ভারতে
টি ২০ বিশ্বকাপে ধর্মশালায় তাসকিন আহমেদের বলে ক্যাচ ওঠার পর মাঠেই দু’হাত
তুলে দোয়া পড়া শুরু করেছিলেন তিনি। মাঠে তার দোয়া পড়ার কারণও ছিল।
তাসকিনের বলে এত বেশি ক্যাচ মিস হয় যে, ভয়ে দোয়া পড়া শুরু করেন তিনি।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এই তরুণ পেসারের বলে এমন ক্যাচ মিসের বহু নজির
রয়েছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে তার বলে ক্যাচ উঠলে ধরতে পারনেনি
ফিল্ডাররা। সেই ধারাবাহিকতায় কাল এই ডান-হাতি পেসারের বলে ক্যাচ মিস করলেন
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মিড-অনে সহজ ক্যাচটি হাতে জমিয়েও ধরে রাখতে পারেননি
তিনি। বেন স্টোকসের রান তখন ৬৯। দুই রানের ব্যবধানে আরেকটি জীবন পেয়ে পরে
স্টোকসের ইনিংস শেষে হয়েছে ১০১ রানে। ম্যাচে এমন আরও তিনটি সহজ ক্যাচ এবং
দুটি হাফ চান্স মিস করেছে বাংলাদেশ।
ইংল্যান্ডের
বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ক্যাচ মিসই কাল হয়ে দাঁড়াল
স্বাগতিকদের জন্য। আফগানিস্তান সিরিজের প্রথম ম্যাচ থেকেই চেপেবসা ভুত
বাংলাদেশের ওপর সওয়ার ইংল্যান্ড সিরিজেও। আফগানদের বিপক্ষে মিস ফিল্ডিং
নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। কাল অবশ্য শুরুর দিকে আটোসাটো ফিল্ডিংই করছিলেন
সাব্বির-মোসাদ্দেকরা কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারলেন না
মাহমুদউল্লাহ-মোশাররফ হোসেন রুবেলরা। বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণেই স্পিনার আবদুর
রাজ্জাককে জাতীয় দলে রাখেন না নির্বাচকরা। অথচ এই মোশাররফ হোসেনকে আগের
ম্যাচে দেখে তার ফিটনেস নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। তারপরও ভালো বোলিং
করায় তাকে দলে রেখেছেন নির্বাচকরা। কাল উইকেট তো পাননি, আটোসাটো বোলিংও
করতে পারেননি, যা পেরেছেন তা হল দুটি ক্যাচ মিস! সহজ দুটি ক্যাচ তালবন্দি
করতে পারেননি তিনি। মোশাররফ প্রথম ক্যাচটা মিস করেন মাশরাফি মুর্তজার বলে
বেন স্টোকসের। পরে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যানের রান তখন ৭১। অভিষেকেই হাফ
সেঞ্চুরি করা বেন ডাকেটও একবার জীবন পেয়েছেন। মোসাদ্দেক হোসেনের বলে
স্কোয়ার লেগে তার ক্যাচ ছাড়েন সেই মোশাররফ। ক্যাচ মিসের মহড়ার এখানেই শেষ
নয়।
স্টোকসের একটি শট অনেক উপরে উঠে
লং-অনের দিকে চলে যায়, সেখানে সাকিব, সাব্বির, সৌম্য ও মুশিফকুর রহিম দৌড়ে
গিয়েও বল হাতে জমাতে পারেননি। পরে বাটলারের ক্যাচ মিস করেন মোসাদ্দেক। দুই
হাত সামনে পড়লেও বলটা তালুবন্দি করার চেষ্টাই করেননি তিনি। দৌড়ে গিয়ে কয়েক
হাত দূরে দাঁড়িয়ে যান তামিম ইকবালও। তার আগে ডিপ মিড উইকেটে আরও একটি হাফ
চান্স মিস করেন তাসকিন। একটি জীবন পাওয়া ডাকেট থেমেছেন ৬০ রানে। কিন্তু
দুটি জীবন পাওয়া স্টোকস তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। যাকে
নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় ছিল সেই জস বাটলার ৩৮ বলে ৬৩ করে সাকিবের বলে আউট
হয়েছেন। ততক্ষণে সফরকারীরা তাদের প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে। স্টোকস,
ডাকেট ও বাটলারের ব্যাটেই শেষ পর্যন্ত আট উইকেটে ৩০৯ রানের পাহাড় গড়ে
ইংল্যান্ড। কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের ফিল্ডিং নিয়ে প্রশংসা ছিল সবার মুখে।
কিন্তু শেষ কয়েকটা ম্যাচে সেই ফিল্ডিং ব্যর্থতাই বারবার সামনে আসছে।
ঘরের মাঠে ওডিআইতে
সবচেয়ে বেশি উইকেট
বোলার ম্যাচ উইকেট সেরা বোলিং গড় ৫ উইকেট
শন পোলক (দ. আফ্রিকা) ১২৭ ১৯৩ ৬/৩৫ ২০.২৩ ৪
ব্রেট লি (অস্ট্রেলিয়া) ৯৫ ১৬৯ ৫/২২ ২৩.৩৪ ৫
ম্যাকগ্রা (অস্ট্রেলিয়া) ৯৫ ১৬০ ৫/২৭ ২০.১২ ৩
মুরালিধরন (শ্রীলংকা) ১০৯ ১৫৪ ৫/২৩ ২৪.৬২ ২
সাকিব (বাংলাদেশ) ৮৯ ১৩৬ ৫/৪৭ ২২.৮১ ১
ঘরের মাঠে ওডিআইতে
সবচেয়ে বেশি উইকেট
বোলার ম্যাচ উইকেট সেরা বোলিং গড় ৫ উইকেট
শন পোলক (দ. আফ্রিকা) ১২৭ ১৯৩ ৬/৩৫ ২০.২৩ ৪
ব্রেট লি (অস্ট্রেলিয়া) ৯৫ ১৬৯ ৫/২২ ২৩.৩৪ ৫
ম্যাকগ্রা (অস্ট্রেলিয়া) ৯৫ ১৬০ ৫/২৭ ২০.১২ ৩
মুরালিধরন (শ্রীলংকা) ১০৯ ১৫৪ ৫/২৩ ২৪.৬২ ২
সাকিব (বাংলাদেশ) ৮৯ ১৩৬ ৫/৪৭ ২২.৮১ ১

No comments:
Post a Comment