যুক্তরাষ্ট্রের
ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও তার হোয়াইট হাউস
প্রচারণার ওপর নতুন করে শুক্রবার এক রাজনৈতিক ভূমিকম্প অনুভূত হয়। যদিও সে
ভূকম্পনের রেশ তাদের কাছে পৌঁছায় বেশ পরে। সম্ভবত হিলারি ও তার প্রচারণা
শিবির ৮ নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে পরবর্তী কোনো সমাবেশে যোগদানের
জন্য বিমানে চড়ছিলেন। তবে এ কম্পন বিশ্বরাজনীতিতে দোলা দিয়েছে। হিলারির
ঘাড়ে চেপেছে ‘অক্টোবর সারপ্রাইজ’ এফবিআই ভূত। হিলারির ই-মেইল বিতর্ক নিয়ে
পুনরায় তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে এফবিআই। নির্বাচনের মাত্র ৮ দিন আগে
হিলারির ওপর এ ধরনের বোঝা নেমে আসায় চাপে থাকবেন তিনি। অন্যদিকে উল্লসিত
হবেন রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ খবরে
ভোটারদের মধ্যে বিষণœতা ছড়ানোর আগেই জোরেশোরে হিলারি দাবি তুলেছেন, নতুন
তদন্তে আগের সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হবে না। হিলারির বিমান থেকে
ডেমোক্রেটিক দলের প্রচারণা ম্যানেজার রুবি মক সাংবাদিকদের বলেন, ভোটাররা
‘প্রসন্নতা’ হারালে এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে দেখা দেয়। নির্বাচনের শেষ
মুহূর্তে দেশের আনাচে-কানাচে সমাবেশ করে বেড়াচ্ছেন দুই প্রার্থী। হিলারি
আইওয়াতে সমাবেশ করার জন্য বিমানে ছিলেন,
অন্যদিকে ট্রাম্প ছিলেন অন্য
রাজ্যে। এরই মধ্যে হিলারির ব্যক্তিগত সার্ভারে ব্যবহার করা নতুন কিছু
ই-মেইলের সন্ধান পেয়ে তদন্তের ঘোষণা দেয় এফবিআই। এ খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে
পড়তে থাকে। পরে বিমানের স্বল্প ওয়াইফাই সংযোগের মাধ্যমে তা কানে যায়
হিলারির। মক ও ডেমোক্রেটিক দলের যোগাযোগ পরিচালক জেনিফার পালমেইরির
সভাপতিত্বে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা আরও স্পষ্ট হয়। কিছুক্ষণ পরেই
এফবিআইয়ের টুইটার বার্তা পড়ে হিলারির ই-মেইল তদন্তের বিষয়ে অবগত হয়ে এক
সাংবাদিক তার এক সহযোগীর কাছে এর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি কিছুই জানেন
না এমন ভাব করেন। এমনকি তড়িঘড়ি করে তিনি সেখান থেকে যাওয়ার চেষ্টা
করছিলেন। হিলারির নির্বাচনী প্রচারণা শিবিরের চেয়ারম্যান জন পোডেস্টা এক
বিবৃতিতে এ সময়ে এফবিআইয়ের এমন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। এফবিআইয়ের
পরিচালক জেমস কমির কাছে তাড়াতাড়ি তদন্ত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার আইওয়াতে নির্বাচনী সমাবেশের আগে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের কোনো
প্রশ্নের জবাব দেননি হিলারি।
তবে বিখ্যাত ফটো সাংবাদিক অ্যানি লেইভোভিটজের
ক্যামেরার সামনে হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন তিনি। ডেস মইনেস উচ্চ বিদ্যালয়ে সমাবেশ
শেষে এক বিবৃতিতে হিলারি বলেন, মার্কিন নাগরিকরা অতি শিগগিরই এ তদন্তের
পূর্ণাঙ্গ ও আসল বিষয় জানতে চায়। ই-মেইল তদন্তের ব্যাখ্যা মার্কিন জনগণের
সামনে তুলে ধরার জন্য এফবিআই পরিচালকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরও
বলেন, এফবিআইএ’র এ তদন্তের বিষয়টি খবরে সাংবাদিকরা যেভাবে প্রকাশ করেছে আমি
সেটাই জেনেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জুলাই মাসে এফবিআই যে তদন্ত
প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল, নতুন এ তদন্তে তার কোনো পরিবর্তন হবে না। ২০১৫ সালে
ফাঁস হওয়া ই-মেইল নিয়ে তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু পাওয়া যায়নি
বলে জানিয়েছিল এফবিআই। এ কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্ত
নিয়েছিল সংস্থাটি। তবে নির্বাচনের দোরগোড়ায় এ বিষয়টি সত্যিই অস্বস্তিকর।
ট্রাম্প শিবির দাবি করেছে, ওয়াটারগেট কেলেংকারির চেয়ে বড় কেলেংকারি এটি।
নিউইয়র্ক টাইমসের খবর অনুসারে, হিলারির সহকারী হুমা আবেদিনের স্বামী সাবেক
কংগ্রেসম্যান অ্যান্থনি ওয়েনারের ই-মেইল নিয়ে পৃথক তদন্ত চলাকালে
ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর ই-মেইল নিয়ে নতুন তদন্তের কথা জানতে পারে এফবিআই।
নর্থ ক্যারোলিনায় ১৫ বছরের এক কিশোরীর কাছে যৌন উস্কানিমূলক ই-মেইল পাঠানোর
ঘটনা নিয়ে ওয়েনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ২০১১ সালে তিনি পদত্যাগ করেন।

No comments:
Post a Comment