ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারলেও,
হাসপাতাল থেকে রিলিজ পাওয়া রোগীদের ঢাকা মেডিকেল থেকে নেয়ার জন্য কোনো
অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাচ্ছে না। গত শনিবার হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে
একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চাপায় চারজন নিহত হয়। এ ঘটনায়
অ্যাম্বুলেন্সের চালক সোহেলকে আটক করা হয়। পরে ধর্মঘট ডাকে অ্যাম্বুলেন্স
মালিকদের সংগঠন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বজন ফারুক হোসেন জানান,
বংশাল নয়াবাজার এলাকা থেকে এক সপ্তাহ আগে দুলাভাই জু্ম্মন আলী (৬৫) পায়ের
সমস্যা নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের ভর্তি হয়। তিনি ২১৯ নং ওয়ার্ডে ছিলেন। আজ
সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তিনি
আরও বলেন, দুলাভাইয়ের
মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। সকাল ১০টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি কোনও
অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছি না। এখন বিপদে পড়েছি কীভাবে লাশ নিয়ে ফিরবো বুঝতে
পারছি না। রোগীর স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে গেলে অ্যাম্বুলেন্স
সিন্ডিকেট বলছে, সমস্যার কারণে কোনও অ্যাম্বুলেন্স বাইরে যাবে না।
ধর্মঘটের বিষয়ে মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দীনা বলেন, আমরা কোনও
ধর্মঘটের ডাক দেইনি। শনিবার অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনার কারণে পুলিশের ভয়ে
আমরা হাসপাতাল এলাকায় যাচ্ছি না। এ ব্যপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের
উপ-পরিচালক ডা. খাজা আব্দুল গফুর জানান, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট
ডেকেছে এমন খবর তার জানা নেই। তাছাড়া এ বিষয়টি হাসপাতালের বিষয় নয়। গত
শনিবার বেপরোয়া অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
(ঢামেক) চত্বরে মা-ছেলেসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হন আরো পাঁচজন।
নিহতরা হলেন- সাকিব (৭), তার মা গুলেনুর বেগম (২৫), অন্তঃসত্ত্বা আমেনা
বেগম (৩৫) ও অজ্ঞাত পরিচয় এক পুরুষ।

No comments:
Post a Comment