Thursday, October 6, 2016

পুরোনো দর্শকেরাই নাটক দেখেন

আজাদ আবুল কালাম
‘নিশিপুত্র’ টেলিছবিতে আপনার চরিত্র নিয়ে জানতে চাই। একজন লেখকের বাড়িতে চুরি করতে এসে ‘রশীদ’ নামে একজন চোর ধরা পড়ে। লেখক চোরকে টাকা দিয়ে তার জীবনের গল্প শুনতে চায়। রশীদ সারা রাত ধরে গল্প বলে। তার চোর হওয়ার গল্প বলতে গিয়ে সেখানে সাতটি চরিত্র বেরিয়ে আসে। সেই সাতটি চরিত্রেই অভিনয় করেছি আমি।
সেই সাতটি চরিত্র কেমন?
কখনো পাচারকারী, কখনো ধর্ষণকারী, কখনো খারাপ রাজনীতিবিদ কিংবা একজন চেয়ারম্যান—এভাবেই সাতটি চরিত্র রশীদকে চোর হতে বাধ্য করে। রশীদের মুখ থেকে গল্প শুনতে শুনতে সেই চরিত্রগুলোয় নিজেকে কল্পনা করেন লেখক।
একসঙ্গে সাতটি চরিত্র করতে সমস্যা হয়নি?
টেলিছবিটিতে যখন কাজ করার জন্য বলা হয়, তখন তো বুঝিনি এতগুলো চরিত্রে আমাকে একাই অভিনয় করতে হবে। দুই-আড়াই দিন সময় নিয়ে একটি টেলিছবিতে এতগুলো চরিত্র করা কঠিন। তা ছাড়া পরিচালকও অভিজ্ঞ ছিলেন না। আমি, শতাব্দী ওয়াদুদ ও মৌটুসী বিশ্বাস মিলে নিজেদের চেষ্টায় কাজটি ঠিকঠাকভাবে বের করে আনতে পেরেছি।
আগে প্রতিবছরই প্রাচ্যনাট নতুন নাটক মঞ্চে আনত। বেশ কয়েক বছর সেই ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে না। কেন?
এটা ঠিক যে প্রাচ্যনাটের নতুন নাটক মঞ্চে আনার ধারাবাহিকতায় বিরতি পড়েছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি নাটকটি মঞ্চে এনেছি আমরা। এরপর আর নতুন নাটক নামেনি। তবে এর মাঝে তিনটি নতুন নাটকের পাণ্ডুলিপি নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজ করছি। কাজগুলো যেকোনো সময় মঞ্চে আসবে। দলে আগের নাটকগুলোও তো নিয়মিত হচ্ছে না... কিনু কাহারের থিয়েটার, ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি, বনমানুষ—এই তিনটি নাটক নিয়মিতই করছি। তবে সার্কাস সার্কাস, আ ম্যান ফর অল সিজনস ও গন্ডার নাটক তিনটি বছরে দুই-তিনটি করে শো করা হয়। আপনারা প্রায়ই বলেন, হলসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে মঞ্চনাটকের দর্শক বাড়বে। মহিলা সমিতি খুলে দেওয়া হয়েছে। নতুন দর্শকের সংখ্যা বাড়ছে কি?
বাস্তবতা হলো, বর্তমান সময়ে মঞ্চে দর্শক বৃদ্ধির হার কম। সারা বছর পুরোনো দর্শকেরাই নাটক দেখেন। সঙ্গে অল্প কিছু নতুন দর্শক আসেন। তবে কম। ঢাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বড় সমস্যা। যানজটের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে সঠিক সময়ে এসে মহিলা সমিতি কিংবা শিল্পকলায় নাটক দেখা প্রায় অসম্ভব।
সাক্ষাৎকার: শফিক আল মামুন

No comments:

Post a Comment