Tuesday, October 4, 2016

বগুড়ার ৬৫ কিমি বেহাল, দরকার পুনর্নির্মাণ

ঢাকা–রংপুর মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে পানি জমেছে।
গত রোববার বগুড়া শহরের তিনমাথার চিত্র। সোয়েল রানা
ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বগুড়ার ৬৫ কিলোমিটার। এর নানা অংশে রয়েছে গর্ত। পিচ উঠে এবড়োখেবড়ো হয়ে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলছেন, সংস্কার নয়, দরকার পুনর্নির্মাণ। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সূত্রে জানা গেছে, ২৪ বছর আগে নির্মাণ করা মহাসড়কটি এখন মেরামতের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মহাসড়কটির পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন। তা না হলে সংস্কারের নামে যত অর্থই ঢালা হোক না কেন, তা খুব একটা কাজে আসবে না। কিন্তু মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ ঘোষণার পরও পুনর্নির্মাণের বদলে আরেক দফা সংস্কারের কথা ভাবছে সওজ। এতে ৪৫ থেকে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের চান্দাইকোনার পর থেকে গাইবান্ধার রহবল পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার অংশ ১৯৯১-১৯৯২ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয়। এই অংশ দেখভাল করা হয় সওজের বগুড়া কার্যালয় থেকে।
এই অংশ দিয়ে উত্তরাঞ্চলের ১১ জেলা থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রতি অর্থবছরে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে মহাসড়কটি সংস্কার করা হলেও তা টেকসই হচ্ছে না। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের শেরপুর উপজেলার দশমাইল বাজার এলাকা থেকে শিবগঞ্জ উপজেলার রহবল বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটারের বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে ছোট-বড় শতাধিক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ১০ থেকে ১৫টি স্থানে খোয়া উঠে গেছে। শাজাহানপুর উপজেলার ফটকি সেতু থেকে মাঝিড়া বন্দর পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার অংশে কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় কিছুদিন আগে ইট-খোয়া ফেলা হয়। কিন্তু রাস্তার ওই অংশ এরই মধ্যে এবড়োখেবড়ো হয়ে গেছে। রাতে বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন এই অংশে এসে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। কয়েকজন চালক বলেন, মহাসড়কের এই অংশটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
বনানী মোড়ের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আবদুল কাদের বলেন, ‘এ মহাসড়কে গাড়ি চালাতে গেলে থ্যাকনা আর ঝাঁকুনিতে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসতে চায়।’ বগুড়া শহরের তিনমাথা থেকে চারমাথা পর্যন্ত অংশের বিভিন্ন স্থানের কার্পেটিং উঠে এবং মহাসড়ক দেবে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কার্পেটিং উঠে গেছে মাটিডালি, গোকুল মহাস্থান, রহবলসহ আরও বেশ কিছু অংশে। মোকামতলা থেকে রহবল পর্যন্ত ইট-কার্পেটিং উঠে মহাসড়কের অনেক স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বাসচালক মিঠু মিয়া বলেন, এখন মহা ভোগান্তির নাম উত্তরবঙ্গ মহাসড়ক। ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত যানজটের ভোগান্তি। সিরাজগঞ্জের পর রংপুর পর্যন্ত দুর্ভোগ পোহাতে হয় মহাসড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে। মহাসড়কে খানাখন্দের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। প্রায়ই বাসের টায়ার ফেটে যায়।
বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকার ইতিমধ্যেই সিরাজগঞ্জ থেকে রংপুর পর্যন্ত অংশ চার লেন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগের দুই লেনও নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। কোনোক্রমেই জোড়াতালির সংস্কার করে চার লেনে উন্নীত করলে চলবে না। সওজের বগুড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল হালিম বলেন, শহরতলির বনানী মোড় থেকে তিনমাথা-চারমাথা হয়ে মাটিডালি পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশ সংস্কার ও মজবুতকরণের জন্য ইতিমধ্যে সাত কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। অবশিষ্ট অংশের জন্য কমপক্ষে ৪৫ কোটি টাকা প্রয়োজন। কী পদ্ধতিতে সংস্কার করা হবে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সওজের বিশেষজ্ঞ দল আসবেন।

No comments:

Post a Comment