কয়েকদিন আগে নিজের মেইল চেক করছিলেন
নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টার সুসানে ক্রেইগ। হঠাৎ একটি মেইল তার নজরে আসে।
মেইলটি ওপেন করেই ভড়কে যান সুসানে। তিনি বলেন, প্রথমে মনে করেছিলাম, এটা
একটা ধাপ্পাবাজি। কেউ চালাকি করে আমার সঙ্গে মজা করছে। আমার ধারণা এমন ছিল,
কোনোভাবেই এটি সত্যি হতে পারে না। ই-মেইলের ঠিকানায় লেখা ছিল, ‘দ্য
ট্রাম্প অর্গানাইজেশন’। ভেতরে তিনটি ফটোকপি পৃষ্ঠা। সুসানে মনে করলেন, তিনি
ডিনামাইট আবিষ্কার করলেন। কারণ, সেখানে ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে
রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৯৯৫ সালের আয়কর বিবরণী। ১৯৯৫
সালের আয়কর বিবরণীতে তার ব্যবসায় ৯১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ক্ষতি দেখিয়ে
কেন্দ্রীয় সরকারকে কোনো আয়কর দেননি ট্রাম্প। ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ শনিবার এ
নথি প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি বলছে, এর মাধ্যমে ১৮ বছর ধরে কর ফাঁকি দিয়ে
থাকতে পারেন ট্রাম্প।
যদিও ট্রাম্প তা
অস্বীকার করেছেন। সুসানের কাছে বেনামি ওই ই-মেইলটি আসে ২৩ সেপ্টেম্বর।
নিউইয়র্ক টাইমসের ক্ষেত্রে এ ঘটনা বিরল। পত্রিকাটির ইতিহাসে এমন কোনো ঘটনা
ঘটেনি। ফলে এটি প্রকাশ করবে কি-করবে না- তা নিয়ে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়ে যায়।
সংবাদ তদন্তে পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়া সুসানে ও ডেভিড বার্সটোউসহ ৪ জন
সাংবাদিকের কাছে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। সুসানে বলতে বা বুঝতে
সক্ষম হননি- কে এই ই-মেইল পাঠিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের ডেপুটি
কার্যনির্বাহী সম্পাদক ম্যাট পুর্ডি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা এ ই-মেইলের
সূত্র শনাক্ত করতে পারিনি। তদন্তের দায়িত্বে থাকা আরেক সাংবাদিক ও
পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক ডিন বাকুয়েট বলেন, নথিগুলো দেখে আসলই মনে
হচ্ছিল। অন্য তদন্তকারী হলেন রিপোর্টার রুস বিউটনার। নিউইয়র্ক টাইমসের
বর্ণনানুসারে, তিন পৃষ্ঠার মধ্যে প্রথম পৃষ্ঠায় নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের
আয়কর, দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় নিউজার্সির বাসিন্দাদের আয়কর এবং তৃতীয় পৃষ্ঠায়
কানেক্টিকাট অনাবাসিকদের আয়কর বিবরণী উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে
ট্রাম্পের ব্যবসায়িক ক্ষতির দাবির আলোকে প্রথম দুই ডিজিট ৯ ও ১- একটু
অস্পষ্ট ছিল। ফলে নথিটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। ফলে নথিটি
পুনর্বিবেচনার জন্য কয়েকটি কর বিবরণী ভাড়া করে নিউইয়র্ক টাইমস। পরে ৯ ও ১
রহস্যের ব্যাখ্যা দেন অবসরপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক জ্যাক মিটনিক। তিনি বলেন,
বৈদ্যুতিক কর প্রস্তুতির কারণে সংখ্যা দুটি মুছে যায়, ফলে সেখানের
ডিজিটগুলো হাতে লেখা হয়েছে। আর ফটোকপি করার কারণে হাতে লেখা ডিজিট দুটি
অস্পষ্ট হয়ে যায়। এ ব্যাখ্যার আলোকে আয়কর নথি তদন্ত দল ঘটনাটি প্রকাশের
জন্য সিদ্ধান্ত নেয়। তা প্রকাশের কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্পের আইনজীবী মার্ক ই.
কাসোউইটস নথিটি প্রকাশের জন্য হুমকি দেন। তিনি জানান, নথিটি প্রকাশ করা হলে
বৈধ আইনি অ্যাকশন নেয়া হবে। পরে সুসানে চিন্তা করেছেন, কেন নিউইয়র্ক
টাইমসকে বেছে নিল ওই অজ্ঞাত সূত্র। তিনি আরও ই-মেইলের অপেক্ষায় থাকবেন বলে
জানিয়েছেন সুসানে।

No comments:
Post a Comment