হাতিরঝিলে ওয়াটার ট্যাক্সি নামানো হচ্ছে।
খবরটা শুনে ভালোই লাগল, কারণ এই শহরে যাতায়াত করা এখন রীতিমতো দুঃস্বপ্নে
পরিণত হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এটি সুসংবাদই বটে। খবরটি ভালো লাগার আরেকটি
কারণ হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে ঢাকার পরিবহনব্যবস্থায় নতুন একটি মাত্রা যুক্ত
হবে: নৌ যোগাযোগ। এই ঢাকা শহর নৌকার শহর হতে পারত। যে শহরের বুক চিরে এক
সময় ৪৩টি খালের অস্তিত্ব ছিল, সেখানে এখন এক হাতিরঝিল, গুলশান লেক ও
ধানমন্ডি লেক ছাড়া আরও কোনো পরিষ্কার জলাভূমির দেখা পাওয়া ভার। আর যেগুলো
আছে, সেগুলো ময়লা পানির ড্রেনে পরিণত হয়েছে। পাঠক, একবার কল্পনা করুন, আপনি
ধানমন্ডি লেক থেকে নৌকা বা ওয়াটার ট্যাক্সিতে উঠে গুলশান, বারিধারা
যাচ্ছেন। রমনা পার্ক থেকে নৌকায় উঠে মিরপুরে যাচ্ছেন। আবার ধরুন ধানমন্ডি
লেক ধরে হাতিরঝিলে যাচ্ছেন—ব্যাপারটা মোটেও কাল্পনিক নয়। কারণ, এই ১৯৮০-এর
দশকেও পান্থপথে খাল ছিল। এই খাল দিয়ে ধানমন্ডি লেকের সঙ্গে হাতিরঝিলকে
সংযুক্ত করা কঠিন কাজ ছিল না। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনায় তেমন কিছুর
অস্তিত্ব ছিল না। বেশি দিন আগের কথা নয়, গত শতকের ৩০-এর দশকে প্রখ্যাত কবি
বুদ্ধদেব বসুর ঢাকার স্মৃতি নিয়ে রচিত ‘আমার যৌবন’ গ্রন্থেও ঢাকাবাসীর এ
রকম নৌকায় চলাচলের বিবরণ পাওয়া যায়।
আমাদের দেশ নদীমাতৃক, রাজধানী ঢাকার চারপাশেই রয়েছে চারটি নদী। অথচ আমাদের যোগাযোগব্যবস্থা হয়ে গেছে সড়ককেন্দ্রিক। বছর খানেক আগে সরকার আশুলিয়া থেকে সদরঘাট পর্যন্ত ওয়াটার বাসের ব্যবস্থা করেছিল, কিন্তু তা বেশি দিন টেকেনি। আমাদের ব্যবস্থাপনা খুবই দুর্বল। আর তার সঙ্গে আছে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা, যার কারণে অনেক ভালো উদ্যোগও শেষমেশ বেশি দিন টেকে না। কথা হচ্ছে, নৌপথে চলাচল সড়কপথের চেয়ে অনেক বেশি আরামদায়ক। তাতে খরচও কম। ফলে ঢাকার আশপাশের নদীতে যদি ওয়াটার বাস বা ট্যাক্সির ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে মানুষের যাতায়াতে অনেক সুবিধা হতো। কিন্তু ঢাকার খালগুলো ভরাট করে ফেলা হয়েছে, অথবা সেগুলো বক্স কালভার্টে পরিণত করা হয়েছে। যখন যেটা মনে হয়েছে, আমরা সেটাই করেছি, পূর্বাপর ভাবিনি। আবার দখলদারদের কাছ থেকে খাল উদ্ধার করার চেষ্টা করা হলেও রাজনৈতিক কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফলে ঢাকার যাতায়াতব্যবস্থা হয়ে গেছে সড়ককেন্দ্রিক। অন্য মাধ্যম না থাকায় সড়কে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা একরকম অচল হয়ে গেছে।
তবে ভালো কথা হচ্ছে, শেষমেশ সরকারের বোধোদয় হয়েছে। গত সপ্তাহে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকার সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে আইন করা হবে। শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না, তার সঙ্গে পরিবহনব্যবস্থা বহুমুখী করা দরকার। মেট্রোরেলের কাজ হচ্ছে। ঢাকার চারদিকে চক্ররেলের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আর এর সঙ্গে সমন্বয় করে যদি ঢাকার হারানো নৌপথ উদ্ধার করা যায়, তাহলে তো কথাই নেই। আমরা চাইলে যে পারি, তার উদাহরণ হচ্ছে হাতিরঝিল। একটি পরিত্যক্ত জলাভূমি উন্নয়ন করে আজ এমন একটা মনোরম জায়গা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে মানুষ এখন একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারে। এই প্রকল্প যদি না হতো, তাহলে এটাও হয়তো এত দিনে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যেত। কিন্তু এখন আর সে সম্ভাবনা নেই। এভাবে সরকারকে আরও কিছু সাহসী উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে জনগণও তার সঙ্গে থাকবে। কারণ, যানজটের মধ্যে বসে থেকে আমাদের একদিকে যেমন কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে জীবনীশক্তি ক্ষয় হচ্ছে। ফলে প্রবৃদ্ধির চাকা আরও জোরে ঘোরাতে হলে নতুন ও সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থার বিকল্প নেই।
আমাদের দেশ নদীমাতৃক, রাজধানী ঢাকার চারপাশেই রয়েছে চারটি নদী। অথচ আমাদের যোগাযোগব্যবস্থা হয়ে গেছে সড়ককেন্দ্রিক। বছর খানেক আগে সরকার আশুলিয়া থেকে সদরঘাট পর্যন্ত ওয়াটার বাসের ব্যবস্থা করেছিল, কিন্তু তা বেশি দিন টেকেনি। আমাদের ব্যবস্থাপনা খুবই দুর্বল। আর তার সঙ্গে আছে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা, যার কারণে অনেক ভালো উদ্যোগও শেষমেশ বেশি দিন টেকে না। কথা হচ্ছে, নৌপথে চলাচল সড়কপথের চেয়ে অনেক বেশি আরামদায়ক। তাতে খরচও কম। ফলে ঢাকার আশপাশের নদীতে যদি ওয়াটার বাস বা ট্যাক্সির ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে মানুষের যাতায়াতে অনেক সুবিধা হতো। কিন্তু ঢাকার খালগুলো ভরাট করে ফেলা হয়েছে, অথবা সেগুলো বক্স কালভার্টে পরিণত করা হয়েছে। যখন যেটা মনে হয়েছে, আমরা সেটাই করেছি, পূর্বাপর ভাবিনি। আবার দখলদারদের কাছ থেকে খাল উদ্ধার করার চেষ্টা করা হলেও রাজনৈতিক কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফলে ঢাকার যাতায়াতব্যবস্থা হয়ে গেছে সড়ককেন্দ্রিক। অন্য মাধ্যম না থাকায় সড়কে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা একরকম অচল হয়ে গেছে।
তবে ভালো কথা হচ্ছে, শেষমেশ সরকারের বোধোদয় হয়েছে। গত সপ্তাহে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকার সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে আইন করা হবে। শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না, তার সঙ্গে পরিবহনব্যবস্থা বহুমুখী করা দরকার। মেট্রোরেলের কাজ হচ্ছে। ঢাকার চারদিকে চক্ররেলের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আর এর সঙ্গে সমন্বয় করে যদি ঢাকার হারানো নৌপথ উদ্ধার করা যায়, তাহলে তো কথাই নেই। আমরা চাইলে যে পারি, তার উদাহরণ হচ্ছে হাতিরঝিল। একটি পরিত্যক্ত জলাভূমি উন্নয়ন করে আজ এমন একটা মনোরম জায়গা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে মানুষ এখন একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারে। এই প্রকল্প যদি না হতো, তাহলে এটাও হয়তো এত দিনে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যেত। কিন্তু এখন আর সে সম্ভাবনা নেই। এভাবে সরকারকে আরও কিছু সাহসী উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে জনগণও তার সঙ্গে থাকবে। কারণ, যানজটের মধ্যে বসে থেকে আমাদের একদিকে যেমন কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে জীবনীশক্তি ক্ষয় হচ্ছে। ফলে প্রবৃদ্ধির চাকা আরও জোরে ঘোরাতে হলে নতুন ও সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থার বিকল্প নেই।
No comments:
Post a Comment