ভারত
নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে
জঙ্গিরা (মিলিট্যান্টস)। এতে এক বিএসএফ জওয়ান নিহত হয়েছেন। এর আগে
কাশ্মিরের উরি এলাকায় এক হামলায় ১৮ ভারতীয় সেনা সদস্য নিহত হওয়ার পর ভারত ও
পাকিস্তানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দু’দেশই যুদ্ধংদেহী মনোভাব
দেখাচ্ছে। এরই মধ্যে বিতর্কিত সীমান্ত এলাকা থেকে ভারত ১০ হাজারেরও বেশি
মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে এ হামলা হয়েছে। বলা হয়েছে,
রোববার শেষ রাতে এ হামলা হয়েছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে,
ভারতীয় সেনা ক্যাম্পে গুলি চালিয়েছে ‘টেরোরিস্টস’। এ খবর দিয়েছে অনলাইন
সিএনএন। এতে বলা হয়েছে, নিহত সদস্য ভারতীয় আধা সামরিক বাহিনী (বিএসএফ)
কর্মকর্তা। ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন। এ তথ্য দিয়েছেন ভারতীয় পুলিশের
সিনিয়র একজন সুপারিনটেনডেন্ট ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘মিলিট্যান্টরা’
গ্রেনেড হামলা চালায়। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি ছোড়ে। তাতে বিএসএফের
দু’জওয়ান আহত হন। তাদের একজন পরে মারা যান। তবে হামলা এখন থেমে গেছে। ভারত
নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের মূল শহর শ্রীনগর থেকে ৫৪ কিলোমিটার উত্তরে বড়মুল্লা
শহরে এ ঘটনা ঘটেছে। এর পর ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি
দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ক্যাম্পটিতে গুলি চালিয়েছে ‘টেররিস্টরা’। তবে এতে
বিস্তারিত কিছু বলা হয় নি। কাশ্মির নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুগের পর
যুগ উত্তেজনা বিরাজ করছে। এটি বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের একটি প্রতীক
হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৮ই সেপ্টেম্বর উরিতে সেনা ঘাঁটিতে হামলায় ১৮ সেনা
সদস্যকে হত্যার পর এই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এর দু’সপ্তাহেরও কম
সময়ে ভারতের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে’ পাকিস্তানের দু’সেনা সদস্য নিহত হন।
ভারত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক দাবি করলেও পাকিস্তান ওই দাবিকে প্রত্যাখ্যান
করেছে। তারা বলেছে, ভারত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালায় নি। ওটা ছিল নিয়ন্ত্রণ
রেখার দু’পাড়ে গুলি বিনিময়। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ভারত ১০ হাজারেরও বেশি
সাধারণ মানুষকে সীমান্ত থেকে সরিয়ে নিয়েছে। এখানেই শেষ নয়। শনিবার সকালেও
দু’দেশের সেনাদের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়েছে। এ জন্য পারমাণবিক শক্তিধর এ
দু’টি দেশ উস্কানি দেয়ার জন্য একে অন্যকে দায়ী করছে। ৭০ বছর ধরে কাশ্মির
নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে টানাটানি চলছে। দু’দেশই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ
কাশ্মিরের কিছু অংশ আলাদাভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এ নিয়ে ১৯৪৭ ও
১৯৬৫ সালে তাদের মধ্যে দুটি যুদ্ধও হয়ে গেছে। ১৯৯৯ সালে তৃতীয় আরেকটি
যুদ্ধের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল তারা। কিন্তু তা থেকে তারা ফিরে
এসেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এক দশকের মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতি সবচেয়ে
বেশি উত্তেজনাকর।
>>>মানবজমিন

No comments:
Post a Comment