Wednesday, October 26, 2016

মিয়ানমারে ফের ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ১৫ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক হামলার জের ধরে সংখ্যালঘু মুসলমানদের বিরুদ্ধে এই নির্মম পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। শুধু রোববারই মিয়ানমারের একটি গ্রাম থেকে ঘরছাড়া করা হয় ২ হাজার মানুষকে। এদিকে, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দাবি করেছে জাতিসংঘ। খবর রয়টার্সের।
৯ অক্টোবর বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কয়েকটি চৌকিতে হামলায় ৯ জন পুলিশ নিহত হওয়ার পর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সে অঞ্চলে ত্রাণকর্মী এবং সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। ওই হামলার জন্য রোহিঙ্গা মুসলমানদের দায়ী করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এর জের ধরে সে এলাকায় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। মিয়ানমারের সেনারা রোববার মধ্যাঞ্চলীয় মান্দালাই প্রদেশের ‘কি কান পিন’ গ্রামে প্রবেশ করে। এ সময় তারা সেখানকার সব মুসলিম অধিবাসীকে গ্রামটি ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। এ সময় জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছাড়া হতভাগ্য রোহিঙ্গাদের অন্য কিছু নিতে দেয়া হয়নি। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা ইউএন অফিস ফর কোয়ারডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ইউএনওসিএইচএ) জানায়, এখন পর্যন্ত মোট ১০ থেকে ১৫ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। বর্তমানে এসব মুসলমান পার্শ্ববর্তী বন ও ধান ক্ষেতে লুকিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। নিজ ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হওয়া একজন মুসলমান সোমবার জানান, ‘গতকাল বিকালে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে আমার পরিবারের সব সদস্যসহ প্রায় ২০০ মানুষ ধান ক্ষেতে অবস্থান করছি। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। সেনারা গ্রামে ঢুকে আমাদের দ্রুত ঘরবাড়ি ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে বলে, কথা না শুনলে তারা আমাদের গুলি করবে।’
মিয়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, সরকারের পক্ষে ওই এলাকার কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। কারণ এলাকাটি সেনা অভিযানের একটি ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত। এদিকে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে গ্রেফতার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তদন্তের জন্য সে দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা ইউএনওসিএইচএ’র বিশেষজ্ঞরা। গত দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত নিয়ে তদন্তের জন্য এ প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। বহু কূটনীতিক এবং সাহায্য সংস্থা রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে এমন কিছু বলতে চায় না, যেটি মিয়ানমার সরকারকে বিব্রত বা রাগান্বিত করতে পারে। রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বৌদ্ধ এবং সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে অস্থিরতা চলছে। সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সংঘাত শুরুর পর থেকে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে যাতায়াত সীমিত করে দিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। কিন্তু রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের বিভিন্ন ছবি এবং ভিডিও নানাভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। তবে সেসব ভিডিও কিংবা ছবি নিরপেক্ষ সূত্র থেকে যাচাই করা রীতিমতো অসম্ভব।

No comments:

Post a Comment