![]() |
| ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে মঙ্গলবার অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় এক রোগী -যুগান্তর |
অ্যাম্বুলেন্স
দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে
আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের। সোমবার রাত থেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স
সার্ভিস স্বাভাবিক হয়েছে দাবি করা হলেও এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও
রোগীর স্বজনরা মঙ্গলবারও ছিলেন এক ধরনের জিম্মিদশায়। অ্যাম্বুলেন্সের
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে নিয়মের
চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি ভাড়া। আটক অ্যাম্বুলেন্স হেলপার সোহেলকে রিমান্ড
শেষে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ। তবে
ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও অ্যাম্বুলেন্স মালিক মাহফুজ ও চালক সোহাগ
গ্রেফতার হয়নি।
শনিবার ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের গেটে অ্যাম্বুলেন্সচাপায় নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হন। মারা যায় এক নারীর গর্ভের ছয় মাসের সন্তানও। এ দুর্ঘটনার পর ঢামেকের আশপাশ থেকে সরিয়ে নেয়া হয় বেসরকারি সব অ্যাম্বুলেন্স। নিরাপত্তাহীনতার ধুয়া তুলে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট অঘোষিত ধর্মঘট শুরু করে। অন্যদিকে বাইরে থেকে রোগী নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্সগুলোও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে এ হাসপাতাল থেকে রোগী নিতে সাহস পায় না। এ অবস্থায় পরিবহন সংকটে অসহনীয় ভোগান্তির শিকার হন রোগী ও তাদের স্বজনরা। মোহাম্মদপুর ইকবাল রোডের বাসিন্দা আজগর হোসেন। মাত্র একদিন আগে প্রথম পুত্র সন্তানের বাবা হয়েছেন। মঙ্গলবার প্রসূতি স্ত্রী ও নবজাতককে নিয়ে এসেছেন ঢাকা মেডিকেলে। নবজাতকের হার্টে সমস্যা। এজন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়েছেন।
দুপুর ১২টা থেকে স্ত্রী-সন্তানকে ইমার্জেন্সি গেটে রেখে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজছিলেন আজগর হোসেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স যেন সোনার হরিণ। এক দালালের মাধ্যমে সন্ধান পেলেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি অ্যাম্বুলেন্সের। ঢাকা মেডিকেল থেকে মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে নিয়ে যেতে ১৩শ’ টাকায় রাজি হল চালক। বেলা দেড়টায় ইমার্জেন্সি গেটে আসে গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ছ-৭১-০৪৩৭)। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ওই অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন আজগর হোসেন। চালককে এসি ছাড়তে বলতেই ক্ষেপে ওঠে তার ওপর। বলে ১৩শ’ টাকা ভাড়ায় আবার এসি। যান, নেমে যান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে গাড়ি থেকে নেমে গেলেন আজগর হোসেন। এরপর আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স চুক্তি করলেন ১৫শ’ টাকায়। সেই গাড়িটি এলো, কিন্তু তাদের উঠানোর পর এসি ছাড়তে রাজি হল না চালক। পরে বেলা ২টার দিকে আড়াইশ’ টাকা চুক্তিতে একটি অটোরিকশা নিয়ে তিনি রওনা হলেন মোহাম্মদপুরের উদ্দেশে। শুধু আজগর হোসেনই নন, মঙ্গলবারও এমন দুর্ভোগে পড়েছেন ঢাকা মেডিকেলে আসা হাজারও রোগী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও রোগী ও তাদের স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্স পাননি।
ঢামেক হাসপাতাল এলাকার বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের অধিকাংশ মালিক ঢামেকের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা। নিজেদের গাড়ি হলেও এসব গাড়ির কাগজপত্র তাদের স্বজনদের নামে। এ সিন্ডিকেট এতটাই প্রভাবশালী যে এদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। এমনকি বাইরে থেকে রোগী নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্স চালকরাও এদের ভয় পান। তারা এদের কারণে এ হাসপাতাল থেকে রোগী নিতে সাহস করেন না। রোগী নিতে চাইলে এ চক্রের সদস্যরা বাধা দেয়। মঙ্গলবার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সি গেটের সামনে ঘোরাফেরা করছেন, আর রোগী ও রোগীর স্বজনদের নম্বর দিয়ে তাদের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিচ্ছেন। এদের দেয়া নম্বরে যোগাযোগ করে রোগীর স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্স চুক্তি করছেন দ্বিগুণ-তিনগুণ টাকা বেশি দিয়ে। হাসপাতালের কর্মচারী নাসিরের গাড়িচালক হানিফ যুগান্তরকে বলেন, সোমবার রাত থেকে হাসপাতাল এলাকায় আসতে পুলিশ বাধা দিচ্ছে না। তিনি জানান, সড়কে গাড়ি না রাখতে দেয়ায় আমরা কাস্টমার ধরে মোবাইল নম্বর দিয়ে দিচ্ছি। আর কথাবার্তায় হলেই গাড়ি নিয়ে হাসপাতাল এলাকায় আসা হচ্ছে। মঙ্গলবারও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা বাইরের অ্যাম্বুলেন্স চালকদের রোগী নিতে বাধা দিয়েছে। তবে ৫শ’ টাকা গুঁজে দিলেই এ হাসপাতাল থেকে রোগী নিতে সমস্যা হচ্ছে না বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চালক জানিয়েছেন। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দিনার যুগান্তরকে বলেন, আমরা কোনো ধর্মঘটে যাইনি।
শনিবার ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের গেটে অ্যাম্বুলেন্সচাপায় নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হন। মারা যায় এক নারীর গর্ভের ছয় মাসের সন্তানও। এ দুর্ঘটনার পর ঢামেকের আশপাশ থেকে সরিয়ে নেয়া হয় বেসরকারি সব অ্যাম্বুলেন্স। নিরাপত্তাহীনতার ধুয়া তুলে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট অঘোষিত ধর্মঘট শুরু করে। অন্যদিকে বাইরে থেকে রোগী নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্সগুলোও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে এ হাসপাতাল থেকে রোগী নিতে সাহস পায় না। এ অবস্থায় পরিবহন সংকটে অসহনীয় ভোগান্তির শিকার হন রোগী ও তাদের স্বজনরা। মোহাম্মদপুর ইকবাল রোডের বাসিন্দা আজগর হোসেন। মাত্র একদিন আগে প্রথম পুত্র সন্তানের বাবা হয়েছেন। মঙ্গলবার প্রসূতি স্ত্রী ও নবজাতককে নিয়ে এসেছেন ঢাকা মেডিকেলে। নবজাতকের হার্টে সমস্যা। এজন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়েছেন।
দুপুর ১২টা থেকে স্ত্রী-সন্তানকে ইমার্জেন্সি গেটে রেখে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজছিলেন আজগর হোসেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স যেন সোনার হরিণ। এক দালালের মাধ্যমে সন্ধান পেলেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি অ্যাম্বুলেন্সের। ঢাকা মেডিকেল থেকে মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে নিয়ে যেতে ১৩শ’ টাকায় রাজি হল চালক। বেলা দেড়টায় ইমার্জেন্সি গেটে আসে গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ছ-৭১-০৪৩৭)। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ওই অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন আজগর হোসেন। চালককে এসি ছাড়তে বলতেই ক্ষেপে ওঠে তার ওপর। বলে ১৩শ’ টাকা ভাড়ায় আবার এসি। যান, নেমে যান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে গাড়ি থেকে নেমে গেলেন আজগর হোসেন। এরপর আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স চুক্তি করলেন ১৫শ’ টাকায়। সেই গাড়িটি এলো, কিন্তু তাদের উঠানোর পর এসি ছাড়তে রাজি হল না চালক। পরে বেলা ২টার দিকে আড়াইশ’ টাকা চুক্তিতে একটি অটোরিকশা নিয়ে তিনি রওনা হলেন মোহাম্মদপুরের উদ্দেশে। শুধু আজগর হোসেনই নন, মঙ্গলবারও এমন দুর্ভোগে পড়েছেন ঢাকা মেডিকেলে আসা হাজারও রোগী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও রোগী ও তাদের স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্স পাননি।
ঢামেক হাসপাতাল এলাকার বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের অধিকাংশ মালিক ঢামেকের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা। নিজেদের গাড়ি হলেও এসব গাড়ির কাগজপত্র তাদের স্বজনদের নামে। এ সিন্ডিকেট এতটাই প্রভাবশালী যে এদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। এমনকি বাইরে থেকে রোগী নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্স চালকরাও এদের ভয় পান। তারা এদের কারণে এ হাসপাতাল থেকে রোগী নিতে সাহস করেন না। রোগী নিতে চাইলে এ চক্রের সদস্যরা বাধা দেয়। মঙ্গলবার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সি গেটের সামনে ঘোরাফেরা করছেন, আর রোগী ও রোগীর স্বজনদের নম্বর দিয়ে তাদের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিচ্ছেন। এদের দেয়া নম্বরে যোগাযোগ করে রোগীর স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্স চুক্তি করছেন দ্বিগুণ-তিনগুণ টাকা বেশি দিয়ে। হাসপাতালের কর্মচারী নাসিরের গাড়িচালক হানিফ যুগান্তরকে বলেন, সোমবার রাত থেকে হাসপাতাল এলাকায় আসতে পুলিশ বাধা দিচ্ছে না। তিনি জানান, সড়কে গাড়ি না রাখতে দেয়ায় আমরা কাস্টমার ধরে মোবাইল নম্বর দিয়ে দিচ্ছি। আর কথাবার্তায় হলেই গাড়ি নিয়ে হাসপাতাল এলাকায় আসা হচ্ছে। মঙ্গলবারও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা বাইরের অ্যাম্বুলেন্স চালকদের রোগী নিতে বাধা দিয়েছে। তবে ৫শ’ টাকা গুঁজে দিলেই এ হাসপাতাল থেকে রোগী নিতে সমস্যা হচ্ছে না বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চালক জানিয়েছেন। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দিনার যুগান্তরকে বলেন, আমরা কোনো ধর্মঘটে যাইনি।
পুলিশি
ঝামেলার ভয়ে আমরা গাড়িগুলো সরিয়ে নিরাপদ স্থানে রেখেছি। প্রতিদিনই আমাদের
গাড়ি ভাড়া করে রোগী যাচ্ছে। তিনি বলেন, চালকদের কেউ অনিয়ম করলে আমরা তার
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। বাইরের অ্যাম্বুলেন্সকে রোগী পরিবহন করতে না দেয়ার
বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। শনিবারের দুর্ঘটনায় আহত শিশু সজিব এখনও জানে না
তার মা সূর্য বেগম মারা গেছেন। মঙ্গলবার ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক
সার্জারি ইউনিটের পঞ্চম তলায় গিয়ে দেখা গেছে, সজিব বাবার বেডে গভীর ঘুমে
মগ্ন। পাশে বসে আছেন তার নানী সালেহা বেগমের ছোট বোন মালেকা বেগম। তিনি
যুগান্তরকে বলেন, জামাইকে (সজিবের বাবা জাকির হোসেন) পায়ে প্লাস্টিক
সার্জারির জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, সজিবকে এখনও তার
মায়ের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। সজিব মায়ের জন্য সারাদিন কান্নাকাটি করে।
সে বলে, ‘তোমরা আমাকে মিথ্যা কথা বলছ’ আমার আম্মা নেই, আমার আম্মা মইরা
গেছে। আমার আম্মা বেঁচে থাকলে আমাকে নিয়ে দেখাও। অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনার
পর আটক হেলপার সোহেলকে একদিনের রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে
পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মশিউর রহমান
যুগান্তরকে বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের মালিক মাহফুজ ও চালক সোহাগকে গ্রেফতারের
চেষ্টা চলছে। সোমবার রাতে সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে তাদের সন্ধানে একাধিক স্থানে
অভিযান চালানো হয়েছে।

No comments:
Post a Comment