একখানা
টিনের চালার ঘর। আলো আঁধারির ছায়ার
মধ্য দিয়ে সরু রাস্তা ধরে এগিয়ে যেতে যে কারও গা একটু হলেও ছমছম করবে।
খুলনা নগরীর খালিশপুরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে দ্যুতি ছড়ানো হিরার টুকরো মেহদী
হাসান মিরাজের বাড়ির অবস্থাটি ঠিক এমনই। তবে রোববার সন্ধ্যার চিত্র ছিল
সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয়ের
পর এ জয়ের নায়কের বাড়িতে মিষ্টি আর ফুল হাতে মানুষের ঢল নামে। বাড়িতে
শুভেচ্ছা জানাতে আসা অতিথিদের আপ্যায়ন করতে হিমশিম খেতে হয়েছে মিরাজের বাবা
মো. জালাল হোসেনকে। মা মিনারা বেগম শুভেচ্ছা জানাতে আসা সবার প্রতি নজর
দিতে পারেননি অভিনন্দন জানাতে করা আত্মীয় স্বজনের ফোন রিসিভ করতে ব্যস্ত
থাকার কারনে। মিরাজের একমাত্র বোন রুমানা আক্তার মিম্মা তাই বাবাকে
সহযোগিতা করছেন। বাড়ির উঠানে আগের দিনের বৃষ্টির পানি এখনও জমে আছে।
কিন্তু
তা উপেক্ষা করে বাংলাদেশ দলের 'মিরাকল বয়' মিরাজের বাড়িতে শুভেচ্ছা জানাতে
আসা লোকজনের। দুই টেস্টে ১৯ উইকেট নেয়া মেহেদী হাসান মিরাজ এখন স্থানীয়দের
কাছে জাতীয় বীরের মর্যাদা পেয়েছেন। রোববার রাতে যুগান্তরের এ প্রতিবেদকের
সঙ্গে কথা হয় মিরাজের বাবা জামাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ছেলের সাফল্যে
আমি গর্বিত। আমার ছেলে যে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিতে পেরেছে এজন্য আমি
আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। বোন রুমানা আক্তার মিম্মা বলেন, ভাই ভাল
খেলায় আত্মীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশী সবাই মিষ্টি নিয়ে হাজির হয়েছেন। বাবাও
এ আনন্দে মিষ্টি কিনে এনে সবাইকে খাইয়েছেন। সন্ধ্যার পর মিরাজের বাড়িতে
ছুটে যান স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সন্ধ্যায় মিষ্টি নিয়ে হাজির হন
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার মো. কামরুল ইসলাম, কোচ
শাহনেওয়াজসহ আরও অনেকে। মেহেদী হাসান মিরাজের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়
টেস্টে ম্যান অব দ্য ম্যাচ এবং পুরো সিরিজের ম্যান অব দ্য সিরিজ নির্বাচিত
হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। উনিশ বছর বয়সী বাংলাদেশী এই স্পিনার ঢাকার
এই ম্যাচে দুটো ইনিংসে ছ'টি করে মোট ১২টি উইকেট নিয়েছেন। আর চট্টগ্রাম ও
ঢাকা মিলে পুরো সিরিজে নিয়েছেন ১৯টি উইকেট। দ্বিতীয় ম্যাচটিতে টেস্ট
ক্রিকেটের কুলীন দল ইংল্যান্ড যখন বিনা উইকেটে শত রান সংগ্রহ করে এগিয়ে
যাচ্ছিলো তখন বাংলাদেশের দরকার ছিলো একটি উইকেট নিয়ে সেই ছন্দ ভেঙে দেয়া।
আর সেই কাজটিই করেন মিরাজ। সফরকারী দলের জুটি ভেঙে দেন তিনি। তারপরেই শুরু
হয় ইংল্যান্ডের উইকেটের পতনের বিরামহীন বৃষ্টি। মিরাজের ঘূর্ণিঝড়ে তারপর
ইংল্যান্ড দল আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। বাংলাদেশ এনে দেন এক অবিস্মরণীয় জয়।

No comments:
Post a Comment