Sunday, October 2, 2016

সামনে এবার ইংল্যান্ড

কঠোর নিরাপত্তায় পরশু রাতে বাসে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর
থেকে হোটেলে যাচ্ছেন ইংল্যান্ড ক্রিকেটাররা। কাল ইংল্যান্ড দলের
খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের কয়েকজন গলফ খেলতে গেলেন কুর্মিটোলার
গলফ কোর্সে। সেখানেই ক্যামেরায় ধরা পড়লেন ইংল্যান্ডের টিম
ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস l ছবি: রয়টার্স ও গলফ হাউসের সৌজন্যে
ক্লান্তি মাশরাফি বিন মুর্তজার শরীরজুড়ে। আফগানিস্তান ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আবার পড়ে যান উইকেটের ওপর। তাতে খনিকের জন্য হৃৎস্পন্দনই বন্ধ হওয়ার উপক্রম মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের! মাশরাফি আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন। অসাধারণ বোলিংয়ে আফগান ব্যাটসম্যানদের চেপেও ধরেছেন। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ধাক্কা খাওয়ার পর অধিনায়কের মতো বাংলাদেশও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত সিরিজটা করে নিয়েছে নিজেদের। স্বস্তি তো আছেই, এই জয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের আত্মবিশ্বাসের রসদও খুঁজে পাচ্ছেন মাশরাফি, ‘দ্বিতীয় ম্যাচে হারলে একটা চাপ থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পেরে ভালো লাগছে। সামনে যে সিরিজ আসছে, সেটা আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। যদি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে পারি, আশা করি আমাদের সুযোগ থাকবে।’ মাশরাফি উইকেটে হঠাৎ করে পড়ে যাওয়ায় সংশয়ের ছেঁড়া মেঘ দেশের ক্রিকেটাকাশে। অধিনায়ক অবশ্য আশ্বস্তই করছেন, ‘পরে বোলিং করেছি ছোট রান আপে। এখন কী অবস্থা বলতে পারছি না। আশা করি যে ব্যথাটা আছে, সেটি ঠিক হয়ে যাবে। একটু ফুলেছে, ঠিক হয়ে যাবে।’ তামিম দারুণ করেছেন, কিন্তু বাংলাদেশ হেরেছে এমন উদাহরণ কমই আছে।
কালও যেমন বাংলাদেশের বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন বাঁহাতি ওপেনার। মাশরাফির মতো তামিমের কণ্ঠেও একই অনুরণন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই জয় বেশ কাজে দেবে ইংল্যান্ড সিরিজে, ‘আমাদের এভাবেই জেতা উচিত ছিল। প্রথম বা দ্বিতীয় ম্যাচে সন্দেহ নেই, তারা ভালো খেলেছে। আজ আমরা অনেক ভালো অবস্থায় ছিলাম। তবে আরও কিছু কিছু জায়গায় আমরা উন্নতি করতে পারি। আমাদের জন্য এটা বাঁচা-মরার ম্যাচ ছিল। সামনে একটা বড় সিরিজ আছে। এই জয়ে সবার আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে।’ মোহাম্মদ নবীর বলে তামিম যখন জীবন পেলেন তখন তাঁর রান ১। আসগর স্টানিকজাইয়ের শিশুতোষ ভুলের সুযোগে বাঁহাতি ওপেনার পরে সেঞ্চুরি করে ফিরেছেন। তামিম অবশ্য নিজেও ভাবতে পারেননি এমন একটা সুযোগ পাবেন, ‘সাধারণত আমি জীবন পেলে ভালো কিছু করতে পারি না। আমার রেকর্ড তাই বলে। কল্পনাও করিনি যে ক্যাচটা সে ছেড়ে দেবে। নিজেকে বুঝিয়েছিলাম, দিনটা আমার হবে। আমি তখন ১ রানে ছিলাম। ভেবেছিলাম, আরও অনেক দূর যেতে হবে।’ তামিম অনেক দূরে গেছেন, তাঁর হাত ধরে বাংলাদেশও পেয়েছে দুর্দান্ত জয়। তবে স্টানিকজাই হতাশ হচ্ছেন না; বরং আফগান অধিনায়ক এই সিরিজ থেকে খুঁজে পাচ্ছেন প্রাপ্তির অনেক নুড়িপাথর, ‘আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ ছিল এটি। প্রথম দুই ম্যাচে ওদের জন্য পরিস্থিতি অনেক কঠিন করে দিয়েছি। এই ম্যাচগুলো আমাদের অভিজ্ঞতা অনেক বাড়িয়ে দেবে।’

No comments:

Post a Comment