জঙ্গিগোষ্ঠী
ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দখল থেকে ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল
পুনরুদ্ধারের যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার-আল আবাদি সোমবার স্থানীয় সময় সকালে রাষ্ট্রীয়
টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে এ যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। খবর রয়টার্স, বিবিসির।
২০১৪ সালের জুনে দখলের পর খেলাফত ঘোষণা করে মসুলকে ইরাকের রাজধানী করে
আইএস। ইরাকে তাদের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মসুল। ইরাকি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এখন সে সময় এসে গেছে, আমরা বড় ধরনের বিজয়ের
সন্নিকটে।' তিনি বলেন, 'মসুলকে স্বাধীন করার যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আজ আমি
মসুলকে আইএসের হাত থেকে মুক্ত করার ঐতিহাসিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিচ্ছি।'
ইরাকি প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আল্লাহ চাইলে আমরা শিগগিরই মসুল মুক্তির আনন্দ
উদযাপন করব, যাতে করে আমরা আবার একত্রে মিলেমিশে বাস করতে পারি। ইরাকের সব
ধর্মের মানুষ একসঙ্গে আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মসুল শহর পুনর্নির্মাণ
করব।'
তিনি যখন টেলিভিশনে এ ঘোষণা
দিচ্ছিলেন, ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কমান্ডাররা তাকে ঘিরে ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় মসুলে বড় ধরনের সৈন্য সমাবেশ করা হয়েছে। ২০০৩ সালে
সাদ্দাম হোসেনের পতনের এই প্রথম এমন অভিযানে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মসুলে
অভিযানের আগে প্রধানমন্ত্রী হায়দার-আল আবাদির উদ্দেশে টুইটারে ইরাকে
যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রধান ব্রিট ম্যাকগুর্ক বলেছেন, 'ঐতিহাসিক এই
অভিযানে আপনার পাশে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত।' যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন
জোটের সঙ্গে ইরাক সরকার নিয়ন্ত্রিত সেনাবাহিনীও মসুল পুনরুদ্ধারের এই
যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। ইরাকের কর্তৃপক্ষ বলছে, যদি মসুল থেকে আইএসকে পরাজিত
করা সম্ভব হয়, তাহলে তা হবে আইএসের জন্য বড় ধাক্কা।
এদিকে এই যুদ্ধের মানবিক প্রভাব বিরাট হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে
জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে, এতে অন্তত ১২ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

No comments:
Post a Comment