নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কোন না কোন অপরাধ ও জালিয়াত নিয়ে জেলায় বিভিন্ন সময় আলোচনা সমালোচনা লেগেই
আছে। আর এমনই একটি জালিয়াত চক্রের সাথে উম্মোচিত হলো আর একটি চক্র। তা হলো
ভূঁয়া পরোয়ানা ও জালিয়াত চার্জশিটে সাধারন মানুষকে ফাঁদে পেলে ফায়দা লুটার
চেষ্টা। আর এ ধরনের ভুঁয়া গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ও চার্জশিট সৃষ্টি করে কৌশলে
চাঁদাবাজি করে যাচ্ছেন কিছু পুলিশ কর্মকর্তা এমন অভিযোগ ভুক্তভোগিদের।
সাম্প্রতিক সময়ে মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির আইসি, এস আই
ফজলুর বিরুদ্ধে পাওয়া যায় ভূঁয়া চার্জশিটে রাতের আঁধারে গ্রেপ্তার
বাণিজ্যের অভিযোগ। জানা যায়,গত ১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি কুতুবদিয়ার পশ্চিমে
বঙ্গোপসাগরে মালেশিয়াগামী একটি ট্রলার ডুবিতে সাতজন ভিকটিম নিহত হয়। এ নিয়ে
এস আই , এবিএম কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কুতুবদিয়া থানায় জি আর ১৪/১৫ ইং
তারিখ একখানা মানবপাচার মামলা দায়ের করেন। তদন্তপূর্বক ১১ অক্টোবর/১৫ ইং
তারিখে চুড়ান্তভাবে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এ বি এম
কামাল উদ্দিন। উক্ত চার্জশিটে অভিযুক্ত দশজন আসামীর নাম ঠিকানা উল্লেখ
পূর্বক মোঃ জসিম উদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক সিআইডি চট্রগ্রাম অভিযোগপত্রটি
অগ্রবর্তী করেন। সেই অভিযোগপত্রে মহেশখালী উপজেলার কোন ব্যক্তি জড়িত না
থাকলেও পুলিশের সহায়তায় একটি চক্র অভিযোগপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে নেমে পড়েন
প্রতারনার ফাঁদে। অনেকটা গোপনে এ কাজ চলতে থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাতারবাড়ী
পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এস আই ফজলুর কথিত কাছের লোকদের মাধ্যমে বিষয়টি প্রচার হয়
বলে জানান মাতারবাড়ীর সচেতন মহল। ইতোমধ্যে ভূঁয়া অভিযোগপত্র নিয়ে এস আই
ফজলু মাতারবাড়ী এলাকার কিছু লোক থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ
স্থানীয়দের। এস আই ফজলু ফাঁড়িতে যোগদানের পর থেকে ভূঁয়া অভিযোগপত্রের কপি
নিয়ে তার দালালদের মাধ্যমে এস আই ফজলুর সাথে গোপনে দেখা করার খবর দিলে
অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যায়। পলাতক ব্যক্তিদের সাথে এলাকার কিছু
কু-চক্রি মহল বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে পুলিশের সাথে টাকার বিনিময়ে সমজোতার
প্রস্তাব দেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিশ্চুক ষডযন্ত্রের শিকার অনেকেই।
তবে সর্বশেষ আদালত থেকে ঐ মামলা সংক্রান্ত কাগজপত্রাদির এজাহার’র কপি, ১৬১
ধারার জবান বন্দি, ১৬৪ ধারার জবান বন্দির ও অভিযোগপত্রের কোথাও মহেশখালীর
কোন ব্যক্তির নাম আসেনি এর পরও কারা, কিভাবে এ কাজ করেছেন এ বিষয়টি নিয়ে
সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। মুল চার্জশিটে কথিত মাতারবাড়ীর
কোন আসামী নেই ও কারো বিরুদ্ধে কোন প্রকার পরোয়ানা ও জারি করা হয়নি। দুটি
চার্জশিটের মধ্যে প্রচুর ভিন্নতা দেখা যায়। আর এ বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ
জালিয়াত কারীদের রক্ষায় এগিয়ে আসে। এ বিষয় নিয়ে এস আই ফজলুর দৃষ্টি আকর্ষন
করলে তিনি কিছুই জানেন না বলে নিশ্চিত করেন। অথচ স্থানিয় সোর্সদের মাধ্যমে
কথিত ভুয়া আসামীদের গ্রেপ্তারী পরোয়ানার ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার প্রমাণ
মিলে। এখন তা ধামাছাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে কৌশল অবলম্ভন করে যাচ্ছেন
এস আই ফজলু এমন অভিযোগ স্থানীয়দের মূখেমুখে । অনেকেই মন্তব্য করেন পুলিশ
প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত না থাকলে এমন দূ:সাহসিক কাজ কেউ কোনভাবে করতে
পারেনা। অনেকেই প্রশ্ন রাখেন- এস আই ফজলু জালিয়াতি চক্রের সাথে জড়িত না
থাকলে তিনি ভূঁয়া অভিযোগপত্র সরবরাহ কারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা
নিতেন। ওনি যেহেতু সেটা করছেননা তাই অনেকের সন্দেহের তীঁর এস আই ফজলুর
দিকে। আর পুলিশ এদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়না কেন এমন প্রশ্ন
এখন মাতারবাড়ীর সাধারনের মুখে মুখে । মাতারবাড়ী সহ মহেশখালীর আনাচে-কানাচে
এখন বিষয়টি নিয়ে মুখরোচক গল্প হিসাবে চায়ের কাপে ঝড় তুলছে। সকলের একবাক্য,
যারাই পুলিশকে কথিত চার্জশিট ও ভ’ঁয়া পরোয়ানা সরবরাহ করেছে তাদের ধরে আইনের
আওতায় আনা হউক। তাদের পিছনে কারা জড়িত তাও উম্মোচন করা হউক। আর তা না হলে
পুলিশের উপর থেকে মানুষের আরো আস্থা হারিয়ে ফেলবে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment