Thursday, October 6, 2016

আলোর সন্ধানে সৌম্য

হারিয়ে ফেলা পথটাই খুঁজে বেড়াচ্ছে সৌম্যর
চোখ? কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে
সতীর্থ মোসাদ্দেকের সঙ্গে। প্রথম আলো
পূজার মধ্যে ইংল্যান্ড সিরিজের খেলা পড়লেও সৌম্য সরকারের মধ্যে খুব একটা ভাবান্তর দেখা গেল না। কারণ হতে পারে এর যেকোনোটি— সৌম্যদের বাড়িতে এবার পূজার মণ্ডপ বসবে না। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবার তাঁর বড় ভাইয়ের উত্সাহই বেশি থাকে। কিন্তু এবার তারও তেমন উত্সাহ নেই। সৌম্যের কাছ থেকেই জানা গেল তথ্যটা। অথবা ফর্ম ভালো যাচ্ছে না বলেও হতে পারে। মনের মধ্যে শান্তি না থাকলে কিছুই কি আর ভালো লাগে! পূজায় বাড়ি গেলেও নিশ্চয়ই সবাই খেলা নিয়ে কথা বলবে। তাদের কি বলবেন সৌম্য? তার চেয়ে দূরে থাকাই ভালো। কাল মিরপুরের ইনডোরের দরজায় দাঁড়িয়ে যতই সৌম্যের সঙ্গে কথা এগোয়, ততই মনে হয়, দ্বিতীয়টিই বোধ হয় কারণ। একটু আগেই বাইরের নেট থেকে ব্যাটিং করে এসেছেন। প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ভেতরের নেটে যাওয়ার। ঘামে ভেজা মুখ, জার্সি লেপ্টে আছে শরীরে। ইনার গ্লাভস বদলাতে বদলাতে সৌম্য যা-ই বলেন, তাতেই মিশে থাকে ভালো ব্যাটিং করতে না পারার আক্ষেপ। পূজার ছুটি মার যাওয়া নিয়ে তাঁকে একটুও দুঃখিত মনে হলো না।
 ব্যাটিংয়ের সমস্যাটা কি ধরতে পারলেন?
সৌম্য: বুঝতে পারছি না। আমার তো এখন প্রত্যেকটা জিনিসেই সমস্যা মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে কিছুই ঠিক হচ্ছে না। খারাপ সময় যাচ্ছে তো, বোধ হয় সে জন্যই।
 জাতীয় দলে আসার পর তো এ রকম পরিস্থিতিতে এই প্রথম পড়লেন...
সৌম্য: সেটাই...দেখা যাক কী হয়। চেষ্টা তো করতে হবে।
 সমস্যাটা কি মানসিক নাকি টেকনিক্যাল? কিছু বুঝতে পারছেন?
সৌম্য: টেকনিক্যাল বোধ হয় না। মানসিকই হবে। ভালো একটা ইনিংস খেলতে পারলে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। সমস্যা হলো, সৌম্যও জানেন না সেই ভালো ইনিংস কবে ধরা দেবে ব্যাটে। প্রস্তুতি ম্যাচে ইমরুল কায়েস সেঞ্চুরি করেছেন। এর আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে তিন নম্বরে ভালো খেললেন সাব্বির রহমান। এ অবস্থায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অন্তত প্রথম ওয়ানডের টপ অর্ডারে সৌম্যর জায়গা হবে কি না, সেটা নিয়েও সংশয় আছে। আর সুযোগ পেলেও ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের সামনে কি পারবেন হারানো ফর্ম ফিরিয়ে আনতে?
সৌম্য: প্রস্তুতি ম্যাচে কিন্তু ওদের বোলাররা অত ভালো বল করেনি। এ রকম উইকেট থাকলে সিরিজেও ওরা ভালো বল করতে পারবে না। আমার তো মনে হয়, আমাদের কন্ডিশনে ইংল্যান্ডের চেয়ে আমাদের বোলাররাই বেশি ভালো। মিরপুরে কাল থেকে শুরু হওয়া সিরিজ নিয়ে সৌম্য বেশ আশাবাদী। এই সিরিজেও ভালো খেলে বড় দলের বিপক্ষে সাফল্যের ধারা ধরে রাখবে বাংলাদেশ দল। কিন্তু সেটার জন্য যে তাঁকেও কিছু দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে! নিজেকে ফিরে পাওয়ার তাড়নাটা তাই প্রতি মুহূর্তে অনুভব করছেন। কিন্তু কূল-কিনারা পাচ্ছেন না। প্রথম দিককার গুরু বিকেএসপির কোচ আখিনুরের সঙ্গে সলাপরামর্শ করেছেন। দলের সিনিয়রদের মধ্যে যাঁদের দুঃসময় কাটিয়ে আলোয় ফেরার অভিজ্ঞতা আছে, তাঁদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। পথের দেখা তবু মিলছে না।
সৌম্য: অনেকের সঙ্গেই কথা বলেছি। আমার বিকেএসপির কোচ, দলে বড় ভাইরা যাঁরা আছেন...সবার সঙ্গে। ওনারা ভালো ভালো পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সবাই সবার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বলেছেন। কারোটার সঙ্গে কারোটার মিল নেই। এসব শুনে আমি আরও সমস্যায় পড়ে যাই। কারটা শুনব! কার কথামতো কাজ করব?
সৌম্যর প্রশ্নটা নিজেকে উদ্দেশ করেই। এরপর নেটের দিকে হাঁটা শুরু করলেন ধীরপায়ে। যেন সব সমস্যার সমাধান ওই চতুষ্কোণে। সবার কথা শুনতে হবে, কিন্তু কাজটা করতে হবে মনের কথা শুনে। সৌম্যকেই খুঁজে বের করতে হবে সৌম্যের সমস্যা। সমাধানও।

No comments:

Post a Comment