যুক্তরাজ্য
বাংলাদেশের রপ্তানির তৃতীয় বৃহত্তম গন্তব্যস্থল এবং প্রবাসী আয়ের অন্যতম
বাজার, পাউন্ডের অবমূল্যায়নে রপ্তানিকারকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, কমে যাবে
প্রবাসী আয় ১০০ টাকার নিচে নেমে গেছে পাউন্ডের দর। যুক্তরাজ্যের মুদ্রা
পাউন্ডের বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হয়েছে। ফলে পাউন্ড এখন বাংলাদেশে ১০০
টাকার নিচে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। টাকা-পাউন্ডের এই বিনিময় হার বিগত ছয় বছরের
মধ্যে সর্বনিম্ন। কিছু ব্যাংকে আরও কম দরে পাউন্ড ক্রয়-বিক্রয় করছে।
সোনালী ব্যাংকে এক পাউন্ড পাওয়া যাচ্ছে ৯৯ দশমিক ৫ পয়সায়। ইস্টার্ন ব্যাংকে
এ দর এখন ৯৭ টাকা ১৯ পয়সা। ২০১০ সালের ৯ জুন এক পাউন্ডের দর ছিল ১০০ টাকা
১২ পয়সা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্য সরে আসায় (ব্রেক্সিট)
পাউন্ডের এ অবমূল্যায়ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গত জুনে
ব্রেক্সিট ভোটের পর এখন পর্যন্ত টাকার বিপরীতে পাউন্ডের দর কমেছে প্রায় ১৬
থেকে ১৭ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের
তথ্যমতে, ২০ জুন এক পাউন্ডের বিনিময় দর ছিল ১১৫ দশমিক ২০ টাকা। কেবল
বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই পাউন্ডের এখন বেহাল দশা। গত মঙ্গলবার
বিশ্ববাজারে পাউন্ডের দর ছিল গত ৩১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। প্রতি মার্কিন
ডলারের বিপরীতে মঙ্গলবার পাউন্ডের বিনিময় মূল্য নেমে আসে ১ দশমিক ২৭৭৮
ডলারে। ব্রেক্সিট কার্যকর করার প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে—যুক্তরাজ্যের
প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সম্প্রতি এমন ঘোষণা দিয়েছেন। আর এর পরেই পাউন্ডের
বিনিময় মূল্যে এ নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ডলারের বিপরীতে শুধু এক
দিনেই পাউন্ড দর হারিয়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। এ বিষয়ে ইস্টার্ন ব্যাংকের
ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখারও এ অবমূল্যায়নের কারণ হিসেবে
ব্রেক্সিটের কথা জানান। তিনি বলেন, ব্রেক্সিটের কাজ আগামী বছরের মার্চ থেকে
শুরু হলেও এর প্রভাব এখনই পড়তে শুরু করেছে। সামনে পাউন্ডের দর আরও কমতে
পারে। এখন দেখতে হবে যুক্তরাজ্য পাউন্ডের অবমূল্যায়ন ঠেকাতে কী পদক্ষেপ
নেয়।
একসময় বাংলাদেশের বিনিময় হার নির্ধারণে ভিত্তি মুদ্রা হিসেবে পাউন্ডকে বেছে নিয়েছিল। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ঐতিহ্যগত সম্পর্কের কারণেই ১৯৭২ সালে এই ব্যবস্থা করা হয়। তবে বাংলাদেশে পাউন্ডের একক রাজত্ব চলে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত। কিন্তু তত দিনে বিশ্ব পাউন্ডকে পেছনে ফেলে ডলার সবচেয়ে ব্যবহৃত মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের গুরুত্ব বাড়তে থাকলে বিনিময় হার নির্ধারণেও ডলারকে বেছে নেওয়া হয়। তারপরও পাউন্ডের অব্যাহত দরপতনে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের রপ্তানির তৃতীয় বৃহত্তম গন্তব্যস্থল এবং প্রবাসী আয়ের অন্যতম বাজার। পাউন্ডের অবমূল্যায়নে রপ্তানিকারকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, সেই সঙ্গে প্রবাসী আয় কমে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, পাউন্ডের অবমূল্যায়নের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যে, যা সহজ অর্থনৈতিক যুক্তিতে চাহিদা কমিয়ে দেবে। এ ছাড়া বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার কম এবং দেশটিতে আমদানি পণ্যের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশের মতো।
একসময় বাংলাদেশের বিনিময় হার নির্ধারণে ভিত্তি মুদ্রা হিসেবে পাউন্ডকে বেছে নিয়েছিল। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ঐতিহ্যগত সম্পর্কের কারণেই ১৯৭২ সালে এই ব্যবস্থা করা হয়। তবে বাংলাদেশে পাউন্ডের একক রাজত্ব চলে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত। কিন্তু তত দিনে বিশ্ব পাউন্ডকে পেছনে ফেলে ডলার সবচেয়ে ব্যবহৃত মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের গুরুত্ব বাড়তে থাকলে বিনিময় হার নির্ধারণেও ডলারকে বেছে নেওয়া হয়। তারপরও পাউন্ডের অব্যাহত দরপতনে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের রপ্তানির তৃতীয় বৃহত্তম গন্তব্যস্থল এবং প্রবাসী আয়ের অন্যতম বাজার। পাউন্ডের অবমূল্যায়নে রপ্তানিকারকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, সেই সঙ্গে প্রবাসী আয় কমে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, পাউন্ডের অবমূল্যায়নের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যে, যা সহজ অর্থনৈতিক যুক্তিতে চাহিদা কমিয়ে দেবে। এ ছাড়া বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার কম এবং দেশটিতে আমদানি পণ্যের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশের মতো।
অর্থাৎ
আমাদের থেকে পণ্য নিতে যুক্তরাজ্যের ক্রেতাদের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, যা তাদের
ভোক্তা ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে। আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশের
রপ্তানির চাহিদা দেশটিতে সংকুচিত হচ্ছে। এতে আমাদের তৈরি পোশাক খাত
ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া রেমিট্যান্সেও বেশ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
রপ্তানিকারক সমিতির (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন,
‘যুক্তরাজ্যে আমাদের তৈরি পোশাকের বাজার প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের।
আমরা রপ্তানিকারকেরা আগে যেখানে ১ পাউন্ডে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা পেতাম। এখন
আমরা তার পরিবর্তে পাব ১ পাউন্ডের বিপরীতে ৯৭ থেকে ৯৮ টাকা। ব্যাপকভাবে
ক্ষতিগ্রস্ত হব আমরা।’ সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘এ ছাড়া প্রধান আরেকটি যে
সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে, তা হলো তীব্র প্রতিযোগিতা। আমরা প্রতিযোগিতায়
পিছিয়ে পড়ব। আমাদের পণ্য দামি হয়ে গেলে অন্য বাজার সহজে প্রবেশ করবে
যুক্তরাজ্যে। যুক্তরাজ্যে শুধু তৈরি পোশাক নয়, বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি
করা হয়। তাই বৃহৎ এই গন্তব্যস্থলে রপ্তানিকারকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের
অর্থনীতিতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই।’

No comments:
Post a Comment