Saturday, October 1, 2016

স্বতঃস্ফূর্ততাই কিশোর আলোর শক্তি

এরাই কিশোর আলোর প্রাণ
বাচ্চাদের নিয়ে লেখা খুব কঠিন কাজ, অনেকটা জরুরি মুহূর্তে স্কচটেপের মাথা খুঁজে পাওয়ার মতো দুরূহ কর্ম। আর বাচ্চাদের নিয়ে পত্রিকা? এটা তো এভারেস্টের চূড়ায় উঠে স্কচটেপের মাথা খুঁজে পাওয়ার মতো কাজ। আমার কাছে তা-ই মনে হয়। সেই কঠিন কাজটা করছে...কে যে করছে, আমার কাছে পরিষ্কার নয়। কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হক প্রথম আলো নিয়ে ব্যস্ত, নির্বাহী সম্পাদক সিমু নাসের ফেসবুক খুললেই দেখি, সে আমেরিকার আকাশে সস্ত্রীক স্কাই ডাইভিং করছে বা ওই রকম কোনো অ্যাডভেঞ্চারে ব্যস্ত...(ফেসবুক খুলে কে কোথায় আছে, এটা দেখাই আমার ফেসবুকিং। আর কিছু পারি না) তারপর আর থাকে কে? আমাকে যে লেখার জন্য মাঝে মাঝে ফোন করে সে বাসার, সম্ভবত সহকারী সম্পাদক। তার সঙ্গে প্রায়ই আমার নিম্নরূপ কথাবার্তা হয়—
—হ্যালো, হাবীব ভাই?
—হ্যাঁ, কে বলছেন?
—আমি কিশোর আলোর বাসার।
—ও, কী খবর, বলো।
—কিশোর আলোর নেক্সট সংখ্যার জন্য একটা লেখা দেন।
—আচ্ছা দিব।
সঙ্গে সঙ্গে ওই পাশে হাসির শব্দ। মানে বাসারের হাসি শুনি।
—হাসলা কেন? আমি জিজ্ঞেস করি।
—না, বলামাত্র রাজি হয়ে গেলেন, তাই।
আবার কিছুদিন পর বাসারের ফোন। ওই একই প্যাকেজ নাটক!
—হ্যালো, হাবীব ভাই?
—হ্যাঁ, কে বলছেন?
—আমি কিশোর আলোর বাসার।
—ও, কী খবর, বলো।
—কিশোর আলোর নেক্সট সংখ্যার জন্য একটা কমিকস দেন।
—আচ্ছা দিব।
সঙ্গে সঙ্গে ওই পারে আবার হাসি। মানে বাসারের হাসি শুনি।
—হাসলা কেন?
—না, বলামাত্র রাজি হয়ে গেলেন, তাই। এভাবেই আমি কিশোর আলোতে গল্প আর কমিকস এঁকে চলেছি। তবে না, সম্পাদক আনিসুল হক বা নির্বাহী সম্পাদক সিমু নাসের ছাড়াও কিশোর আলোর টিম আসলে অনেক বড়। বেশির ভাগই কিশোর আর তরুণ এবং প্রায় সবাইকেই কমবেশি চিনি। সবাই তো আমার চোখের সামনেই বড় হয়েছে, ক্রমে ক্রমেই যেন এক-একজন মহিরুহ হয়ে উঠছে। নিজের বয়সও কম হলো না, প্রায় উনষাটের দিকে যাচ্ছি। সেভাবে চিন্তা করলে বলতে হয়, ওদের কেন চিনব না? পৃথিবীটা তো আসলে খুব বড় নয়। কিশোর আলোর নেপথ্যে রয়েছে এর খুদে পাঠক, লেখক ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। একবার কিশোর আলোর কার্যালয়ে তাদের এক অনুষ্ঠানে নিয়ে গিয়েছিল সিমু নাসের। গিয়ে দেখি, আক্ষরিক অর্থেই শ দুয়েক কিশোর–তরুণ বসে আছে। তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে মনে হলো, এ রকম স্বতঃস্ফূর্ত বাহিনী থাকলে এভারেস্টের চূড়ায় উঠে স্কচটেপের মাথা খুঁজে বের করা খুব একটা কঠিন ব্যাপার নয়। দেখতে দেখতে সেই কিশোর আলোর তিন বছর বয়স হয়ে গেল। তাকে অভিনন্দন। তার জন্মদিনের সংখ্যা বাড়বে—এটাই কামনা। বয়স থমকে যাবে কিন্তু জন্মদিনের সংখ্যা বাড়তে থাকবে, এটা যেন কখনো না হয়।
আহসান হাবীব: সম্পাদক, উন্মাদ।

No comments:

Post a Comment