Monday, October 10, 2016

বিপর্যয়ের মুখে ট্রাম্পের দল

আধুনিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্র্রাচীন রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টি। আর এটা ঘটছে প্র্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে। সিএনএন জানায়, শুক্রবার রিপাবলিকান প্র্রেসিডেন্ট প্র্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারীদের নিয়ে চরম অশ্লীল বক্তব্য ফাঁসের পর রিপাবলিকান দলে চরম বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের একটি বড় অংশই ধনকুবের ট্রাম্পের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অনেকে আবার ট্রাম্পকে বাদ দেয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। ট্রাম্পের নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ফাঁসের পর তার ওপর থেকে সমর্থন প্র্রত্যাহার করে নিয়েছেন সাবেক রিপাবলিকান প্র্রেসিডেন্ট প্রার্থী জন ম্যাককেইন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎজা রাইস। ১১ বছর আগে দেয়া একটি নারীবিদ্বেষী বক্তব্য শুক্রবার ফাঁস হওয়ার পর তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প।
২০০৫ সালে ধারণ করা অডিও সাক্ষাৎকারটি শুক্রবার মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট ফাঁস করে। মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এনবিসির উপস্থাপক বিলি বুশকে টেলিফোনে ওই ‘বিতর্কিত’ সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। ফাঁস হওয়া অডিও সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তারকারা নারীদের নিয়ে যা খুশি করতে পারে আর এতে ওই নারীরাও বাধা দেবে না।’ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এক বিবাহিত অভিনেত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে তার আগ্রহের কথাও জানান। মিস ইউনিভার্সসহ কয়েকটি সৌন্দর্য প্র্রতিযোগিতার অন্যতম আয়োজক ট্রাম্প সুন্দরী নারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের আকাক্সক্ষাও জানিয়েছিলেন। শুক্রবার সেই মন্তব্য ফাঁস হওয়ার পর বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা বলেছেন, তারা ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না। তারই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ জন ম্যাককেইন এবং কন্ডোলিৎজা রাইসও ট্রাম্পের ওপর থেকে সমর্থন প্র্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। ম্যাককেইন বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্যের কারণে ‘তার প্র্রতি শর্তসাপেক্ষে সমর্থন দেয়াও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর ক্ষুব্ধ হয়ে রাইস বলেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে! ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া উচিত নয়। তার সরে দাঁড়ানো উচিত’। বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা বলেছেন, তারা ট্রাম্পের পরিবর্তে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট প্র্রার্থী মাইক পেন্সকে ভোট দিতে চান। এর আগে অডিও টেপটি ফাঁসের পর পরই মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার পল রায়ান জানান, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে উইসকনসিনের নির্বাচনী প্র্রচারণায় অংশ নেবেন না।
তিনি বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য শুনে তিনি ‘অসুস্থবোধ করছেন’। উতাহ অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান গভর্নর গারি হারভার্ট জানান, তিনি ট্রাম্পের সমাবেশে যাবেন না, তাকে ভোটও দেবেন না। আগেই মিট রমনি, জন কেসিক, জেব বুশ, লিন্ডসে গ্রাহামসহ অনেক সিনিয়র রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন। শনিবার তার ‘বিতর্কিত’ বক্তব্যের জন্য এক ভিডিও বিবৃতিতে ক্ষমা চেয়েছেন ট্রাম্প। বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যা বলেছি এবং করেছি তার জন্য অনুশোচনায় ভুগছি। যারা আমাকে কাছ থেকে চেনেন, তারা জানেন, এসব কথা আমার সঙ্গে যায় না। আমি তা বলেছি, আমি ভুল ছিলাম, এজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কখনোই বলছি না, আমি একজন নিখুঁত মানুষ- যা আমি নই, তা হওয়ার চেষ্টাও আমি করিনি। আমি কেবল আগামী দিনে আরও ভালো একজন হতে চাই।’ ওই অডিও ফাঁসের পর ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রেসিডেন্ট প্র্রার্থী হিলারি ক্লিনটন তার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি টুইটারে লেখেন, ‘এটা ভয়াবহ! আমরা এমন একজনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে দিতে পারি না।’ ট্রাম্প তার বিবৃতিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের যৌন সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, প্রকৃতপক্ষে বিল ক্লিনটন নারীর প্র্রতি অবমাননা প্র্রদর্শন করেছেন। আর ওই নারীকে হিলারি গালাগালি করেছেন, আক্রমণ করেছেন, তাকে নিন্দা জানিয়েছেন। আগামী ৮ নভেম্বর মার্কিন প্র্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে এই অডিও ফাঁস ট্রাম্পের জন্য বড় বিপর্যয় আনতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।

No comments:

Post a Comment