Sunday, November 20, 2016

কক্সবাজারের মহেশখালীতে পৃথক ঘটনায় দু‘জন আহত

স.ম.ইকবাল বাহার চৌধুরীঃ দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে পৃথক পৃথক ঘটনায় দু‘জন আহত হয়েছে। জানা যায়,  মাতারবাড়ি ইউনিয়নের ওয়াপদার পাড়া গ্রামে গত কাল ভোররাতে আপন মামার হাতে ভাগনি মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছে। জানা যায়, স্থানীয় নুর বকসুর স্ত্রী সাজেদা বেমগ ডায়াবেটিস রোগি হওয়ার প্রতিদিনের ন্যায় গত কাল রবিবার ভোররাতে হাঠতে বের হয়। ঐ সময় তারই আপন মামা ওয়াজ উদ্দিন ও তার ছেলে জালাল আহমদ, ছালে আহমদ ও রুবেল সর্বপিতা ওয়াজ উদ্দিন অতর্কিতভাবে সাজেদাকে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে মাথায় আঘাত করলে অনেকটা অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। আহত সাজেদার শোরচিৎকার শুনে প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসলে ঐ সময় ওয়াজ উদ্দিনের স্ত্রী মোহেছেনা বেগম ও পুত্রবধু রোকেয়ার হাতে লাঠিসোটা দেখতে পান বলে জানান এক প্রত্যক্ষদর্শী। স্থানীয় আবুল খায়ের এর পুত্র আলা উদ্দিন মাথায় মারাত্মক যখমি আঘাত প্রাপ্ত সাজেদাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসলে ওয়াজ উদ্দিনের হাতে থাকা লোহার রড় দিয়ে আলা উদ্দিনের পিঠে আঘাত করেন বলে জানান আহত আলা উদ্দিন। ঘটনার সূত্রপাত বিষয়ে জানতে চাইলে সাজেদার পিতা কবির হোছাইন জানান, বসত ভিটার জায়গা নিয়ে ওয়াজ উদ্দিনের সাথে বিরুধ চলছে তার।  তবে কোন কারণ ছাড়াই তার মেয়ে সাজেদা বেগমকে এভাবে আঘাত করার বিষয়টি বুঝে উঠতে পারছেনা কোনভাবেই। গুরুতর আহত সাজেদাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে পারিবারিকসূত্রে জানা যায়। ঘটনার বিষয়ে ওয়াজ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতের ১৪৪ ধারা থাকা সত্বেও প্রতিপক্ষের লোকজন তার বসত ভিটায় হামলা চলালে দু পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। অন্যদিকে পূর্বশক্রুতার জেরধরে শাপলাপুর দিনেশপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত-১, এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ যে কোন মুহুর্তে অপ্রতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আহত পরিবারপক্ষ জানান, পুর্বশক্রুতার জেরধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্রসস্ত্র সজ্জিত হয়ে ২০ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মহেশখালীর শীর্ষ সন্ত্রাসী জসিম উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন, ইয়ার মোহাম্মদ ও তাদের সহযোগী আনোয়ারা বেগম, রুজিনা বেগম এবং বুড়ি’র নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দিনেশপুর ৯নং ওয়ার্ডের মোস্তাক আহমদের পুত্র জহিরুল ইসলাম কে লোহার রড, দা, কিরিচ ও অস্ত্রের বার্টের আঘাতে ক্ষত বিক্ষত করে মাটিতে ফেলে রাখে। তার কাছে থাকা গলার স্বর্ণের চেইন, মোবাইল সেট, শার্টের পকেট টাকা চিনিয়ে নিয়েছে। জহিরুলের শোর চিৎকারে এলাকাবসিঁরা এগিয়ে এসে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আহত জহিরুল ইসলামের অবস্থা আশংঙ্কাজনক হওয়ায় মহেশখালী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। আহত জহিরুল ইসলামের ক্ষত স্থান থানা পুলিশ মহেশখালী হাসপাতালে দেখতে গিয়ে ছিলেন। উপরিল্লোখিত সন্ত্রাসীরা ইয়াবা-হিরোইন, পাহাড়ে অস্ত্র তৈরী করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে, পাহাড় থেকে গাছ কেটেঁ পাচার, নিয়মিত সড়ক ডাকাতি সহ নানান অপকর্ম করে থাকে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এ ব্যাপারে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ বাবুল চন্দ্র বণিক জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই সন্ত্রাসীদের কে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

No comments:

Post a Comment