Monday, October 3, 2016

নগর আধুনিকায়নে মেয়র আ জ ম নাছিরের উন্নয়ন পরিকল্পনা

নগর উন্নয়নের বিষয়ে নানা পরিকল্পনার কথা জানালেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। সিভিল সোসাইটি কো–অর্ডিনেশন কমিটির ৫ম সভায় তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। গতকাল দুপুরে কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে মেয়রের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাইকা’র অর্থায়নে সিটি গভর্নেন্স প্রকল্পের অধীনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ও ইনক্লুসিভ নগর পরিচালনা কর্মসূচী সঠিকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে ১০৩ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সভায় কমিটির সদস্য সচিব ও সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেন, কমিটির সদস্য কাউন্সিলর, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার, সাবেক সভাপতি আলী আব্বাস, সুপ্রভাত বাংলাদেশের সহযোগী সম্পাদক এম নাসিরুল হক, বিজিএমইএ’র প্রথম সহ সভাপতি মঈন উদ্দিন আহমদ মিন্টু, আইইবি’র সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ হারুন, আইইবি’র চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এম এ রশিদ, সনাক সভাপতি প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, অহিদ সিরাজ স্বপন, বিএমএ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, এডিশনাল পিপি মিলি চৌধুরী, সিডিসি’র টাউন ফেডারেশনের চেয়ারপার্সন ঊষা দে, ওমেন চেম্বার পরিচালক রেখা আলম চৌধুরী ও শামীমা হারুন লুবনাসহ কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মেয়র বলেন, জাইকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজে সিটি কর্পোরেশনের কোন বিনিয়োগ নেই। জাইকা’র অর্থায়নে চলছে এসব অবকাঠামোগত উন্নয়ন। ২০১৫–২০১৬ অর্থ বছরে প্রথম ধাপে ১৯টি প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১৮৭ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করছে জাইকা। দ্বিতীয় ধাপে জাইকার অর্থায়নে প্রায় ৫৮৭ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী’র আগ্রহের ফলে জাইকা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে উন্নয়নের আওতায় নিয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন, তিন অর্থ বছরের মধ্যে নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের সব সড়ক ও বাইলেইন কার্পেটিং করা হবে। নগরীর সব খাল ও নালার মাটি উত্তোলন করা হবে। শহরকে এলইডি, সোলারের আওতায় এনে শতভাগ আলোকিত করা হবে। নগরীর ফুটপাত, মিড আইল্যান্ড ও গোলচত্বর বিউটিফিকেশনের আওতায় দৃষ্টি নন্দন ও গ্রীন করা হবে। নগরীর যানজট নিরসনসহ ট্রাফিক সিস্টেমকে আধুনিকায়ন করা হবে। মেয়র বলেন, নগরীর ৪১ ওয়ার্ডকে জরিপ করে ভিডিও করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে দেখে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হবে। নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা ও বৃদ্ধির স্বার্থে এবং যানজট নিরসন ও জনসাধারণের চলাচলের স্বার্থে রাস্তাগুলো অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার করা হবে। হকারদের স্বার্থে হকারদেরকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে। নিরপেক্ষ ও গোপনীয়তা রক্ষা করে হকার পরিসংখ্যান করা হবে। প্রকৃত হকারদের পরিচয়পত্র সরবরাহ, সিটি কর্পোরেশন ফুটপাত চিহ্নিত করে চলাচলের জন্য ২/৩ অংশ বাদ দিয়ে ১/৩ অংশের মধ্যে সু–শৃঙ্খলভাবে হকারদের ব্যবসার সুযোগ দেয়া হবে। তবে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে হকার’রা ব্যবসা করতে পারবে বলে জানান তিনি। মেয়র বলেন, দিনের বেলায় বাকি সময়ে হাকররা ভিন্ন ভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থেকে আয়ের সুযোগ পাবে। হকার সংগঠনসহ হকারদের সাথে বৈঠক করে হকারদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সিটি মেয়র বলেন, সিভিল সোসাইটি কো–অর্ডিনেশন কমিটির সদস্যদের প্রস্তাব ও পরামর্শকে নাগরিক স্বার্থে কাজে লাগানো হবে। ইতোমধ্যে বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্প একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবায় সিটি কর্পোরেশন বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, শিক্ষার আলোতে আলোকিত নাগরিক গড়ার লক্ষ্যে চসিক বছরে প্রায় ৪২ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। লেখা–পড়ার অধিকার সুরক্ষায় কর্পোরেশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি করছে এবং শিক্ষার্থীর সুবিধার্থে ডাবল শিফট চালু ও প্রয়োজনে আসন সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে। মেয়র সেবার স্বার্থে হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়মিত পরিশোধ করতে নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান। মেয়র বলেন, শতশত কোটি টাকার দায় দেনা, দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করার পরও বিগত ১৪ মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। নানামুখী চাপ থাকা সত্ত্বেও অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করেছি। রাতে বর্জ্য অপসারণের কাজ চলছে তা অব্যাহত থাকবে। ডোর টু ডোর আবর্জনা সংগ্রহ করার পাইলট প্রকল্প চলমান আছে। ব্যয় বহুল এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর পরিবেশ অনেক উন্নত হবে। তিনি বলেন, আগামী ৩ বছরের মধ্যে চট্টগ্রামে দৃশ্যমান পরিবর্তন হবে। ভিশন বাস্তবায়নে তিনি সিভিল সোসাইটিসহ নগরীর সর্বস্তরের নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা এবং কৃষি অধিদপ্তরের সহযোগিতায় চসিকের সকল স্থাপনা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্থাপনায় শাক–সবজি, ফল–মূল চাষের কর্মসূচি গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। সভায় কমিটির সদস্যরা আলোচ্যসূচির উপর তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
বক্তারা অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ, বর্জ্য অপসারণ ও কোরবানিরর ঈদে পশু বর্জ্য অপসারণে চসিক মেয়রের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের মত তাকেও মর্যাদা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। এছাড়া চসিকের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সরকারি বরাদ্দ প্রদান, পৌরকর আদায়ের ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, সেবা খাতে ওয়াসা, সিডিএ ও সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে সমন্বয়, অভিজাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের জন্য গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, শিক্ষার্থী বহনে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা, যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নয়ন, হকার সমস্যা সমাধান, রিক্সা লাইসেন্স প্রদান, বিধি মোতাবেক দোকান প্রতিষ্ঠান সমূহের সাইন বোর্ড ট্যাক্স ধার্য, বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাসমূহ সংস্কার, ভারী পরিবহন চলাচলে আইন মেনে চলা, নতুন ভবন নির্মাণে ভবনের ছাদে কৃষি কাজের ব্যবস্থা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে আইন প্রণয়ন করা, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ এবং চট্টগ্রামের স্বার্থে উন্নয়ন কাজ ফলাও করে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ করাসহ নানামুখী প্রস্তাব করেন।
>>>চিটাগং ডেইলি ডটকম

No comments:

Post a Comment