![]() |
| চন্ডিকা হাথুরুসিংহে |
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ হলো ‘নিধিরাম সরদার’। যুদ্ধ করে, কিন্তু যুদ্ধজয়ের ঢাল-তলোয়ার নেই। এই করে ১৬টি বছর পার হলো। আর কত?
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ নিয়ে সে জন্যই বড় কোনো আশা দিচ্ছেন
না চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। ইংল্যান্ড ভালো দল বলেই শুধু নয়, বাংলাদেশের
খেলোয়াড়দের টেস্টে ভালো খেলার সক্ষমতা তৈরি না হওয়াটাও কারণ। ঘাটতিটা
শারীরিক-মানসিক দুভাবেই। বিসিবির সঙ্গে অন্য বোর্ডগুলোর দ্বিপক্ষীয় চুক্তির
সুবাদে ক্রিকেটাররা হয়তো বছরে দু-চারটি টেস্ট খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে
‘আমরা টেস্ট খেলি’ বলা গেলেও গলায় জোর নিয়ে বলা যায় না। টেস্ট বাংলাদেশ
কেমন খেলে, সেটা যে মাঠে নামলেই পরিষ্কার হয়ে যায়!
তারপরও ক্রিকেটারদের চেষ্টায় কখনো কখনো টেস্টেও ভালো খেলে ফেলে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সে রকম কিছু ঘটলে খুশিই হবেন হাথুরুসিংহে। তবে সেটাকে বাস্তবতা বলবেন না। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে কাল সাংবাদিকদের বলছিলেন, ‘ম্যাচ জিতলে ভালো লাগবে। এটা আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে।’ সঙ্গে ‘জয়টা হবে বোনাস’ বলে বুঝিয়ে দিলেন, ২০ অক্টোবর থেকে শুরু টেস্ট সিরিজে অত বড় প্রত্যাশা তাঁরও নেই। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের বড় সমস্যা, খেলোয়াড়দের পাঁচ দিন মাঠে থাকার সামর্থ্য কষ্টি পাথরে যাচাই করার সুযোগ এখানে নেই। ‘এ’ দলের খেলা নিয়মিত না থাকায় একজন ক্রিকেটার সর্বোচ্চ আসরে কেমন করতে পারেন, সেটা পরখ করতে হয় তাঁকে জাতীয় দলে সুযোগ দিয়ে। অথচ প্রক্রিয়া এ রকম হওয়ার কথা নয়। সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার যোগ্য কি না, সেই পরীক্ষা খেলোয়াড়দের দিয়ে আসার কথা আগেই। হাথুরুসিংহের কণ্ঠে হতাশা, ‘একজন খেলোয়াড়কে আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এনে যাচাই করতে পারি না। অথচ বাংলাদেশের ক্রিকেট এই দুর্ভাগ্যের মুখোমুখি। আমরা খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে এনে বোঝার চেষ্টা করছি। এটা হতে পারে না।’ কোচের কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে এটিকেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে হয়। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট নিয়মিত নয় বলে হঠাৎ টেস্টে এসে খেলোয়াড়েরা চোটে পড়েন। ফর্ম ধরে রাখতে পারেন না। এই যে ইংল্যান্ড সিরিজটা শুরু হবে, তার আগে খেলোয়াড়েরা টেস্টের জন্য কতটা প্রস্তুত, সেটা বোঝারও তো উপায় নেই! অমুক আগে ভালো খেলেছে, তমুক ভালো খেলতে পারে—এমন আস্থা ও সম্ভাবনাই অবলম্বন খেলোয়াড় বাছাইয়ে। এভাবে একটা দল হয়তো গড়ে ফেলা যায়, সেই দল নিয়ে বড় আশা কি করা যায়? টেস্টের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে করা এক প্রশ্নে কোচ মনে করিয়ে দিলেন, ‘গোলাবারুদ না থাকলে পরিকল্পনা করা যায় না। হাতে যা আছে তা-ই দিয়ে চালিয়ে নিতে হবে এবং আমরা সে চেষ্টাই করছি। কাজেই অলৌকিক কিছু আশা করবেন না।
তারপরও ক্রিকেটারদের চেষ্টায় কখনো কখনো টেস্টেও ভালো খেলে ফেলে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সে রকম কিছু ঘটলে খুশিই হবেন হাথুরুসিংহে। তবে সেটাকে বাস্তবতা বলবেন না। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে কাল সাংবাদিকদের বলছিলেন, ‘ম্যাচ জিতলে ভালো লাগবে। এটা আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে।’ সঙ্গে ‘জয়টা হবে বোনাস’ বলে বুঝিয়ে দিলেন, ২০ অক্টোবর থেকে শুরু টেস্ট সিরিজে অত বড় প্রত্যাশা তাঁরও নেই। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের বড় সমস্যা, খেলোয়াড়দের পাঁচ দিন মাঠে থাকার সামর্থ্য কষ্টি পাথরে যাচাই করার সুযোগ এখানে নেই। ‘এ’ দলের খেলা নিয়মিত না থাকায় একজন ক্রিকেটার সর্বোচ্চ আসরে কেমন করতে পারেন, সেটা পরখ করতে হয় তাঁকে জাতীয় দলে সুযোগ দিয়ে। অথচ প্রক্রিয়া এ রকম হওয়ার কথা নয়। সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার যোগ্য কি না, সেই পরীক্ষা খেলোয়াড়দের দিয়ে আসার কথা আগেই। হাথুরুসিংহের কণ্ঠে হতাশা, ‘একজন খেলোয়াড়কে আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এনে যাচাই করতে পারি না। অথচ বাংলাদেশের ক্রিকেট এই দুর্ভাগ্যের মুখোমুখি। আমরা খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে এনে বোঝার চেষ্টা করছি। এটা হতে পারে না।’ কোচের কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে এটিকেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে হয়। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট নিয়মিত নয় বলে হঠাৎ টেস্টে এসে খেলোয়াড়েরা চোটে পড়েন। ফর্ম ধরে রাখতে পারেন না। এই যে ইংল্যান্ড সিরিজটা শুরু হবে, তার আগে খেলোয়াড়েরা টেস্টের জন্য কতটা প্রস্তুত, সেটা বোঝারও তো উপায় নেই! অমুক আগে ভালো খেলেছে, তমুক ভালো খেলতে পারে—এমন আস্থা ও সম্ভাবনাই অবলম্বন খেলোয়াড় বাছাইয়ে। এভাবে একটা দল হয়তো গড়ে ফেলা যায়, সেই দল নিয়ে বড় আশা কি করা যায়? টেস্টের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে করা এক প্রশ্নে কোচ মনে করিয়ে দিলেন, ‘গোলাবারুদ না থাকলে পরিকল্পনা করা যায় না। হাতে যা আছে তা-ই দিয়ে চালিয়ে নিতে হবে এবং আমরা সে চেষ্টাই করছি। কাজেই অলৌকিক কিছু আশা করবেন না।
আমার কাছে যা নেই,
সেটি নিয়ে আমি চিন্তিতও নই। যা আছে, সেটার সর্বোচ্চ ব্যবহারের চেষ্টা করব।’
সেখানেও বাধা টেস্ট খেলায় অনভ্যস্ততা। গত বছরের জুলাইয়ে সর্বশেষ টেস্ট
খেলেছে বাংলাদেশ। অথচ ওই সময় থেকে বাংলাদেশ সিরিজের আগ পর্যন্ত ইংল্যান্ড
খেলেছে ১৬টি টেস্ট। মাঝে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশ এত বেশি খেলেছে যে,
মাত্র সাত-আট দিনের অনুশীলনে টেস্টের মেজাজ ফিরিয়ে আনা কঠিন। ১৪ মাস পর
টেস্ট খেলতে নেমে তাই শারীরিক, মানসিক দুভাবেই নতুন করে মানিয়ে নেওয়ার
চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে বাংলাদেশকে। হাথুরুসিংহেও বলছিলেন, ‘আমরা ঘরোয়া
ক্রিকেটেও অনেক দিন যাবৎ দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে
এটাই চ্যালেঞ্জ। এক ফরম্যাট থেকে আরেক ফরম্যাটের খেলায় দ্রুত মানিয়ে
নেওয়ায় অভ্যস্ত হতে হবে খেলোয়াড়দের।’ ওয়ানডের টানা সাফল্য টেস্টের
পারফরম্যান্সে ইতিবাচক কোনো প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করেন না কোচ। সীমিত
ওভারের ক্রিকেটে সাফল্য পাওয়ার কারণ, এই খেলাটা নিয়মিত খেলায় কারা ভালো
খেলেন, সেটা সবার জানা। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট নিয়মিত না খেলায় টেস্টে সে
সুযোগ নেই। ‘টেস্ট ক্রিকেটের সঠিক কম্বিনেশন এখনো আমরা খুঁজে পাইনি’ বলে
হাথুরুসিংহে মূল আফসোসটা করলেন বোলিং নিয়ে, ‘উইকেট নেওয়ার মতো একজন লেগ
স্পিনার আমরা খুঁজছিলাম, কিন্তু সে-ও হারিয়ে গেল। অন্য স্পিনাররা হয়তো
ভালো, তবে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার মতো বোলিং কম্বিনেশন এখনো আমাদের
হাতে নেই।’ চোটের কারণে দেশের সেরা তিন পেসার মাশরাফি, মোস্তাফিজ আর
তাসকিন টেস্ট খেলছেন না। সেরা বোলিং কম্বিনেশন এরপর আর হয় কীভাবে!

No comments:
Post a Comment