![]() |
| মঙ্গলবার পুরনো চেহারায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের অংশ, যা ১০ দিন আগে তুলে দেয়া হয়েছিল যুগান্তর |
আবারও দোকানপাট বসার কারণে অবৈধ দখলে চলে
গেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের সড়ক ও ফুটপাত।
মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এখানকার সব অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ও প্রভাবশালীদের সহায়তায় এই সড়কে ফের দোকান বসানো
হয়েছে। প্রত্যেক দোকান থেকে নিয়মিতভাবে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ১৫ অক্টোবর
সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে
অ্যাম্বুলেন্সচাপায় নারী-শিশুসহ ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
এরপর
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান
চালানো হয়। এ সময় ঢাকা মেডিকেলের সামনের সড়ক ও দু’পাশের ফুটপাতের শতাধিক
ব্যবসায়ী তাদের দোকান সরিয়ে নেন। মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা
মেডিকেলের সামনের রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে নতুন করে দোকানপাট বসানো হয়েছে।
জরুরি বিভাগের সামনের রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে বসেছে ৭৭টি দোকান। এর মধ্যে
১০টি ফলের, ৫টি কসমেটিক্সের, ৫টি প্লাস্টিকেরসহ বিভিন্ন দোকানপাট রয়েছে।
বিপরীত পাশের ফুটপাতে ৩টি খাবার হোটেলসহ ১০টি দোকান চালু করা হয়েছে। চালুর
প্রস্তুতি নিচ্ছেন আরও অন্তত ১৫ জন। বহির্বিভাগের গেটের সামনে চালু হয়েছে
২৭টি দোকান। জরুরি বিভাগের উল্টোপাশে ভাতের হোটেল চালান শহীদুল্লাহ। তিনি
যুগান্তরকে বলেন, রোগীর স্বজনের খাবারের সমস্যার কথা বিবেচনা করে সোমবার
থেকে দোকান চালু করেছেন। শহীদুল্লাহ বলেন, যতদিন ঢাকা মেডিকেল থাকবে, ততদিন
এখানে দোকান চলবে, উচ্ছেদের নামে শুধু চাঁদাবাজ ও পুলিশের রেট বাড়ে। তিনি
বলেন, এখন পুলিশ আর আওয়ামী লীগের নেতারা নিয়ন্ত্রণ করে ফুটপাত। চাঁদার রেট
কত বেড়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি যুগান্তরকে জানান, আলাপ-আলোচনা চলছে,
এখনও নির্ধারিত হয়নি।
প্লাস্টিকের দোকানি রেজাউল জানান, সিটি কর্পোরেশনের
লোকজন সোমবারও এসেছিল, তাদের দেখে দোকানপাট সরিয়ে নেন তারা। নাম প্রকাশ না
করে ফুটপাতের এক দোকানি জানান, ঢাকা মেডিকেলের সামনের ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ
করেন জনৈক আবুল হাশেম। তিনি পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ
করেন। প্রত্যেক দোকান থেকে ১০০ থেকে শুরু করে ৩০০ এমনকি দৈনিক ৫০০ টাকাও
দিতে হয়। এছাড়া দোকান বসানোর সময় তাকে দিতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের ফুটপাত থেকে মাসে ১৫ লাখ টাকার মতো চাঁদা
ওঠে। ঢাকা মেডিকেলের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে জরুরি বিভাগের সামনের সড়ক
দিয়ে হেঁটে নিমতলীর বাসায় ফিরছিলেন জাহানারা বেগম। তিনি বলেন, রোববার
চিকিৎসা নিতে এসে দেখি রাস্তায় কোনো দোকানপাট নেই। কিন্তু একদিন পর আবার
দেখি আগের অবস্থা। ফুটপাতে দোকান বসানো ও চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে
আবুল হাশেম অস্বীকার করে বলেন, আমি এসবে জড়িত নই। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ি, শাহবাগ থানা পুলিশ এসব দোকান থেকে
মোটা অঙ্কের টাকা পাচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাহবাগ থানার ওসি আবু
বকর সিদ্দিক বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। এরপরও এসব দোকান বসছে।
পুলিশ যাওয়ার আগেই সরিয়ে নেয়া হয় এসব দোকান।

No comments:
Post a Comment