গত দুই বছরে তিন ফরম্যাটের রান হিসাব করলে
ইমরুল কায়েসকে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যানই ধরা যায়। টি ২০, ওয়ানডে,
টেস্ট, বিপিএল, ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ বা প্রস্তুতি ম্যাচ- সব জায়গাতেই নিজেকে
প্রমাণ করেছেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। তারপরও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে
জাতীয় দলে জায়গা কখনোই পাকা করতে পারেননি ইমরুল। সর্বশেষ আফগানিস্তানের
বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৩৬ রান করার পরও শেষ দুটি ম্যাচে তার সুযোগ হয়নি।
এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে বিধ্বংসী এক
ইনিংস খেলে আরও একবার নিজেকে চেনালেন তিনি। কাল ফতুল্লায় ইমরুলের ৯১ বলে
১২১ রানের ঝড়ো ইনিংস এবং মুশফিকুর রহিমের হাফ সেঞ্চুরিতে (৫১) ইংল্যান্ড
একাদশের বিপক্ষে ৩০৯ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় বিসিবি একাদশ। তবে জস
বাটলার (৮০*) ও মঈন আলীর (৭০) ঝাড়ো ব্যাটিংয়ে ২৩ বল বাকি থাকতে চার উইকেটে
জয় পায় ইংল্যান্ড।
এ ম্যাচে জয়-পরাজয় নিয়ে কারাও মাথাব্যথা নেই। তবে ইমরুল,
মুশফিক ও নাসির রান পাওয়ায় বাংলাদেশের প্রস্তুতিটা ভালো হয়েছে। দারুণ এক
সেঞ্চুরির পরও শুক্রবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে একাদশে ইমরুলের
জায়গা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। প্রস্তুতি ম্যাচে মূলত বাংলাদেশের দেখার
বিষয় ছিল ইমরুল, সৌম্য সরকারের ব্যাটিং এবং আল-আমিন হোসেনের বোলিং। দলে
থেকেও খেলার সুযোগ না পাওয়া নাসির হোসেন এদিন ব্যাটিং অনুশীলনের সুযোগ
পেয়েছেন। মুশফিকুর রহিমও নিজেকে ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এক সৌম্য ছাড়া
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চূড়ান্ত দলে থাকা বাকি চার জনেরই অনুশীলন ভালো হয়েছে।
ইংলিশ পেসারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছেন ইমরুল। প্রথম ওভারে ক্রিস ওকস ও পরের
ওভারে ডেভিড উইলিকে দুটি করে চার মারেন ইমরুল। শুরুর এই আক্রমণাত্মক
ব্যাটিং শেষ পর্যন্ত ধরে রাখেন তিনি। কিন্তু ১৩ বলে মাত্র ৭ রান করেই আউট
হন ফর্মহীনতায় থাকা সৌম্য। ইমরুল শেষ পর্যন্ত ৯১ বলে ১১টি চার ও ছয়টি
ছক্কায় ১২১ রানে উইলির বলে বোল্ড হয়েছেন। ইমরুলের পর মুশফিক ও নাসিরের
ব্যাটেও রান এসেছে। ৫৭ বলে পাঁচ চারে ৫১ করেন মুশফিক।
চূড়ান্ত দলে থাকার
পরও দিনের পর দিন একাদশের বাইরে থাকা নাসির কাল ৪৫ বলে এক ছয়ে ও চারটি চারে
৪৬ রান করেন। মুশফিকুর যখন আউট হয়েছেন বাংলাদেশের রান তখন ৪০.১ ওভারে ২৬০।
শেষ ১০ ওভারে বিসিবি একাদশ মাত্র ৪৯ রান নিতে পেরেছে! ইংল্যান্ডের ওকস
তিনটি এবং উইলি ও স্টোকস দুটি করে উইকেট নেন। সাড়ে সাত ঘণ্টার ম্যাচ শেষ
হতে সময় লেগেছে সাড়ে আট ঘণ্টা। আল-আমিন অবশ্য বোলিংয়ে ভালো কিছু করতে
পারেননি। নয় ওভার বোলিং করে ৬১ রান দিয়ে নিয়েছেন এক উইকেট। তবে হঠাৎ
প্রস্তুতি ম্যাচে ডাক পাওয়া দুই পেসার আলী আহমেদ মানিক ও এবাদত হোসেন ভালো
বোলিং করেছেন। মানিক উইকেট না পেলেও এবাদত পাঁচ ওভারে এক মেডেনে ২৬ রান
দিয়ে নিয়েছেন দুটি উইকেট। স্পিনারদের মধ্যে শুভাগত হোম ও সানজামুল ইসলাম
একটি করে উইকেট নিয়েছেন। একটা সময়ে ১৭০ রানের মধ্যে ইংল্যান্ডের পাঁচ উইকেট
তুলে নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে বাটলার ও মঈন আলী ১৩৯ রান
তুলে জয় নিশ্চিত করেন। অধিনায়ক বাটলার ৬৪ বলে ৮০* রান করেন এবং ৫১ বলে ৭০
করে শেষদিকে আউট হন মঈন।

No comments:
Post a Comment