মহেশখালী প্রতিনিধিঃ মহেশখালীতে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ চিংড়ীঘের এর দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে ১ জন নিহত ও গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল ১৫ নভেম্বর মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলীর পশ্চিমে উপকূলীয় চিংড়ী প্রকল্প হেতালিয়া ঘোনা ও স্লুইচ গেইট এলাকায় এঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের ননাম মহি উদ্দিন (৩০) । সে হোয়ানক ইউনিয়নের মাঝের পাড়া গ্রামের মৃত মঞ্জুর আহমদ এর পুত্র। এঘটনায় দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ সহ আরো প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশংকা জনক।এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হোয়ানকের কেরুনতলী গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল করিম ও তার ভাই আকতার হামিদ গ্রুপের সাথে ফেরদৌস গ্রুপের চিংড়ী প্রকল্প দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের শত্রুতা চলে আসছে। এর জের ধরে ইতিপূর্বেও প্রায় সময় দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছিল। এসব ঘটনায় অনেক লোক আহত ও বেশ কয়েক জন নিহত হয়েছে। সর্বশেষ হেতালিয়া মৌজার কয়েকটি চিংড়ী প্রকল্পসহ স্লুইচ গেইটে ফেরদৌস পক্ষ দখলে ছিল বলে জানা গেছে। গতকাল ফেরদৌস পক্ষকে বেদখল করতে আকতার হামিদ গ্রুপ হালা চালালে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের শুরু হয়। এতে দুপক্ষের একাধিক ব্যক্তি গুরুত্বর আহত হয়। আহতদের মধ্যে ৬ জনের নাম জানা গেছে। এরা হচ্ছে, ফেরদৌস পক্ষের শাহাব উদ্দিন (২৬) ,নুরুল হক প্রকাশ চুরুপোয়া (৩৫) ,লোকমান (২২) ,নেজাম (২০) এবং অপর পক্ষের মহিউদ্দিন (৩০) , রাশেদ (২৭) । এদের মধ্যে শাহাব উদ্দিন ও নুরুল হকের অবস্থা আশংকাজনক বলেও প্রাপ্ত খবরে জানা যায়। আহতরা বিভিন্ন মামলার আসামী হওয়ায় হাসপাতালে না এনে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসাধীন আছে বলে নাম প্রকাশ না করা একাধিক ব্যক্তি জানায়। মহেশখালী হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৫ নভেম্বর দুপুর ০১ টার সময় গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত আহত অবস্থায় স্থানীয় কালালিয়াকাটা গ্রামের হোসেন আলীর পুত্র নুরুল হক (৪৫) ও মোহরাকাটা গ্রামের আব্দুল হামিদের পুত্র সাহাব উদ্দীন (২৮) কে নিয়ে আসে। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। আহতরা ফেরদৌছ গ্রুপের বলে আহতদের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়।
দিকে গুলিতে মারাত্নক আহত মহিউদ্দিন (৩০) চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের মাঝের পাড়া গ্রামের মৃত মঞ্জুর আহমদ এর পুত্র। নিহতের বিষয়ে নিশ্চিত হতে মহি উদ্দিনের পারিবারিক সুত্রের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার চাচাত ভাই নেজাম উদ্দিন এ প্রতিনিধিকে জানান, মহি উদ্দিন রাত সাড়ে ৮টায় চমেক হাসপাতালে মারা গেছে। সে বিরোধ পূর্ণ চিংড়ী প্রজেক্ট এলাকায় খালে মাছ ধরতে গিয়ে দুপক্ষের গুলি বিনিময়ের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছিল। এরিপোর্ট লেখাকালীন তার লাশ চমেক হাসপাতালে রয়েছে।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ বাবুল চন্দ্র বনিক জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি বর্তমানে পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ বাবুল চন্দ্র বনিক জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি বর্তমানে পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।

No comments:
Post a Comment