সাতক্ষীরার কলারোয়ার পালপাড়ার মৃত্তিকা
শ্রমিকদের নির্মিত টালি বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। বর্ষায় উৎপাদন কিছুটা
বাধাগ্রস্ত হলেও রফতানিকারকদের চাহিদা মেটাতে প্রতিদিনই ব্যস্ত সময় পার
করছে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। এসব মৃত্তিকা শ্রমিক আগে হাঁড়ি, পাতিল ও কলস
তৈরি করত। কালের বিবর্তনে সেই কদর এখন আর নেই। তবে টিকে রয়েছে টালি শিল্প।
পুরনো জ্ঞান ধারণার সঙ্গে বিশ্বমানের নান্দনিক কারুকার্য করা টালি দেশের
গণ্ডি পেরিয়ে ইতালিতে ব্যবহƒত হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে ‘কাররা
এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড’র বিশেষ উদ্যোগে এ টালি ইতালি পাড়ি
দেয়া শুরু করে। স্থানীয়রা জানান, ইতালির ব্যবসায়ী রাফাইল আলদো এক সময়
বাংলাদেশে এসে বসতঘরের ছাউনি হিসেবে মাটির টালির ব্যবহার দেখে মুগ্ধ হন। এর
সৌন্দর্য পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে নতুন ছাঁচের টালি তৈরি করে তা ইতালিতে
রফতানি করলে গ্রহণযোগ্যতা পাবে কিনা তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন তিনি।
নতুন ছাঁচে তৈরি টালি ভবনের ফ্লোর, ওয়াল এবং ছাদে ব্যবহার করা হলে তা যেমন
দর্শনীয় হয়ে উঠবে, তেমনি তা হবে স্থায়িত্বের প্রতীক। এ ধারণা নিয়ে শুরু হয়
টালি তৈরি।
জানা গেছে, বিশ্বমানের ও রফতানিযোগ্য মৃত্তিকা পণ্য বাজার গড়ে
তোলার জন্য ইতালির ব্যবসায়ী রাফাইল বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় প্রথমে
নারায়ণগঞ্জে স্থাপন করেন একটি টালি কারখানা। এর অংশীদার হন সাতক্ষীরার অপর
রফতানিকারক রুহুল আমিন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে তৈরি টালিতে ব্যবহƒত মাটির গুণ
ভালো না হওয়ায় তা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। অবশেষে খুঁজতে খুঁজতে সেই উপযোগী
মাটি মিলে যায় সাতক্ষীরার কলারোয়ায়। ২০০০ সাল থেকেই কলারোয়ার মুরারিকাঠি
গ্রামে বেত্রাবতী নদীর তীরে গড়ে ওঠে টালি কারখানা। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে
সাতক্ষীরার তুজলপুর, ঝাউডাঙ্গা, পাটকেলঘাটা এবং চুকনগরসহ বেশ কয়েকটি
স্থানে। শুধু মুরারিকাঠিতেই রয়েছে ৪০টি কারখানা। এসব কারখানার শ্রমিকরা
একদিকে যেমন দেশে উপযোগী ঘর ছাউনির টালি তৈরি করছেন, তাদের সেই একই হাত ফুল
অঙ্কিত মাটির টালি রফতানি করছে ইতালিতে। কলারোয়া ক্লে টাইলসের
স্বত্বাধিকারী গোষ্ঠ চন্দ্র পাল জানান, প্রতি বছর গড়ে চার শত কনটেইনার টালি
কলারোয়া থেকে রফতানি হয়ে থাকে। সাতক্ষীরার কলারোয়ার মাটি বেলে-দোআঁশ
প্রকৃতির। টালি তৈরির জন্য খুবই উপযোগী। স্থায়িত্ব বেশি হওয়ায় এ টালির কদর
বাড়ছে দিন দিন। কলারোয়ার মুরারিকাঠিতে ৪০টি কারখানা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি
বলেন, বায়ারদের কাছ থেকে টালির টাকা যথাসময়ে পাওয়া যায় না। ফলে কাজে সমস্যা
দেখা দেয়। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের পাঁচশত পরিবার টালি তৈরির ওপর নির্ভরশীল।

No comments:
Post a Comment