Thursday, October 6, 2016

আয়েশা ও রুহুলের স্বপ্ন কি ভেঙে যাবে?

আয়েশা আক্তার ,রুহুল আমিন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্নপূরণ এখন হাতের মুঠোয়। তবে টাকার অভাবে সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কাও আছে। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া কিশোরগঞ্জের আয়েশা আক্তার ও ময়মনসিংহের রুহুল আমিন এই শঙ্কায় পড়েছেন। আয়েশা কিশোরগঞ্জের শহরতলির পূর্ব কলাপাড়ার আবু তাহেরের মেয়ে। তাহের কিশোরগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে পিঠা বিক্রি করেন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় আয়েশা নবম শ্রেণি থেকে উপবৃত্তির টাকা জমিয়ে রাখতেন। সেই টাকা দিয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-১৭ সেশনে ভর্তি পরীক্ষা দেন তিনি। মানবিক বিভাগে (‘খ’ ইউনিট) অর্জন করেছেন ৬৩৬তম স্থান। আয়েশা বলেন, কয়েক দিন পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কথা। কিন্তু এখনো টাকা জোগাড় হয়নি। বাবা আবু তাহের বলেন, ‘মেয়েটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু কী করব বুঝে উঠতে পারছি না।
টাকার অভাবে মেয়েটা কি উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে?’ আয়েশা কলাপাড়া হাজী আবদুল গফুর ইসলামিয়া মাদ্রাসা থেকে ২০১৪ সালের দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজ থেকে পেয়েছেন জিপিএ-৪.৫৪। অপর মেধাবী রুহুল আমিনের বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে। বাবা নিজামউদ্দিন অন্যের জমিতে কাজ করে যা উপার্জন হয়, তা দিয়ে চলে সংসার আর ছেলের পড়াশোনার খরচ। ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় রুহুল তারাকান্দার বকশিমুল উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পান। কয়েকজনের সহায়তায় রুহুল ভর্তি হন ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দ মোহন কলেজে। এ বছর জিপিএ-৪.৮৩ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটে ৭৮১তম স্থান পেয়েছেন। রুহুল বলেন, ‘১৬ সেপ্টেম্বর ভর্তি। শুনেছি, ভর্তি হতে ১০ হাজার টাকার মতো লাগবে। টাকার অভাবে শেষ পর্যন্ত ভর্তি হতে পারব কি না, তা জানি না।’

No comments:

Post a Comment