Saturday, November 26, 2016

শিশুর নাম মেরকেল, পরিবারকে জার্মান ত্যাগের নির্দেশ

গত বছরের শেষ নাগাদ জার্মানির আশ্রয় শিবিরে এক সিরিয়ান দম্পতির কোল আলো করে আসে ফুটফুটে কন্যাসন্তান। ডয়েশবার্গের এক হাসপাতালে জন্ম নেয়া ওই শিশুর মা-বাবা মুসলিম হলেও জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের নামে সন্তানের নাম রাখেন। কারণ আর কিছুই নয়, জার্মানিতে আশ্রয় পেয়ে নতুন জীবন শুরুর আশা দেখা এ দম্পতি কৃতজ্ঞতা থেকে জার্মান চ্যান্সেলরের নামেই সন্তানের নাম রাখেন। জার্মান চ্যান্সেলর মেরকেলের সাহসীকতাতেই প্রায় ১০ লাখ শরণার্থী দেশটিতে আশ্রয় পেয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ এক বছর কন্যা শিশু মেরকেলকে নিয়ে দেশ ছাড়ার নির্দেশনা পেয়েছেন আল হামজা দম্পতি। তার সঙ্গে আরও অনেক শরণার্থীই দেশ ছাড়ার এ ধরনের নির্দেশনা পেয়েছেন। জার্মানির ফেডারেল অফিস থেকে আসা এক চিঠিতে হামজা দম্পতিকে বলা হয়, 'শরণার্থী হিসেবে জার্মানিতে বসবাসের জন্য করা তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।' ছোট্ট অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের বাবা মামুন আল হামজা বলেন,
'চিঠি পেয়ে রীতিমতো ভয় পেয়ে যান তারা।' চিঠিতে পরিবারটিকে ‘সম্পূরক সুরক্ষা’ পদ্ধতি নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। এটি একটি পৃথক আইনি ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিবাসীদের এক বছরের জন্য নির্বাসন দেয়া থেকে রক্ষা করা হয়। এদিকে শরণার্থীদের আবেদন খারিজ সম্পর্কে জার্মানির শরণার্থীবিষয়ক ফেডারেল অফিসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অনেক শরণার্থী পরিবার তৃতীয় একটি দেশের মধ্য দিয়ে সিরিয়া থেকে জার্মানিতে প্রবেশ করেছেন। আর এ কারণেই জার্মানিতে অবস্থান করার ক্ষেত্রে তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রথমে প্রবেশ করা নিরাপদ দেশেই আশ্রয় নিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। ১৯৫১ সালে জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক কনভেনশন অনুযায়ী অবশ্য সব সিরিয়ার নাগরিকদের অভিবাসীর মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহে জার্মানির একটি আদালত তার রায়ে বলেছেন, সিরিয়ার সব নাগরিককে শরণার্থী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যাবে না। এর বদলে তাদের জন্য ‘সম্পূরক সুরক্ষা’ দেয়া যেতে পারে। এই রায়ের ফলেই আবেদন খারিজের চিঠি পান ছোট্ট মেরকেলে বাবা-মা।

No comments:

Post a Comment