গাজীপুরের
কালিয়াকৈরে স্কুলছাত্রীকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত বখাটে আরাফাত আত্মহত্যা
করেছে। মঙ্গলবার রাতে সে আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। বুধবার
সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। প্রেমের
প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্কুলছাত্রী মুন্নিকে (১৫) তার নিজ ঘরে সোমবার
দিনগত রাতে আরাফাত শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠে। এরপর থেকে আরাফাত
পলাতক থাকে। মুন্নি স্থানীয় চাপাইর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
সে চাপাইর ইউনিয়নের কুতুবদিয়া গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী শহীদের মেয়ে।
অভিযুক্ত
আরাফাত একই এলাকার আতাউর সরকারের ছেলে। মুন্নি খুনের পর স্থানীয়রা
যুগান্তরকে জানান, মঙ্গলবার ভোরে আরাফাতকে মুন্নিদের বাড়ি কাছে দেখতে পান
মুন্নির মা। এতো সকালে সে এখানে কি করছে এমন জিজ্ঞাসা করতেই আরাফাত দৌঁড়ে
পালিয়ে যায়। পরে মুন্নির ঘরে গিয়ে খাটের উপর গলায় ওড়না দিয়ে প্যাচানো
অবস্থায় মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার এসআই
আব্দুল্লাহ আল তাবির মুন্নির নিজ ঘরের বিছানার উপর থেকে গলায় ওড়না
প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে। মুন্নির ভাই রিপন জানান, স্কুলে
যাওয়া-আসার পথে চাপাইর এলাকার আতাউর সরকারের ছেলে আরাফাত সরকার মুন্নিকে
উত্যক্ত করে আসছিল। এ ব্যাপারে আরাফাতের স্বজনদের কাছে বিচার দিলেও তারা
বিষয়টি আমলে নেননি। এ নিয়ে আরাফাত বরং মুন্নি ও তার বাবা শহীদকে হত্যার
হুমকী দেয়। আরাফাতের যন্ত্রনায় মন্নিকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল
জানিয়ে তার ভাই আরও জানান, কিন্তু ১ নভেম্বর পরীক্ষা থাকায় সে ক’দিন ধরে
স্কুলে যাচ্ছিল। এ সময় সে মুন্নিকে নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। মুন্নির
মা অভিযোগ করেন, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে
পরিকল্পিত ভাবে শ্বাসরোধ করে মুন্নিকে হত্যা করেছে আরাফাত।

No comments:
Post a Comment