Thursday, October 27, 2016

খাদিজাকে কেবিনে স্থানান্তর

ছাত্রলীগ নেতার চাপাতি হামলায় গুরুতর আহত সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্কয়ার হাসপাতাল সূত্র জানায়, বুধবার দিনগত রাত ৩টার পর তাকে কেবিনে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্কয়ার হাসপাতাল সূত্র জানায়, খাদিজার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এতে সে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গ পাবে। এর ফলে তার শারীরিক-মানসিক উন্নতিতে সহায়তা হবে। এ বিষয়ে খাদিজার বাবা জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। দুই/তিন গোঙানির মতো আওয়াজ করছিল খাদিজা। গতকাল তাকে বাবা বলে ডেকেছে সে। তবে মাঝে মাঝে চিনতে পারছে না। তিনি চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান, খাদিজার সুস্থ হতে দীর্ঘ পুনর্বাসন দরকার। তার ব্রেইনের কিছু অংশ ড্যামেজ রয়েছে। এছাড়া বাঁ হাত ও পা এখনো অবশ রয়েছে। এর জন্য তাকে ফিজিওথেরাপি দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্কয়ার হাসপাতাল সূত্র জানায়, খাদিজা মাথায় বড় ধরনের আঘাত পেয়েছে। এজন্য সে মাঝে মাঝে তার পরিবারের লোকজনদের তাৎক্ষণিক চিনতে পারছে না। তবে ধীরে ধীরে তা সেরে যাবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর সিলেট এমসি কলেজের পুকুর পাড়ে খাদিজা বেগম নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম। স্থানীয়রা খাদিজাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ওই দিন রাতেই সিলেট থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও অর্থনীতি বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। খাদিজাকে কোপানোর সময় স্থানীয়রা বদরুলকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

No comments:

Post a Comment