারীবিদ্বেষী ও মানববিদ্বেষী হিসেবে
অভিহিত করেন তিনি। কেনেডি বলেন, ‘ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার কোনো চান্স
নেই। আর যদি কোনোভাবে হয়েও যান, তবে তিনি হবেন আমেরিকার মুসোলিনি।’ কেনেডির
মতে, ট্রাম্প যে এখনও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ছেন, এটা প্রমাণ করে-
বিশ্বব্যাপী উগ্র ডানপন্থীদের প্রসার ঘটছে। তার মতে, এটা শুধু আমেরিকার
সমস্যা নয়, পৃথিবীতে এখন উগ্ররা জনপ্রিয় হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করতে
ব্রিটেনের গণভোটকে ‘ব্রেক্সিট বিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করনে তিনি। ডগলাস
কেনেডির ১২টি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী সেগুলো ২২টি ভাষায়
অনূদিত হয়েছে। এর মধ্যে বিখ্যাত উপন্যাস হচ্ছে ‘দ্য বিগ পিকচার’ ও ‘দ্য
পারসুট অব হ্যাপিনেস’। ৬১ বছর বয়সী কেনেডি বলেন, ‘ট্রাম্পের কোনো সংস্কৃতি
নেই, পড়াশোনা নেই। তিনি নারীবিদ্বেষী ও মানববিদ্বেষী।’ ডেমোক্রেটিক
প্রার্থী হিলারিকে ভোট দেয়ার কথা জানিয়ে এই লেখক বলেন, ‘তিনি একজন মহান
প্রেসিডেন্ট হবেন।’ ‘ট্রাম্পের নাকে ঘুষি মারব’ : ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাকে
ঘুষি মারতে চেয়েছেন অস্কারবিজয়ী অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো। রিপাবলিকান
প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে এই হলিউড তারকা বলেন,
ট্রাম্প
একজন পুরুষ বেশ্যা। তার মতো বাজে লোক আর নেই। সে জানে না কখন কী বলতে হয়। এ
সময় ট্রাম্পকে আমেরিকার ‘জাতীয় বিপর্যয়’ ও ‘দেশের জন্য অপমানজনক’ ব্যক্তি
বলে অভিহিত করেন তিনি। নতুন জরিপে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে হিলারি : মার্কিন
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র একমাস বাকি থাকতে নতুন জরিপে দেশব্যাপী পাঁচ
পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। প্রতিদ্বন্দ্বী
রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায় তার জনপ্রিয়তা বেড়ে চলেছে বলে
ওই জরিপে জানানো হয়েছে। কুইনপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয় পারিচালিত জরিপের ফল
শুক্রবার প্রকাশিত হয়। শনিবার বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, হিলারির প্রতি
জনসমর্থন ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৪০ শতাংশ
মানুষ। চতুর্মাত্রিক এ জরিপে গ্যারি জনসন ও জিল স্টেইন ধারাবাহিকভাবে
জনপ্রিয়তার পরবর্তী ধাপে রয়েছেন। গত মাসে কুইনপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের করা
জরিপে ট্রাম্পের চেয়ে চার পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন হিলারি। ২৬ সেপ্টেম্বর প্রথম
প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের পর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
হিলারি ধীরে ধীরে স্বতন্ত্র ভোটারদের মন জয় করছেন বলে জরিপে মন্তব্য করা
হয়েছে। রোববারের বিতর্কে হিলারি জিতলে তিনি আরেক দফা সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের
নিজের দিকে টানতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment