কিউবা ও ভিয়েতনামে রাশিয়ার যেসব সামরিক
ঘাঁটি ছিল তা পুনরায় চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করছে মস্কো। রাশিয়ার
উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিকোলাই প্যানকভ শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, রাশিয়ার পার্লামেন্টের এক বক্তব্যে প্যানকভ বলেন,
আমরা এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছি। তবে বিস্তারিত জানাননি তিনি। স্নায়ুযুদ্ধের
সময় কিউবা ও ভিয়েতনামের সামরিক ঘাঁটি থেকে বৈশ্বিক শক্তি প্রদর্শন করেছিল
সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া)। রুশ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, বন্ধ হওয়া এসব
ঘাঁটি পুনরায় চালু করার জন্য কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। এর আগে রাশিয়ার
পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির উপ-প্রধান আলেক্সে চেপা জানিয়েছিলেন,
বিশ্বের ওই অঞ্চলগুলোতে রাশিয়ার উপস্থিতি বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। ২০০০
সাল পর্যন্ত কিউবা ও ভিয়েতনামে রুশ সামরিক ঘাঁটি ছিল। ভিয়েতনামের কাম
রাহান অঞ্চলে রুশ নৌবাহিনী ও কিউবার লাউরডেসে রুশ রেডিও-ইলেক্ট্রনিক
গোয়েন্দা কেন্দ্র ছিল। তবে সিরিয়া ও ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের
আধিপত্য এবং ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে ন্যাটো বাহিনীর মহড়ায় রাশিয়া নতুন করে
ঘাঁটি তৈরির কথা ভাবতে শুরু করেছে। এছাড়া সোভিয়েত আমলে যুক্তরাষ্ট্রের
সীমানা থেকে মাত্র ১০০ মাইল (ফ্লোরিডা থেকে ৬০ মাইল দূরত্বে) দূরে সামরিক
ঘাঁটি গড়ে তোলার জন্য রাশিয়াকে প্রস্তাব দিয়েছিল কিউবা।
যুক্তরাষ্ট্রের
সন্নিকটে দক্ষিণ আমেরিকার কিউবায় নৌঘাঁটি থাকলে তা রাশিয়াকে সম্ভাব্য
রুশ-মার্কিন সামরিক সংঘর্ষে ব্যাপক রণকৌশল সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন
বিশ্লেষকরা। প্যানকভ আরও বলেন, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিষয়টি
নিয়ে পুনরায় ভাবতে শুরু করেছে। তবে রাশিয়ার এ ধরনের মন্তব্যে ভিয়েতনাম ও
কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া
যায়নি। পরমাণু অস্ত্র বাড়াচ্ছেন পুতিন, কমাচ্ছেন ওবামা : পরিসংখ্যানে দেখা
গেছে, ১ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অধিকসংখ্যক পরমাণু অস্ত্র
মোতায়েন করেছে রাশিয়া। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের হিসাবে তা ৪২৯টির চেয়েও
বেশি। তবে এতে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ, পরমাণু টর্পেডো মোতায়েনের এ
সংখ্যা সম্ভবত ক্ষণস্থায়ী। এ ব্যবধান তৈরির কারণ খুবই সাধারণ। কারণ
যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু অস্ত্র কমালেও বাড়াচ্ছে সাবমেরিন, বোমারু বিমান এবং
সিইলো মিসাইলের সংখ্যা। কিন্তু রাশিয়া সম্প্রতি পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা
বাড়িয়েছে। উভয় দেশের পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন নিয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদেন
প্রকাশ করেছে দ্য ডেইল বিস্ট। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের বিষয় হল,
রাশিয়া মোট ১৭৯৬টি পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন করেছে।
এর মধ্যে বৃহৎমাত্রার
২৪৬টি পরমাণু অস্ত্র ও মধ্যম মাত্রার ১৫৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। মার্কিন
পররাষ্ট্র দফতরের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্র ১৩৬৭টি টর্পেডোসহ সাবমেরিন মিসাইল,
পরমাণু অস্ত্র সংবলিত বোমারু বিমান, আন্তঃমহাসাগরীয় ব্যালাস্টিক মিসাইল
মোতায়েন করেছে। পরমাণু অস্ত্র কমানোর জন্য ২০১১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে নতুন
নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি নিউ স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশান ট্রিইটি (নিউ
স্টার্ট) স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র। নিরস্ত্রীকরণ এ চুক্তি হলেও উভয় দেশই
প্রতিযোগিতা করে অস্ত্র বাড়িয়ে চলেছে। ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর দু’দেশের মধ্যে
নিউ স্টার্ট চুক্তির সময়সীমা শেষ হবে। এজন্য পরবর্তী ১৭ মাসের এ সময়ের
মধ্যে রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্র বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কমানোর ফলে পরমাণু
ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। আর্মস কন্ট্রোল ওঙ্ক-এ ব্লগ লেখক
জেফরি লিউস বলেন, দৈনিক পরমাণু অস্ত্র কমা-বাড়ার এ খেলায় একদিন উভয় দেশের
সেনারা ভুল পথে পরিচালিত হতে পারেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, উভয় দেশই তাদের
অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে। মার্কিন নিউক্লিয়ার ইনফরমেশন
প্রজেক্টের পরিচালক হ্যানস ক্রিসটেনসেনের পরিসংখ্যান অনুসারে, উভয় দেশের
প্রায় ৪ হাজার ৫০০টির অধিক টর্পেডো রয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে নিউ
স্টার্ট চুক্তির আওতায় দু’দেশই তাদের পরমাণু ওয়ারহেডের সংখ্যা দেড় হাজারে
নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেখানে কেন নতুন করে পরমাণু অস্ত্রের
উন্নয়নে মরিয়া হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ
পরমাণু অস্ত্র নিয়ে উভয় দেশের দ্বিমুখী নীতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
No comments:
Post a Comment